দুই মাস বয়সী বাছুর অনেক সময় এই রোগে আক্রান্ত হয়। ছবি: সংগৃহীত
বাদল দিনের ‘বাদলা’ রোগ
আপডেট: ০১ মে ২০১৮, ১৮:৪৭
(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ কৃষি নির্ভরশীল দেশ। এদেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষি (গবাদি পশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, মাছ চাষ) কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। আর এই কৃষি কাজের ওপর দেশের অর্থনীতি ৯০% নির্ভরশীল। গবাদি পশুরও রোগ বালাই হয়, যা কৃষকদের অনেক দুর্ভাবনার বিষয়। বিশেষ করে এই বর্ষা মৌসুমে, যখন দিন-রাতের অধিকাংশ সময়ে বর্ষণ হয়।
এই সময়ে ‘বাদলা’ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। তাই জেনে নিন এই রোগ সম্পর্কে, যা আমাদের দেশের গৃহপালিত পশুর হরহামেশা হয়ে থাকে।
বাদলা একটি রোগের নাম, যা সাধারণত ৬ মাস থেকে ২.৫ বছর বয়স পর্যন্ত গবাদি পশুর হয়ে থাকে। তবে অনেক সময় ২ মাস বয়সী বাছুরেরও এই রোগ হতে পারে।
রোগের কারণ
ক্লোস্ট্রিডিয়াম চোভিয়ায় নামক একপ্রকার ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এই রোগ হয়। এই জীবাণু মাটিতে বেশি থাকে এবং অনেক দিন পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে।
রোগের লক্ষণ
১. ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ বেশি হলে পশু হঠাৎ করে কোনো কারন ছাড়াই মারা যেতে পারে।
২. জ্বর হবে, তাপমাত্রা ১০৫-১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
৩. আক্রান্ত স্থান ফুলে উঠবে, গরম হবে আর ব্যথা বাড়বে। ধীরে ধীরে আক্রান্ত জায়গা বাড়তে থাকবে।
৪. মাংসপেশী ফুলে উঠবে এবং ফোলা জায়গায় চাপ দিলে পচপচ বা পুরপুর আওয়াজ হবে।
৫. আক্রান্ত স্থান কালো হয়ে যাবে এবং আক্রান্ত জায়গা কাটলে পচা ডিমের মতো দুর্গন্ধ ছড়াবে।
৬. শেষ পর্যায়ে শরীরের তাপমাত্রা কমে আসবে, খাবারে অরুচি বাড়বে, হজম শক্তি কমে যাবে এবং পশু মারা যাবে।
প্রতিরোধ ব্যাবস্থা
১. পশুকে ভ্যাক্সিন দিতে হবে। প্রতি ৬ মাস পর পর বিকিউ ভ্যাকসিন মাংসে ইনজেকশনের মাধ্যমে দিতে হবে। আক্রান্ত বাছুরকে ভ্যাকসিন দিলে কাজ হবে না। কারণ ভ্যাক্সিন কার্যকর হতে ১৪-১৫ দিন সময় লাগে।
২. আক্রান্ত পশু যদি মারা যায়, তাহলে তাকে খোলা জায়গায় না ফেলে আবদ্ধ জায়গায় পুতে ফেলতে হবে। আর পশুর থাকার জায়গায় মাঝে মাঝে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে।
৩. পশুকে শুকনো জায়গায় রাখতে হবে।
৪. পশুর ঘর পর্যাপ্ত আলো-বাতাস যুক্ত হতে হবে।
৫. মশা, পোকা-মাকড়, সাপ, বিচ্ছুর কামড় থেকে পশুকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
ভ্যাকসিনের অকার্যকারিতা
১. ভুল ডোজে ওষুধ প্রয়োগ।
২. ভ্যাক্সিনেশন করার ভুল প্রক্রিয়া।
৩. ডেট এক্সপায়ার্ড ভ্যাক্সিন ব্যবহার।
৪. তাপমাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা।
৫. যে পাত্রে ভ্যাক্সিন নিয়ে আসা হয়, তা জীবাণুনাশক না হওয়া।
চিকিৎসা ব্যবস্থা
১. আশপাশে অবস্থিত রেজিস্টার্ড পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
২. এন্টিবায়োটিক বা ক্রিস্টালাইন পেনিসিলিন ইনজেকশন দেওয়া। আক্রান্ত স্থানে দিনে ২ বার করে ৪-৫ দিন দিতে হবে।
৩. সালফার গ্রুপের ঔষধ ইনজেকশন দিতে হবে বা খাওয়াতে হবে। ইনজেকশন দিলে প্রথম দিনে আক্রান্ত জায়গায় ৪০-৫০ সিসি দিতে হবে। তারপরের দিন থেকে ৩০ সিসি করে ৪-৫ দিন দিতে হবে।
৪. এন্টিহিস্টামিনিক ড্রাগ দিতে হবে।
৫. বরিক পাউডার বা খাবার লবণ গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে দিনে ৫/৬ বার সেক দিতে হবে ভালো না হওয়া পর্যন্ত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই রোগের ক্ষেত্রে শুধু ভ্যাক্সিনই সবচেয়ে ভালো কাজ করে, আর ভেতর থেকে রোগকে নির্মূল করে। তাই আপনার পশুকে নিয়মিত ভ্যাক্সিন দিন আর রোগমুক্ত পশুপালন করুন।
প্রিয় লাইফ/রিমন