‘পোড়ামন ২’ ছবির দৃশ্যে সিয়াম আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
‘আমি কিন্তু হিরো না, হিরো হচ্ছে গল্প’
আপডেট: ১২ জুন ২০১৮, ২০:৩৯
(প্রিয়.কম) ঢাকাই ছবিতে আলো ছড়িয়ে যেতে চান তারকা অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। রুপালি পর্দায় তার প্রথম দর্শন মিলবে ‘পোড়ামন ২’ ছবিতে। ছবি হিট-ফ্লপের ভাবনা বা চাপ না থাকলেও রীতিমতো এক ধরনের মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে সময় কাটাছে তার। তবে সবকিছু ভেতরে লুকিয়ে রেখে হাসিমুখে মঞ্চে নিজেকে হাজির করাটাই এখন তার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মানছেন সিয়াম। আসছে ঈদে মুক্তি পাবে ছবিটি। এতে তার সহশিল্পী পূজা চেরী।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন রায়হান রাফি। এ নিয়ে ভীষণ আশাবাদী এ তরুণ নায়ক। সম্প্রতি মগবাজারে একটি ছবি নির্মাণের পূর্বপরিকল্পনা করার কারখানায় বসেই তরুণ এ নায়কের সঙ্গে কথা হয় সিনেমা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে।
প্রিয়.কম: বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নায়কমাত্রই চায়, অভিষেকটা জমকালো হোক কিংবা বড় কোনো ফেস্টিভ্যালে তার ছবি মুক্তি পাক। আপনার প্রথম ছবি ‘পোড়ামন ২’ এবারের ঈদে মুক্তি পেতে চলছে...
সিয়াম আহমেদ: আমাদের এ ফিল্মটা নিয়ে আমরা প্রথম থেকেই আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু আশার জায়গাটা তখন অনেক বেড়ে গেছে, যখন জানতে পেরেছি, ছবিটা ঈদে মুক্তি পাচ্ছে। কারণ ছবিটা কিন্তু ঈদে মুক্তি পাবে, সে ধরনের কোনো পরিকল্পনা থেকে বানানো হয়নি। আমার মনে হয়, যেকোনো ছবিই কোনো উপলক্ষ্যকে কেন্দ্র করে বানানো উচিত নয়। আমাদের ছবিটা নিখাদ প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত। এ ধরনের গল্পের সুবিধা হচ্ছে, এ ধরনের গল্পের ছবি ১২ মাসের যেকোনো সময়ই মুক্তি দেওয়া যায়।
আমাদের দেশে প্রধান সমস্যা হচ্ছে, আমরা বহুদিন হয় মৌলিক কোনো প্রেমের গল্প শুনি না কিংবা সিনেমায় দেখি না। তাই এটা নিয়ে আশাবাদী আমি। দর্শক অনেকদিন পর একটা প্রেমের গল্প দেখতে পারবে। দর্শক যেহেতু এর আগে কোনো সিনেমাতে সিয়াম-পূজাকে একসঙ্গে দেখেনি, তাই তারা প্রথমে অনুমানও করতে পারবে না যে, সিয়াম ও পূজা কেমন অভিনয় করবে। আমার মনে হয়, আমরা যা-ই করব, তাতে কিন্তু দর্শক বিস্মিত হবেন। কারণ এটা আমাদের দুজনেরই প্রথম ফিল্ম। আর রায়হান রাফিরও প্রথম ফিল্ম। তার নির্মাতা হিসেবে ফিল্মে অভিষেক হচ্ছে। তার ফিচার ফিল্ম এর আগে কেউ দেখেনি। তার মানে রাফি কেমন কাজ করেছে, সেটাও কেউ জানে না।
এই ঈদে আমাদের মার্কেটে অন্য যে পরিচালকদের ছবি আসতেছে, তাদের ছবি কিন্তু দর্শক দেখে ফেলেছে। তারা কিন্তু পরীক্ষিত। তবে রাফি কিন্তু পরীক্ষিত না। একদিকে এটা আমাদের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনি পজিটিভও। আমরা সবাই দর্শককে একদম নতুন একটা জিনিস দিচ্ছি। তাই তাদের ভালো লাগলেও লাগতে পারে।
প্রিয়.কম: বলিউডে কিংবা টালিউডে কিন্তু একে অপরের জন্য রিলিজ ডেট স্যাক্রিফাইস করেন। তবে আমাদের এখানে এ ধরনের কালচার দেখাই যায় না...
