ম্যাচ শেষে মার্টিন গাপটিলকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন জিমি নিশাম। ছবি: সংগৃহীত

সুপার ওভারের উত্তেজনায় মারা যান নিশামের কোচ

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০১৯, ১৯:৪২
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০১৯, ১৯:৪২

(প্রিয়.কম) দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরে। ৪১ বছর অপেক্ষার পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ইংল্যান্ড। গেল ১৪ জুলাই ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ আসরের ফাইনালে সুপার ওভারের রোমাঞ্চে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের স্বাদ পায় ইংলিশরা। কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ এই ফাইনালই কেড়ে নিল নিউজিল্যান্ড তারকা জিমি নিশামের কোচের জীবন।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৫ রান। কিন্তু ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম দুই বলে কোনো রান নিতে পারেননি বেন স্টোকস। তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান স্টোকস। তাতে জয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় ৩ বলে ৯ রান। ওভারের চতুর্থ বলটি লং অন দিয়ে খেলেন স্টোকস। সেখান থেকে বল কুড়িয়ে উইকেটরক্ষকের উদ্দেশে থ্রো করেন মার্টিন গাপটিল।

ওই সময় দ্বিতীয় রানের জন্য ছুটছিলেন স্টোকস। এদিকে গাপটিলের ছোঁড়া বলটি উইকেটরক্ষক পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে দ্বিতীয় রান নিতে আসা স্টোকসের ব্যাটে লেগে সঙ্গে সঙ্গে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়। ওভার-থ্রো মিলিয়ে ইংল্যান্ডকে ৬ রান উপহার দেন আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা।

৬ রানের জোরে নিউজিল্যান্ডের সমান স্কোর করতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। এরপর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় সুপার ওভারে। কেবল তাই নয়। সুপার ওভারও অবশ্য টাই হয় ম্যাচটি। শেষ পর্যন্ত বাউন্ডারি সংখ্যার বিচারে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। কিন্তু সুপার ওভারের রুদ্ধশ্বাস লড়াই সহ্য করতে না পেরে মারা যান জিমি নিশামের হাই স্কুল কোচ ডেভিড জেমস গর্ডন।

কোচের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন নিশাম নিজেই। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক টুইট বার্তায় এই কিউই তারকা লেখেন, ‘ডেভ গর্ডন, আমার হাইস্কুল শিক্ষক, আমার কোচ ও বন্ধু। খেলার প্রতি তোমার ভালোবাসা সংক্রামক ছিল। মূলত তাদের কাছে, যাদের সৌভাগ্য হয়েছিল তোমার কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার ও তোমার অধীনে খেলার। এমন এক ম্যাচের শেষ পর্যন্ত তুমি ছিলে, এটাই আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার। আশা করছি, তোমাকে গর্বিত করতে পেরেছি আমি। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। তোমার আত্মার শান্তি কামনা করি।’

গর্ডনের মৃত্যুর সঠিক সময় নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে লিওনি। তার ভাষ্য, ‘শেষ ওভারের সময় একজন নার্স এসে বললো যে বাবার শ্বাসপ্রশ্বাস পরিবর্তিত হচ্ছে। আপনি বিশ্বাস করবেন কি-না জানি না, আমার মনে হয় নিশাম যখন ছক্কাটি হাঁকাল, তখনই বাবা তার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।’

অকল্যান্ড হাইস্কুলের টিচার হিসেবে দীর্ঘ ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা গর্ডন, শুধুমাত্র জিমি নিশামেরই কোচ ছিলেন না। বিশ্বকাপ দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ লকি ফার্গুসনসহ আরও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে ক্রিকেটের প্রথম পাঠটাও দিয়েছিলেন গর্ডন।

প্রিয় খেলা/রুহুল

আরো পড়ুন