সংগৃহীত ছবি
ইন্টারনেটে প্রথম কী সার্চ দিয়েছিলেন জ্যাক মা! জানুন তার অজানা তথ্যগুলো
আপডেট: ০১ জুলাই ২০১৭, ১৯:২৪
(প্রিয়.কম) দশক দুয়েক আগেও চীনা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা যখন কিছু বলার চেষ্টা করতেন, তখন কেউ তাতে কান দেননি। অথচ এখন হাজারো লোক তন্ময় হয়ে তার কথা শোনেন; শ্রোতাদের মুখে মুখে সেই কথা ঘুরে ফেরে। জানতে চান জ্যাক মা সম্পর্কে।
প্রিয়'র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হয়েছে জ্যাক মা সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য-
চীনের চেচিয়াং প্রদেশের হাংঝু শহরে ১৯৬৪ সালের ১৫ অক্টোবর জন্ম হয় জ্যাক মা’র। তিন ভাই বোনের মধ্যে জ্যাক মা’র অবস্থান দ্বিতীয়। জ্যাক মা যখন ছোট তখন তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব ভাল ছিল না।
মা এর বাবা-মা গান গেয়ে বেড়াতেন। তার দাদা ছিলেন চীনের জাতীয়তাবাদী দলের একজন স্থানীয় নেতা। চেয়ারম্যান মাও জাতীয়তাবাদী দলকে হারিয়ে দেবার পরে মা এর দাদাকে কম্যুনিস্ট পার্টির শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
জানা যায়, তরুণ অবস্থায় জ্যাক মা ছিলেন চিকন। তবে তিনি কখনই তিনি তার ক্লাসমেটের সঙ্গে মারামারিতে ভয় পেতেন না। এ বিষয়ে ‘আলাবাবা’ শীর্ষক এক বইতে জ্যাক মা বলেছেন, আমি কখনই আমার প্রতিদন্দ্বিকে ভয় পেতাম না, সে যতই বড় হোক না কেন।
জ্যাক মা’র অদ্ভূদ একটি শখ রয়েছে। আর সেটি হলো ঝিঁঝিঁ পোকা সংগ্রহ করা এবং সেগুলোর মধ্যে মারামারি লাগিয়ে দেওয়া। জানা যায়, ছোটবেলার এই শখটি এখনো রয়েছে জ্যাক মার।
১৯৭২ সালের দিক থেকে অর্থ উপার্জন করতে শুরু করেন জ্যাক মা। তিনি বয়সে অনেক ছোট ছিলেন। সেই সময় তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে শহরের হোটেলগুলোতে যেতেন। সেখানে পর্যটকদের গাইড হিসেবে কাজ করতেন তিনি। এসময় এক পর্যটকের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে যিনি তার নাম দেন জ্যাক।
ছাত্র হিসেবে জ্যাক মা মোটেও ভাল ছিলেন না। জাতীয় কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় তিনি দুইবার ফেল করেন। তৃতীয়বার পাস করার পরে তিনি হুয়াংঝু টিচার্স ইন্সটিটিউট এ ভর্তি হবার সুযোগ পান। ১৯৮৮ সালে তিনি গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। সেই সময় থেকে তিনি কাজ খুঁজতে থাকেন।
কিন্তু কোনো স্থানে বেশিদিন টিকতে পারেননি তিনি। প্রায় ডজনখানেক চাকরি থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এমনকি বর্তমান সময়কার বিখ্যাত ব্রান্ড কেএফসি থেকেও। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে চাকরি পান। আর এই চাকরি করে মাসে ১২ ডলার আয় করতেন জ্যাক মা।
১৯৯৫ সালের কথা। সেই সময়ে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন জ্যাক মা। কম্পিউটার সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না তার। কিন্তু ইন্টারনেট বিষয়টি তাকে ব্যাপকভাবে বিমোহিত করেছিল।
তিনি ইন্টারনেটে প্রথম বিয়ার লিখে সার্চ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি অবাক হয়েছিলেন সার্চ রেজাল্টে কোনো চাইনিজ বিয়ারের নাম না দেখে। এরপর থেকে তার মাথায় খেলতে থাকে ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট একটি কোম্পানি নির্মাণের বিষয়ে।
তিনি উদ্যোগ নেন কিছু করার। কিন্তু তার প্রথম দুইটি উদ্যোগই ভেস্তে যায়। এর চার বছর পর তিনি তার ১৭ জন বন্ধুকে তার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান এবং তাদের তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে বলেন। আর ওই কোম্পানির নাম দেন আলিবাবা।
আলিবাবা চালু হওয়ার পর আর পেছন ফিরে দেখতে হয়নি জ্যাক মা কে। কারণ আলিবাবা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হওয়া শুরু করেছে তখন। ১৯৯৯ সালে জ্যাক মার আলিবাবা আলোর মুখ দেখতে শুরু করে। বৃদ্ধি পেতে থাকে এর অর্থের পরিমাণ।
২০০৫ সালে আলিবাবাতে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ইয়াহু। ইয়াহুর এই বিনিয়োগ ছিল আলিবাবার জন্য বিশাল কিছু। কারণ এই প্রথম তারা চীনের ই-বের সঙ্গে লড়াই করার সাহস পায়। সবশেষ ১০ বিলিয়ন অর্থ আয় করে জয় আলিবাবারই হয়।
২০১৩ সালে আলিবাবার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে সরে দাঁড়ান জ্যাক মা। তিনি অধিষ্ঠিত হন প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে।
এসময় সিএনবিসি নামে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আজ আমরা যা পেয়েছি তা অর্থ নয়। আমরা মানুষের বিশ্বাস পেয়েছি।
এভাবে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে আজকের ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি সমমূল্যের এই প্রতিষ্ঠানটি। আর চিকন গড়নের ওই বালকটিও নাম পেয়েছেন চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে।
সূত্র- বিজনেস ইনসাইডার, ইউএস টুডে, ৬০ মিনিটস
প্রিয় টেক/মিজান