সিয়াম আহমেদ: আমরা এখন সিনেমার যে ক্রান্তিকালে আছি, আমার মনে হয় কোনো ধরনের স্যাক্রিফাইসিং কোনো ধরনের মানসিকতা থাকা উচিত না। আমাদের এখানে রোজার ঈদকে ধরা হয় সিনেমার বাজারে সবচেয়ে বড় মার্কেট। ওই জায়গাতে সবাই চাইবে তার সেরা কাজটা রোজার ঈদের জন্য রেখে দিতে। আমি চাই দর্শক এমন একটা সময়ে হলে যাক যে, আপনি মনে করেন, কেউ এক নম্বর ফিল্মটা দেখার জন্য হলে গিয়েছেন। কিন্তু টিকেট পেলেন না।
তখন যে কেউ স্বাভাবিকভাবে বাধ্য হয়েই দ্বিতীয় ছবিটি দেখতে ঢুকবেন। কারণ সে মানসিকভাবে নিজেকে সেট করে নিয়েছে, সে ঈদের সিনেমা দেখবেই। আমাদের দর্শককে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে যে, আমরা যে অপশনাল দ্বিতীয় ফিল্মটা দেখতে যাই, ওটাও যেন যথেষ্ট ভালো হয়। তাতে হবে কী, প্রথম ফিল্মের তো পজেটিভ ভাইভ ছিলই অথবা একজন সুপারস্টারের ফিল্ম।
কিন্তু অপশনাল ফিল্ম যখন ভালো হবে, তখন সে অন্য যে কাউকে গিয়ে বলবে না, আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ডেভলপ করছে। মানে আপনি দর্শককে ফিল্ম থেকে বিমুখ হওয়ার কোনো সুযোগ দিচ্ছেন না। যখন দুই কিংবা তিনটা ভালো প্রোডাক্ট মার্কেটে থাকবে, তখন কিন্তু ভালো কাজের প্রতিযোগিতা হবে। এখন কিন্তু কমপিটিশেন হচ্ছে স্টারডমের।
‘পোড়ামন ২’ ছবিতে একটি দৃশ্যে পূজা চেরীর সঙ্গে সিয়াম আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
প্রিয়.কম: আপনি এবং আপনার সহশিল্পী পূজা। দুজনকে কেন্দ্র করেই বলা হচ্ছে, এই ছবির গল্প হচ্ছে ‘তুরুপের তাস’। এ বিষয়ে আপনার মত কী?
সিয়াম আহমেদ: আমি কিন্তু এখানে হিরো না, আমাদের হিরো হচ্ছে গল্প। এখন আপনি বলেন পজেটিভ কিংবা নেগেটিভ। আমরা গত বেশ কিছু বছর হিরোপ্রধান সিনেমা দেখে অভ্যস্ত। এটার পজেটিভ আছে, আবার নেগেটিভও আছে। আপনি একজন হিরোকে সুপারস্টার লেভেলে নিয়ে যান, তাইলে দর্শক এমনিতে হলে যাবে। কারণ তার ওপরই গল্প। নেগেটিভ হলো যখন হিরো তার হিরোইজম নিয়ে মাঠে থাকে, তার যদি অ্যাকটিং কিংবা হিরোইজম কোথাও পতিত হয়, তখন কিন্তু আপনি গল্প থেকে বের হয়ে গেলেন। কারণ এরপর আপনার হাতে আর কোনো এলিমেন্টই নাই।
এবার আমি আমার পজেটিভ জায়গাটা বলি। যেহেতু গল্পে আমি একমাত্র হিরো না, আমি যদি কোনো কারণে ফল করি, আমার বাইরেও অনেক চরিত্র আছে, যারা গল্পটাকে আঁকড়ে ধরে রাখবে। আমি তো একজন নতুন পারফরমার, সব সিন যে একেবারে ফাটাইয়া বের হয়ে আসব, এমনও কিন্তু নয়। কারণ ফিল্মের ল্যাঙ্গুয়েজ বুঝতে আমারও সময় লাগবে। সে জায়গা থেকে আমি ফল (পতন) করলেও আমার স্টোরি কিন্তু ফল করে না।
প্রিয়.কম: ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন যারা আসছেন, তাদের অভিনয় দুর্বলতা নিয়ে কথা বলছেন কেউ কেউ। আপনার কী মনে হয়?
