কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

মুরাদনগরে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

মানবজমিন মুরাদনগর প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

মুরাদনগর উপজেলার টনকি ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। কুমিল্লার সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান উর্মির ৮নং আমলি আদালতে গত বৃহস্পতিবার বিকালে এ মামলা দায়ের করেন টনকি গ্রামের আব্দুল হালিম মোল্লার ছেলে কাউছার আলম (৩৭)। ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পিবিআই কুমিল্লাকে নির্দেশ দেন। মামলার আসামিরা হলেন, টনকি গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে জাকির হোসেন চেয়ারম্যান (৪৫) ও তার ভাই তৌফিকুল ইসলাম ওরফে আমির (৪০), মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে আল-আমিন (৩৫), সফিকুল ইসলামের ছেলে ইলিয়াছ (২৫), হানিফ মিয়ার ছেলে ফাহাদ (২২), মৃত আবুল কাশেমের ছেলে শরিফ মিয়া (৪০), মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আলী আজ্জম (৪৫), কমলপুর গ্রামের হান্ডু মিয়ার ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৩৫) ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টনকি গ্রামের আব্দুল হালিম মোল্লার ছেলে কাউছার আলম দীর্ঘদিন যাবত বালু ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছে। সে ব্যবসা পরিচালনা করতে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের কাছে যান। চেয়ারম্যান যথাযথ প্রক্রিয়ায় ট্রেড লাইসেন্স না দিয়ে বালু ব্যবসা করতে হলে এককালীন দুই লাখ টাকা ও প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে জানায় তাকে। চাঁদা ছাড়া বালু ব্যবসা অব্যাহত রাখলে কাউছার আলমকে হত্যা করে লাশ গুম করারও হুমকি প্রদর্শন করেন। এ অবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স না নিয়ে তিনি চলে আসেন। ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে বালু আনা-নেয়ার পথে চেয়ারম্যানের লোকজন বাধা দেন। পরবর্তীতে গত ৩রা আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টায় বালু বিক্রয়ের হিসাব করাকালে ওই আসামিরা চাইনিজ কুড়াল, দা, ছেনি, হকিস্টিক ও এসএস পাইপসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে পরিকল্পিতভাবে তাকেসহ উপস্থিত লোকজনকে ঘিরে ফেলে। কারণ জানতে চাইলে দাবিকৃত দুই লাখ টাকা দিতে বলে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা কাউছার আলম ও উপস্থিত লোকজনকে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। ২২নং টনকি ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে গত ৯ই জুলাই সংবাদ সম্মেলন করি এবং বিভিন্ন দপ্তরে তার দুর্নীতির ব্যাখ্যা দিয়ে অভিযোগ দেই। তিনি বলেন, প্রতি মাসে মাসিক সভা না করে মনগড়া সিদ্ধান্ত নেয় চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। ৬-৭ মাস পর পর কোনো কিছু না লিখেই মেম্বারদের স্বাক্ষর নিয়ে প্রকল্প পাস করেন তিনি। ইতিমধ্যে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন প্রকার ভাতাভোগীদের কাছ থেকেও জনপ্রতি তিনশ’ টাকা নেয় সে। গত নয় বছরে ন্যায্যমূল্যের চাল বিতরণ, অবৈধ ড্রেজার মেশিন, বালু মহাল, সরকারি জায়গা দখল ও ইটভাটাসহ নানান অনিয়মে টনকি ইউনিয়নকে নরক রাজ্য বানিয়েছেন চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত টনকি ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, মামলা করেছে শুনেছি, কিন্তু কপি হাতে পাইনি। প্রতিহিংসামূলক ভাবে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এগুলো করছে।  মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ বলেন, চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। আদালত কোনো প্রকার সহযোগিতা চাইলে করা হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও