ছবি সংগৃহীত
কী হবে যদি পৃথিবী থেকে আরশোলা বিলুপ্ত হয়ে যায়?
আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০১৬, ১০:০১
ফটো সোর্স : www.miaminewtimes.com
(প্রিয়.কম)-আরশোলা সেই দুর্ভাগা পতঙ্গ যাকে বেশিরভাগ মানুষ বিশেষ করে মেয়েরা ঘৃণা করে। আরশোলার নিছক উপস্থিতি কিছু মানুষকে সাহসশূন্য ও বলশূন্য করে দেয় ফলে তারা ঘরের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করা শুরু করে দেয়, পায়ের নীচে দেখলেও আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পরে। বেশিরভাগ আরশোলাই সরাসরি মানুষের কোন ক্ষতি করেনা তারপরও তারা লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘৃণার পাত্র। তেলাপোকা নোংরা এবং রোগের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এরা সালমোনেলা ও শিজেলার মত ব্যাকটেরিয়া ছড়ায় এবং অ্যালার্জি ও অ্যাজমা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তারা যেখানে হাঁটে সেখানেই বিষ্ঠা ফেলে যায়। তেলাপোকা দেখলেই তাকে পিষে ফেলার এগুলো অনেক ভালো কারণ। এজন্যই অনেক মানুষ তেলাপোকা শূন্য পৃথিবী আশা করেন।
আরশোলা উষ্ণ ও গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় আবহাওয়ায় বাস করে। ৩০০ মিলিয়ন বছর পূর্বের আরশোলার জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। এরা কষ্ট সহিষ্ণু প্রাণী। এরা অনেক বেশি তেজস্ক্রিয়তার মধ্যেও বেঁচে থাকতে পারে যা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় এবং এরা একমাস পর্যন্ত না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে। তেলাপোকাকে নিয়ে অনেক গল্প ও কাল্পনিক কথা প্রচলিত আছে যেমন- পারমাণবিক বিস্ফোরণ হলেও তেলাপোকা টিকে থাকবে। যদি তেলাপোকা সম্পূর্ণ ভাবেই বিলীন হয়ে যায় তাহলে কি হবে? আসুন তাহলে জেনে নেই আরশোলাহীন পৃথিবী হলে কেমন হবে।
পৃথিবীতে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ প্রজাতির তেলাপোকা আছে। বিশ্বাস করুন বা নাই করুন এদের কিছু প্রজাতি আছে যারা আসলেই বেশ আকর্ষণীয় এবং তেলাপোকার কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতি জোনাকি পোকার মতোই অন্ধকারে আলো বিকিরণ করতে পারে। আবার কিছু প্রজাতি গৃহে প্রবেশ করে মানুষের বিরক্তি সৃষ্টি করে। বাসাবাড়িতে সাধারণত যে তেলাপোকা দেখা যায় সেগুলো হল- জার্মান তেলাপোকা Blattella germanika, আমেরিকান তেলাপোকা Periplaneta amerikana, বাদামী ডুরে তেলাপোকা Supella longipalpa এবং প্রাচ্যের তেলাপোকা Blatta orientalis। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও অধ্যাপক Srini Kambhampati যদি হঠাৎ করেই তেলাপোকা বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে কি হবে তা বিস্তারিত ভাবে বলেছেন। এমন কিছু সংখ্যক প্রাণী আছে যারা তেলাপোকা শিকার করে বেঁচে থাকে যেমন- ইঁদুর। মজার বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর কিছু অঞ্চলের মানুষও তেলাপোকা খেয়ে থাকে। আমরা বলছিনা যে তেলাপোকা বিলুপ্ত হয়ে গেলে মানুষ এবং ইঁদুরও বিলীন হয়ে যাবে। কিন্তু এর ফলে সামান্য হলেও প্রভাবিত হবে পৃথিবী। এছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু প্রাণী আছে যেমন- পরজীবী বোলতা বেঁচে থাকার জন্য পুরোপুরিভাবে আরশোলার উপর নির্ভর করে থাকে। তাই তেলাপোকা না থাকলে এই প্রকারের বোলতা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
এটা সহজবোধ্য যে, পরজীবী বোলতার টিকে থাকা বা না থাকার বিষয়ে মানুষ বিশেষ আগ্রহী নয়। কিন্তু আরশোলার বিলীন হয়ে যাওয়া আরশোলা ভক্ষণকারী পাখি ও প্রাণী, যেমন- বিড়াল, নেকড়ে, নির্দিষ্ট সরীসৃপ, ঈগল এবং পাখিদের বিভিন্ন প্রজাতি ইত্যাদির উপর ঠিকই প্রভাব ফেলবে।
Kambhampati এর মতে বেশিরভাগ আরশোলা ক্ষয়িষ্ণু জৈব পদার্থ আহার করে থাকে, যা বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেনকে বন্দী করে। জঙ্গলে আরশোলা ক্ষয়িষ্ণু পাতা ও কাঠ ভক্ষণ করে। যখন আরশোলা মলত্যাগ করে তখন মাটির সাথে নাইট্রোজেন মিশে যায়। আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, গাছের বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান এবং তাই অরণ্যের জন্য ও অত্যাবশ্যকীয়। অরণ্য আমাদের টিকে থাকার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বলাই বাহুল্য।
আপনি হয়তো এই হিতৈষী প্রাণীটিকে ধ্বংস করার জন্য ঘরের কোণায় কোণায় গুপ্তচরের মতই ছুটাছুটি করছেন। কিন্তু আমাদের অস্তিত্বের জন্য আরশোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও ভুলে গেলে চলবে না।
লিখেছেন-
সাবেরা খাতুন
ফিচার রাইটার, প্রিয় লাইফ
প্রিয়.কম