সিয়াম আহমেদ: আমি যখন অ্যাকটিংটা করেছি, তখন কিন্তু সিয়াম আহমেদের অডিয়েন্সের জন্য অ্যাকটিংটা করিনি। আমি কিন্তু যারা টাকা দিয়ে ফিল্ম দেখতে আসে, মানে ম্যাস পিপল, আমি তাদের জন্য অভিনয় করেছি। আমার সিনেমা ও অ্যাকটিং নিয়ে একটা দর্শন ছিল। কিন্তু আমি যদি আমার দর্শন নিয়ে প্রতিবার কাজ করি, তাহলে ভিন্ন কিছু আমি আপনাকে দিতে পারব না। আমি কিন্তু পশ অ্যাকটিংই করব।
আমার পরিচালক আমাকে যেভাবে বলবেন, আমাকে সেভাবেই অভিনয় করতে হবে। কারণ এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোনো এক্সপেরিয়েন্স নাই। তাই আমার মনে হয়, আমার কাজের জায়গা থেকে ভিন্ন কিছু দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, এটা ম্যাস পিপলকে টাচ করবে, অথবা কেউ না কেউ কাজটি দেখে মজা পাবে অথবা ইমোশনালি কানেক্টেড হবে। যদি ১০০ জনের কথা বলি, তাদের সবার যে ভালো লাগবে, তা কিন্তু নয়। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষকে তো ভালো লাগাতে পারি।
প্রিয়.কম: ‘পোড়ামন ২’ ছবির মধ্য দিয়ে আপনার অভিষেক হচ্ছে। ওদিকে নির্মাতাও বেশ তরুণ। রাফিরও প্রথম সিনেমা। ঠিক কী কারণে তার ওপর আস্থাটা রেখে সামনে এগোলেন?
সিয়াম আহমেদ: একজন আর্টিস্ট যখন কোনো ডেব্যু ডিরেক্টরকে দেখে, তখন তাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে হয়। কারণ তখন সে অভিনেতা কিংবা অভিনেত্রীর হাতে বিশ্বাস করার মতো কোনো এলিমেন্ট থাকে না। আমার সুবিধা হলো, রাফির সঙ্গে প্রথম যখন দেখা, তার আগে থেকেই আমি রাফির কাজ দেখেছি। রাফির একটা কাজ আমাকে ভীষণভাবে আলোড়িত করেছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, দর্শককে অল্প সময়ে গল্প দিয়ে অ্যাটাক করতে পারা। অন্যদিকে আমার অ্যাকটিং কিন্তু রাফির দেখার জন্য যথেষ্ট সুযোগ ছিল। আমরা কিন্তু একে অপরকে দেখে দুজন দুজনকে বিশ্বাস করেছি।
প্রিয়.কম: এই সিনেমার ইউনিক দিক কোনটি?
