ছবিটি সংগৃহীত।

‘রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানটির ইতিহাস ও বিবর্তন

শিবলী আহমেদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০১৭, ১৭:৩৫
আপডেট: ২৫ জুন ২০১৭, ১৭:৩৫

(প্রিয়.কম) ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’- এটি কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কালজয়ী একটি গান। বাঙালি মুসলমানের ঈদ উৎসবে এ গানটি এক প্রকার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমদ-এর অনুরোধে ১৯৩১ সালে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই গান রচনা করেছিলেন এবং নিজেই সুরারোপ করেছিলেন। লেখার চারদিন পর শিল্পী আব্বাস উদ্দিনের গলায় রেকর্ড করা হয় গানটি। রেকর্ড করার দুমাস পর ঈদের আগে রেকর্ডটি প্রকাশ করা হয়। তৎকালীন গ্রামাফোন কোম্পানি এর রেকর্ড প্রকাশ করেছিল।

গানটির কথা

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।

তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ

দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে

যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমণ, হাত মেলাও হাতে,

তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী

সেই গরিব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মুফিদ

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।

ঢাল হৃদয়ের তশতরীতে শিরনি তৌহিদের,

তোর দাওয়াত কবুল করবেন হজরত হয় মনে উম্মীদ।

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

তোরে মারল' ছুঁড়ে জীবন জুড়ে ইট পাথর যারা

সেই পাথর দিয়ে তোলরে গড়ে প্রেমেরই মসজিদ।

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।

বর্তমানে কালজয়ী এই গানটির যে কয়টি ভার্সন প্রচলিত রয়েছে, সেগুলো শুনতে পারেন এখানে:

রক ভার্সন।

রুনা লায়লা’র কণ্ঠে গাওয়া।

সতীনাথ মুখোপাধ্যায়’র গাওয়া।

মোহাম্মদ শোয়েব, সন্দীপন ও নন্দিতা একসঙ্গে গেয়েছেন গানটি।

লীনা তাপসী’র গাওয়া।

ডিস্ক জকি শিপনের করা রিমেক।

আরেকটি র‍্যাপ রিমেক।

ইয়াসমিন মুশতারী’র গাওয়া।

আঁখি, মুন্নি, কণা, কোনালসহ বর্তমান প্রজন্মের বেশ কজন জনপ্রিয় শিল্পীর কণ্ঠে গাওয়া।

নাশেদ এর কণ্ঠে গাওয়া।

চার কিংবদন্তীর গাওয়া।

ভিডিও ভার্সনগুলো ইউটিউব থেকে সংগৃহীত।

প্রিয় বিনোদন/গোরা