চামেলী খাতুন। ছবি: সংগৃহীত
অর্থাভাবে মৃত্যুশয্যায় নারী ক্রিকেটার চামেলী
আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৩৯
(প্রিয়.কম) ১৯৯৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মাঠ কাঁপিয়েছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের হয়ে। কেবল ক্রিকেটে নয়, সমান তালে খেলেছেন ফুটবল। শুধু কি তাই? অ্যাথলেটিক্সেও ছিলেন সমান পারদর্শী। সেই চামেলী খাতুন এখন দিন কাটাচ্ছেন বিছানায়। পার করছেন জীবনের চরম দুঃসময়।
মাঠের সঙ্গে চামেলীর সম্পর্কের ছেদ পড়ে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায়। জীবিকার তাগিদে চামেলী চাকরি নিয়েছিলেন আনসার ভিডিপি অফিসে। কিন্তু অসুস্থতাজনিত কারণে অফিস করতে পারছেন না নিয়মিত। ফলে ছোট্ট চাকরিটিও যায় যায় অবস্থা। লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়াসহ মেরুদণ্ডের হাড়ের ব্যথা নিয়ে বর্তমানে মূমুর্ষ অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন চামেলি।
রাজশাহী নগরীর দরগা পাড়া এলাকায় ক্রিকেটার চামেলী খাতুনের বাস। সেখানেই আছে তার পৈতৃক বাড়িটি। দুই জানালা এক দরজার জরাজীর্ণ ছোট্ট একটি ঘর এখন চামেলী ও তার পরিবারের ঠিকানা। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে না পারায় বর্তমানে বিছানায়ই কাটছে চামেলীর দিন।
ওদিকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মেরুদণ্ডে দুই হাড়ের মধ্যে থাকা নরম ডিস্কগুলো। আর তাতে ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যাচ্ছে চামেলীর শরীরের ডান অংশ। কিন্তু মাঠ কাঁপানো এই নারী অলরাউন্ডার বাঁচতে চান। আবারও ফিরতে চান স্বাভাবিক জীবনে। হাঁটতে চান আর দশজন মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে।
এজন্য চামেলীকে অতি দ্রুত দেশের বাইরে সার্জারি করানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। কিন্তু চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা। কিন্তু এই টাকা চামেলীর পরিবারের পক্ষে জোগান দেওয়া পুরোপুরি অসম্ভব। কারণ চামেলী নিজেই যে, আনসার ভিডিপি অফিসে চাকরি করে পরিবার ও এক বোনের ভরণপোষণ চালাচ্ছেন।
জীবনের সঙ্গে লড়াই করা চামেলী আকুতি জানিয়েছেন বাঁচার। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এক সময়ের দাপুটে নারী ক্রিকেটার সাহায্য চেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে। বিসিবিসহ সমাজের বিত্তবান সবার কাছে চিকিৎসার জন্য সাহায্য চেয়েছেন একসময়ের এই অলরাউন্ডার।
প্রিয় খেলা/শান্ত