ফাতেমা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

শিকলে বেঁধে নির্যাতন, স্বামী-সতীনসহ আটক ৪

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ মে ২০১৯, ১০:২৫
আপডেট: ১১ মে ২০১৯, ১০:২৫

(প্রিয়.কম) নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে ফাতেমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম, সতীন নার্গিস আক্তার, শ্বশুর মনসুর আলী ও ননদ ফরিদা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. মাজহারুল করিম বলেন, শিকলবন্দী করে গৃহবধূ ফাতেমাকে নির্যাতন করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার রাতে কলমাকান্দা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ সময় তার স্বামী ও সতীনসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

১০ মে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ গ্রাম থেকে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ফাতেমাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ গ্রামের মনসুর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের প্রথম স্ত্রী থাকার পরও একই গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে ফাতেমাকে বিয়ে করে দ্বিতীয় বউ হিসেবে ঘরে তোলেন। কিন্তু ফাতেমাকে কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি জাহাঙ্গীরের প্রথম স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

যদিও গত তিন মাস আগে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে ফাতেমার সঙ্গে জাহাঙ্গীরের বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ফাতেমা তার বাবার বাড়িতে চলে যায়।

এদিকে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর হঠাৎ তিন-চারদিন আগে জাহাঙ্গীর ফের ফাতেমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর পরপরই তার ওপর শুরু হয় জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের লোকজনের অমানবিক নির্যাতন। একপর্যায়ে ফাতেমাকে লোহার শিকলে বেঁধে রেখে নির্যাতন করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন। তবে ঠিক কি কারণে এই নির্যাতন তা জানা যায়নি।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

আরো পড়ুন