ছবি সংগৃহীত
দই এর নানা দিক
আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৩, ০৫:১৪
দই বা দধি একটি দুগ্ধজাতীয় পুষ্টিকর খাবার। দুধে ব্যাক্টরীয় গাঁজনের ফলে দই তৈরি হয়। দুধের ল্যাক্টোজের গাঁজনের মাধ্যমে ল্যাক্টিক অ্যাসিড তৈরি হয় যা দুধকে দইয়ে পরিণত করে এবং অন্যরকম স্বাদ ও গন্ধ প্রদান করে। দই সারা বিশ্বে জনপ্রিয় একটি খাবার। মানুষ ৪৫০০ বছর আগে থেকে দই বানানো ও খাওয়া শুরু করেছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। বেদ ও উপনিষদে দইয়ের ব্যবহারের কথা উল্লিখিত রয়েছে। আবার দই বিষয়ে এই তথ্যও পাওয়া যায় যে, খ্রিষ্টের জন্মের ৬০০০ বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যের নিওলিথিক গোষ্ঠীর মানুষরা দই তৈরি করতে জানত এবং তাদের খাদ্য তালিকায় দই থাকত। প্রাচীন মিশর, রোম ও গ্রীসেও দই ব্যবহারের প্রচলন ছিল। ধারণা করা হয়, ভারতীয় উপমহাদেশে দইয়ের প্রচলন পারস্য থেকে এসেছে। দই যখন থেকে এবং যেখান থেকেই আসুক না কেন, তা বর্তমানে বাঙালির পছন্দের খাদ্যতালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বাঙালির খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন দই থাকে না। অথচ দই হলো পুষ্টির আধার! তবে দই সম্পর্কে রয়েছে বেশ কিছু ভুল ধারণা। যেমন - দই খেলে অ্যাসিড হয়, মাংস খাওয়ার পর দই খাওয়া উচিত নয়, দই খেলে ঠাণ্ডা লাগে বা গলা নষ্ট হয়। আসলে দই খেলে অ্যাসিড হয় না। কারণ দই নিজেই অন্য খাদ্যের পরিপাক করিয়ে অ্যাসিড নষ্ট করে। মাংস খাওয়ার পর দই খেলে তা আরো উপকার দেয় বেশি। কারণ দই আমিষ হজমে সহায়তা করে। দই খেলে ঠাণ্ডা লাগে না বা গলা নষ্ট হয় না। তবে ফ্রিজে রাখা হিমশীতল দই খেলে গলার ক্ষতি হতেই পারে। দইয়ের রয়েছে নানান গুণাগুণ। প্রতি ১০০ গ্রাম ঘরে পাতা দইয়ে রয়েছে - ক্যালসিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন-এ ১০২ আইইইউ প্রোটিন ৩ গ্রাম ফ্যাট ৪ গ্রাম ময়েশ্চার ৯০ গ্রাম ক্যালরি ভ্যালু ৬০ কিলোক্যালরি দই তাদের জন্য বেশি উপকারী যারা দুধ সহ্য বা হজম করতে পারেন না। কারণ দইয়ে অ্যামাইনো অ্যাসিড যার কারণে দুধের প্রোটিনের চেয়ে দইয়ের প্রোটিন সহজে হজম হয়। খাওয়ার এক ঘণ্টা পর দুধ হজম হয় ৩২% এবং দই হজম হয় ৯০ভাগ। এছাড়াও দইয়ের রয়েছে বেশ কিছ খাদ্যগুণ। যেমন - *দই থেকে তৈরি ঘোল লাচ্ছি বেশ মুখরোচক খাবার। পেট গরম হলে, পেটে গ্যাস হলে, এমনকি সর্দি হলেও ঘোল পান করলে তার উপশম হয়। *দই পাকস্থলীতে খাবারের পচন প্রতিরোধ করে। পেটের ভেতরের ঘা সারাতে দই খুবই উপকারী। শরীরের উত্তাপ নিয়ন্ত্রণেও এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। *দইয়ের ব্যাক্টেরিয়া মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স গ্রহণে সহায়তা করে। *দইয়ের ল্যাক্টোব্যাসিলাস ব্যাক্টেরিয়া কোলনের ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে উদ্দীপিত করে। ফলে পেট পরিষ্কার থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়াও দ্রুত সেরে যায়। *দই শরীরের ভালো ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে উদ্দীপিত করে। তাই কোনো অ্যান্টিবায়েটিক গ্রহণকালে খাদ্যতালিকায় দই রাখুন। *প্রতিদিন কিছুটা দই খেলে জন্ডিস ও হেপাটাইটিস প্রতিরোধ করা যায়। এমনকি দই ক্যান্সার রোগের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। *কুসুম গরম দুধের মতো দইও ঘুমের সমস্যা দূর করে। দই শুধু খাদ্য হিসেবে নয়, রূপচর্চার উপকরণ হিসেবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। যেমন - *চুলে নিয়মিত টক দই লাগালে খুশকি দূর হয় এবং অকালে চুল পাকা রোধ হয়। *উপটান বা ফেসপ্যাকের সাথে দই মিশিয়ে লাগালে ত্বকের দাগ কমে যায়, ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল। *চুলের পুষ্টি যোগাতে ডিম, অলিভঅয়েল ও টক দই একসাথে মিশিয়ে চুলে লাগান এবং আধ ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল হবে রেশমী, ঝলমলে। *টকদইয়ের সাথে চিনি মিশিয়ে সারা শরীরে তা লাগান এবং মাসাজ করুন। এটা একই সাথে স্ক্যাবার এবং ব্লিচ হিসেবে কাজ করবে। ফলে ত্বক হবে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল। *টক দই, মসুর ডালবাটা ও কাঁচা হলুদবাটা একত্রে মিশিয়ে লাগালে রোদে পোড়া দাগ দূর হয়ে যায়।