সিয়াম আহমেদ: দুটি চরিত্রের ভালোবাসার গল্প এবং তাদের ক্যামেস্ট্রি। আর এই শব্দটা খুব বেশি কাজে লাগবে বলে আমার মনে হয়। সিনেমার প্রমোশনের জন্য এখন পর্যন্ত যা যা প্রকাশ হয়েছে, তা নিয়ে কিন্তু কারো কোনো প্রশ্ন নেই।কাপলের মধ্যে যদি ম্যাজিক না থাকে, আমাদের এখানকার মানুষ কিন্তু সে সিনেমা দেখতে যায় না।
বাংলাদেশে স্ট্যাবলিশ একটা বিষয় হলো জুটি প্রথা। আর সেটা কিন্তু এমনি এমনি হয় না। তবে আমরা হয়তো এক কাজ দিয়ে জুটি হয়ে যাব না। আমাদের বারবার প্রমাণ করতে হবে। তার আগে আমাদের সিঁড়িতে তো পা রাখতে হবে। একটা রোমান্টিক ক্যামেস্ট্রি। তাদের যে স্ট্রাগলের একটা জার্নি, সেটা মানুষের কাছে ভালো লাগবে।
সহ-শিল্পী ফজলুর রহমান বাবুর সঙ্গে অপর আরেকটি দৃশ্যে সিয়াম আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
প্রিয়.কম: যতটুকু জানা গেছে, সালমান শাহর এক ভক্তের গল্প নিয়ে সিনেমার গল্প। রেফারেন্স নিয়ে আপনাকে চরিত্রের জন্য সামনে এগোতে হয়েছে। গাইডলাইনটা ঠিক কেমন ছিল?
সিয়াম আহমেদ: বিষয়টা এমন, আমাকে একটা ক্যারেকটার ডেভলপ করতে হবে যে, চরিত্রটা একটি মফস্বল এলাকার। সে কিন্তু বোকা না, সে মফস্বলের মধ্যে স্মার্ট। তবে খুব শিক্ষিতও না। তবে সে একজন নায়কের বিশাল বড় ফ্যান। আর সে নায়কটা হচ্ছে আমাদের সালমান শাহ। আর সে মনের দিক থেকে ভালো মনের একটা ছেলে। সে তার হিরোর ছবি দেখে এসে তার গ্রামের মানুষদের অভিনয় করে দেখায়। এরপর অনেকেই বলে, ‘আরে ও তো সালমান শাহর মতো অভিনয় করে।’ এই যে মানুষের মন্তব্য, এটাই তার কাছে অনেক বড় পাওয়া। সে মনে করে, ‘আরে শালা, আমার সঙ্গে গুরুর তুলনা করে!’
প্রিয়.কম: অভিনয় ক্যারিয়ারের সময় ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে পূজা আপনার থেকে বেশ পিছিয়ে। কিন্তু ওর মধ্যে এক ধরনের স্ক্রিনের ম্যাচিউরিটি ‘নূর জাহান’ ছবিতে দেখা গেছে। কিন্তু এ ছবির গান ট্রেলার কিংবা প্রমোশনের জন্য যে যে বিষয়গুলো প্রকাশ হয়েছে, সেখানে তা পাওয়া যায়নি। আপনার কী মত?
সিয়াম আহমেদ: পূজার চরিত্রটা কিন্তু এখানে ম্যাচিউরড কোনো ক্যারেকটার না। এখানে পূজাকে এমন একটা চরিত্রে দেখা যাবে, যে জীবনে প্রথম প্রেম কী, ভালোবাসা কী, সে সেটা প্রথমবারের মতো অনুভব করবে। কাউকে প্রথম মিস করা কিংবা অনুভব করা কিংবা কারো জন্য কাঁদা এগুলো তো অপরিপক্ক বয়সে হয়। পূজার কিন্তু ফিল্মে আমার চাইতে হাজার গুণে বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। যদি সার্বিক দিক থেকে হিসাব করি, এটা ওর সাত না হয় আট নম্বর সিনেমা।
পূজা কিন্তু বড় হয়েছে সুপারস্টারদের দেখে দেখে। ও কিন্তু অনেক ম্যাচিউরড অভিনয় করে। ও জানে চোখ দিয়ে কথা বলে, আপনি খেয়াল করে দেখবেন। ও জানে, ফিল্মের অডিয়েন্স কোন ধরনের এক্সপ্রেশন চায়।
