ছবি সংগৃহীত
প্রিয় গন্তব্য: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর সমাধি
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০১৭, ১৫:৫২
আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৭, ১৫:৫২
আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৭, ১৫:৫২
এক ঝলকে কবির সমাধিস্থল। ছবি: সংগৃহীত।
(প্রিয়.কম): জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তার মৃত্যুর পরে যেন তাকে দাফন করা হয় মসজিদের পাশে। আর তাই তার ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাকে কবরস্থ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশেই।
কোথায়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের উত্তর দিকে, শাহবাগ থেকে টি এস সির দিকে এগুলো চারুকলা পার হয়েই কবির সমাধি।
কিভাবে: শাহবাগ হয়ে তার সমাধিতে যাওয়া যায়। আবার হাইকোর্ট দোয়েল চত্বর হয়ে টি এস সি দিয়ে ঘুরেও তার সমাধিতে যাওয়া যায়। চারুকলার পাশেই এটার অবস্থান। রিকশা, সিএনজি, বিভিন্ন উপায়েই যাওয়া যায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে।
জীবন: কবি কাজী নজরুল ইসলাম অগ্রণী বাঙালি কবি, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক, যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকার সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ দুই বাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। অগ্নিবীণা হাতে তাঁর প্রবেশ, ধূমকেতুর মতো তাঁর প্রকাশ। যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনই জীবনে –- কাজেই "বিদ্রোহী কবি"। তাঁর জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে উভয় বাংলাতে প্রতি বৎসর উদযাপিত হয়ে থাকে।
মধ্যবয়সে কাজী নজরুল ইসলাম পিক্স রোগে আক্রান্ত হন। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। একই সাথে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। এরপর যথেষ্ট চিকিৎসা সত্ত্বেও নজরুলের স্বাস্থ্যের বিশেষ কোন উন্নতি হয়নি। ১৯৭৬ সালে নজরুলের স্বাস্থ্যেরও অবনতি হতে শুরু করে। জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

লাল ইটে মোড়ানো কবির কবর। ছবি: সংগৃহীত।
কী দেখবেন: বেশ কিছু বছর আগে জাতীয় উদ্যোগে তার সমাধিক্ষেত্রটিকে বিশেষ ভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। চমৎকার ঘাস আর লাল ইটের কারুকাজে এটা সত্যিই একটা শান্তিপূর্ণ জায়গায় পরিণত হয়েছে। এখানে গেলে দেখা যায় জবা ফুল গাছের সমারোহ। কবি জবা ভালবাসতেন বলে জানা যায়। প্রতিদিন সাপ্তাহিক ছুটি এবং সরকারী ছুটির দিন গুলো বাদে অন্য দিন গুলোতে সকাল দশটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এখানে ঢোকা যায়। জাতীয় কবির বিভিন্ন স্মৃতি প্রদর্শন এবং তার বিভিন্ন বই সবার কাছে সহজলভ্য করার জন্য একটি ছোট আকারে জাদুঘর ও পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র করা হয়েছে সেখানে।
যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল রাস্তার সাথে হবার কারণে কোলাহল থেকে হয়ত বেশি একটা দূরে যাবার উপায় নেই, তবে জায়গাটির সৌন্দর্য সত্যিই মন ছুঁয়ে যাবে। আর কেউ যদি কবিভক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে তো কথাই নেই।
সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।
১ ঘণ্টা, ৪ মিনিট আগে
১ ঘণ্টা, ৪ মিনিট আগে
১ ঘণ্টা, ৬ মিনিট আগে
১ ঘণ্টা, ৭ মিনিট আগে