ছবি সংগৃহীত

রাজধানীতেও বাস ভাড়া বাড়ল

badol khan
লেখক
প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫৬
আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫৬

রাজধানীর ভেতরে ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন মালিকরা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজধানীর ভেতরে চলাচল করা বাসের ভাড়া না বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিজেদের সিদ্ধান্তেই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও গাবতলী রুটে ভাড়া বেড়েছে। গাজীপুর, উত্তরা রুটে রোববার পর্যন্ত ভাড়া বাড়েনি। ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লা বলেন, কোনো বাসেই প্রকৃত অর্থে ভাড়া বাড়েনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ডিজেলচালিত বাসের খরচ আগের চেয়ে দ্বিগুণ হওয়ার কারণে এসব বাসে আগের নির্ধারিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আগে এসব বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নেওয়া হতো। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মিরপুর-মতিঝিল ও মিরপুর-গুলিস্তান রুটের এনা ট্রান্সপোর্ট, বিকল্প পরিবহন, চয়েস ট্রান্সপোর্ট, ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্ট, সিল্ক সিটি, শিকড় পরিবহনে ভাড়া বেড়েছে দুই টাকা থেকে চার টাকা। এনা ট্রান্সপোর্টে আগে মিরপুর-গুলিস্তানের ভাড়া ২৩ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে ২৬ টাকা। চয়েস ট্রান্সপোর্টে একই দূরত্বে আগের ২০ টাকা নেওয়া হলেও এখন নেওয়া হচ্ছে ২২ টাকা। বিকল্প পরিবহনে ২২ টাকার ভাড়া বেড়ে হয়েছে ২৪ টাকা। অন্যদিকে মোহাম্মদপুর-মতিঝিল-যাত্রবাড়ী রুটে চলাচল করা ৩৬/বি বাসে স্টপেজ প্রতি ১ টাকা থেকে ২ টাকা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। গাবতলী থেকে ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচল করা ২২নং লোকাল বাসের ভাড়া নিয়ে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা। ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, এক বাসে গাবতলী থেকে ফার্মগেটের ভাড়া ১০ টাকা, আবার অন্য বাসে ১২ টাকা, কোনো বাসে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। বেশি ভাড়া দাবি করা বাসগুলো ডিজেলচালিত বলে দাবি করে বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা আরও অভিযোগ করেন, সিটিং সার্ভিসের অজুহাতে আরও আগে থেকেই মিরপুর থেকে উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর রুটে চলাচল করা বেঙ্গল পরিবহন, দেশবাংলা পরিবহন, কনক পরিবহন এবং রূপকথা ট্রান্সপোর্টে নির্ধারিত ভাড়ার প্রায় দেড়গুণ আদায় করা হচ্ছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কনক পরিবহনে সর্বনিম্ন ১২ টাকার নিচে ভাড়া নেই। বেঙ্গল পরিবহন, দেশবাংলা পরিবহন, ডিসকভারি সার্ভিস প্রভৃতি বাসে ১৫ টাকার নিচে ভাড়া নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, এসব তথাকথিত সিটিং বাসে ইঞ্জিন কভার, টুলবক্সসহ অতিরিক্ত আসন সংযোজন করে যাত্রীদের অমানবিকভাবে বসতে বাধ্য করা হচ্ছে। কোনো যাত্রী টুলবক্সে কিংবা ইঞ্জিন কভারে আসন দেওয়ার প্রতিবাদ করলে তাকে হেনস্তাও করা হচ্ছে। যাত্রীরা জানান, মিরপুর রুটে মিরপুর-১২, ১১ ও ১০ নম্বর সেকশন থেকে যাত্রী তোলার পর যাত্রী যে দূরত্বেই যান না কেন, ফার্মগেটের ভাড়া দিতে হয়। মিরপুর ১০ নম্বর গোল চক্কর থেকে মাত্র দুই-দেড় কিলোমিটার দূরে কাজীপাড়ায় গেলেও দিতে হয় আরও সাত-আট কিলোমিটার দূরত্বের ফার্মগেটের ভাড়া। ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, মিরপুর ১২ নম্বর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত আগের ভাড়া অনুযায়ী ভাড়া দাঁড়ায় ২৭ টাকা ২০ পয়সা। তার মালিকানাধীন এনা ট্রান্সপোর্টে নেওয়া হতো ২৩ টাকা। তার এই বাস সার্ভিসটি ডিজেলচালিত এবং ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে প্রতি মাসে সার্ভিস পরিচালনায় বাড়তি প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় আগে যে চার টাকা ভাড়া কম নেওয়া হতো, এখন সেখান থেকে তিন টাকা যোগ করে নেওয়া হচ্ছে। তিন টাকা বেশি নেওয়ার পরও এই ভাড়া সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১ টাকা ২০ পয়সা কম বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এ মুহূর্তে রাজধানীতে চলাচল করা ৫০ শতাংশ বাস ডিজেলচালিত। এর আগে চার দফা ডিজেলের দাম বাড়লেও এসব বাসে ভাড়া বাড়েনি। বাড়তি ব্যয় মেটাতে প্রায় ৪০টি সার্ভিস এখন পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান অবস��থা চলতে থাকলে রাজধানীতে অচিরেই আরও পরিবহন বন্ধ হবে এবং গণপরিবহন সংকট তীব্র হবে বলে তিনি মনে করেন।