আমার কথা একটু বলি, আমি যেদিন আমার ক্যারিয়ারে প্রথম নাটকে অভিনয় করেছি, তার থেকে সবশেষ যে নাটকটিতে অভিনয় করেছি, তার থেকে একটু বেশি ম্যাচিউরড অ্যাক্টিং আমি করেছি। আমি বিশ্বাস করি, আমি অনেক ট্যালেন্টেড না। কিন্তু আমি এক্সট্রিম লেভেলের হার্ডওয়ার্কার। তবে আমি পূজার পারফরম্যান্সে সত্যিই অনেক খুশি। কারণ আমরা দুজনই একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজটা করেছি।
প্রিয়.কম: বিখ্যাত গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ আপনাকে নিয়ে লিখেছেন, ‘সিয়াম ওকে (সালমান শাহ) নকল করছে না, দেখেওনি। কিন্তু কোথায় যেন একটা অবাক মিল!’ বিষয়টিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
সিয়াম আহমেদ: প্রিন্স ভাই এমন একজন মানুষ, যার হাত ধরে অনেকেরই জীবন পাল্টে গেছে। সে হচ্ছে জহুরি। সে খাঁটি সোনাটা চেনে। আমি বলতে চাই না, আমি অনেক ট্যালেন্টেড। সত্যি কথা বলতে গেলে, আমি যখন সিনেমাতে কাজ শুরু করলাম, তখনই কিন্তু শোবিজের অনেকেই আমাকে ফোন করেছে অথবা ম্যাসেঞ্জারে শুভ কামনা জানিয়েছে। তারা মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসা করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কেউ না পাবলিকলি কিছু বলে না। তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল, যারা এ কাজটা করছে, তারা আমাকে খুশি করার জন্য কাজটি করেছে! না আমি আসলে তাদের সে প্রশংসাগুলো ডিজার্ভ করি না।
প্রিন্স ভাই প্রথমে আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। আর তার মতো একজন মানুষের কাছ থেকে আমি ফোন পাওয়া কিন্তু একটা বিশাল ব্যাপার! কারণ আমরা একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি না, একদিক থেকে বলতে গেলে। কিন্তু আমি তো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রথমে প্রথম দিয়ে প্রিন্স ভাই একটা কাজের কথা বলছিলেন। এরপর কথা প্রসঙ্গে বললেন, তোমার ওই কাজটা আমার চোখে পড়ল। তোমার সঙ্গে কিন্তু সালমান শাহর অদ্ভুত একটা মিল লাগল।
তখন রীতিমতো আমার হাঁত, পা কাঁপতে ছিল। কথার শেষে বললেন, ‘আমি জানি না যে কী করবা। তবে আমার ভেতর থেকে তোমার জন্য অনেক দোয়া আছে। মনে হচ্ছে, তুমি কিছু একটা করবা। এখন পর্যন্ত পাওয়া আমার জন্য ফিল্মের ময়দানে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এটা। যখন আমার মনে হয়, আমি যুদ্ধে হেরে যাব। তখন এই মানুষটার কথাগুলো অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। আমাকে আরও সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এটুকই আমি না, এর চাইতেও আমি ভালো। আমি মানুষকে আরও কিছু দিয়ে যাব।’
‘পোড়ামন ২’ ছবির একটি দৃশ্যে সিয়াম আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
প্রিয়.কম: জাজের হয়ে যারা কাজ করেছেন, তারা প্রত্যেকেই একটা সময় গিয়ে স্বীকার করেছেন, তারা কোনো না কোনো বাইন্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর তাদের কাজের বিষয়টি সামনে এগিয়েছে। আপনার ক্ষেত্রে এমন কিছু ছিল, আপনি চাননি। তারপরও বাধ্য হতে হয়েছে?
সিয়াম আহমেদ: আমার সঙ্গে জাজের কোনো চুক্তি নেই। আমার সঙ্গে তাদের প্রত্যেকটা ছবি অনুযায়ী চুক্তি। ‘পোড়ামন ২’ ভালো লাগার কারণেই আজিজ ভাই আমাকে ‘দহন’ অফার করেছে। এটা আমার একান্তই পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই। তার সঙ্গে আমার চুক্তি আছে। বছরে দুইটা ছবি দিতে হবে, বিষয়টা কিন্তু এমন না। আমিও চেয়েছি, আমি যেন চুক্তিবদ্ধ না হই। আমি বিশ্বাস করি না, একজন শিল্পীর পায়ে কোনো শিকল থাকা উচিত। তাকে উড়তে দিতে হবে স্বাধীনভাবে।
প্রিয়.কম: ভবিষ্যতে ঠিক কেমন ধরনের সিনেমাতে অভিনয় করতে চান? যেখানে ঘটনাবহুল গল্প থাকবে, নানা রকম উপাদানও থাকবে, নাকি অন্য কোনো ধরনের বিষয়ভিত্তিক কোনো বিষয় থাকবে?
সিয়াম আহমেদ: আমি যেন সুপারম্যান হয়ে অভিনয় না করি। আমার ঘুষিতে একজন পাঁচতলা ভবনে উঠে গেল, যেটা আমি বিশ্বাস করি না। কারণ আমার ঘুষিতে এত পাওয়ার নাই। আমি চেষ্টা করব, আমি ঘুষিতে একটি মানুষ সত্যিকার অর্থেই যতদূর যায়, আমার সিনেমাতে ঠিক ততদূরই দেখাতে চেষ্টা করব।
আমি চাই, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনের গল্প আছে, সে ধরনের ছবিতে অভিনয় করতে; যেখানে গল্পটা হচ্ছে হিরো, আমি হচ্ছি উপাদান। যেটা মানুষকে একটু হলেও নাড়া দেয়, সেটা ইমোশনালি হোক, পলিটিক্যালি, মৌলিকতা কিংবা রিয়েলাইজেশনের দিক থেকে হোক। আমি মানুষের মাঝখানে রিয়েলাইজেশনটা আনতে পারি। আমি হিরো হিসেবে ফল করলেও রিয়েলাইজেশন করাইতে যেন ফল না করি।
প্রিয়.কম: অনেকদিন ধরেই তো অভিনয় করছেন, নিজের ডেভলপমেন্ট কেমন মনে হচ্ছে?
সিয়াম আহমেদ: দেখেন, এটা তো আমি বিচার করতে পারব না। আমি আমার অভিনয়ের একটা টেম্পারমেন্ট বুঝি। ভালো-মন্দ কিংবা অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে আমার প্রত্যেকটি কাজে চেষ্টা থাকে আগের কাজটি থেকে যেন পরের কাজটি ভিন্ন হয় কিংবা এক ধরনের ভিন্নতা থাকে। তবে সময় ও তার সাথে একসঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলতে পারাটা খুব কঠিন কাজ। সেটা করা ও ভালো কাজ করার একটা ইচ্ছা ভেতরে থাকাটা আরও জরুরি। এ ছাড়া আমার চর্চার জায়গাটা প্রতিনিয়ত মজবুত রাখার চেষ্টা করি।
প্রিয়.কম: সিনেমা নিয়ে তো আপনার নিজস্ব একটা ভিশন নিশ্চয়ই রয়েছে। আপনি অন্যদের চেয়ে নিজেকে ভিন্নতর করে তুলবেন কীভাবে?
সিয়াম আহমেদ: আমার যাত্রা এখনো শুরু হয় নাই, যার কারণে এ বিষয়ে কথা বলা ঠিক না। আমার কাজের জায়গাটা অনেক বেশি ক্লিয়ার। মিশন-ভিশনও ক্লিয়ার, যার কারণে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। আমার কাজ এবং তার জায়গা আমাকে আলাদা করে নতুন কিংবা ভিন্ন একটা অবস্থানে নিয়ে যাবে। আমিও সে ধরনের কাজগুলো করতে চাই।
‘পোড়ামন ২’ ছবির ট্রেলার দেখুন নিচের লিংকে।
প্রিয় বিনোদন/আজহার
- ট্যাগ:
- নাটক
- তারকার জীবন
- সিনেমা
- বিনোদন
- ঈদ
- অভিষেক
- সিনেমা
- বাংলাদেশ
- সিয়াম আহমেদ
- ঢাকা