শিমুল গাছে একাকী বসে আছে একটি কাক। ছবি: সংগৃহীত

শিমুল ফুল ও একটি যুবক কাকের গল্প

আহসান হাবিব
Student
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০১৮, ১৮:৫০
আপডেট: ০৭ মার্চ ২০১৮, ১৮:৫০

একবার বসন্তে এক যুবক কাক শিমুল ফুলের প্রেমে পড়ে গেল। সেই বসন্তটাই তার জীবনের প্রথম বসন্ত ছিল। কাকটা ভাবল, ‘কত সুন্দর রক্তরাঙা ফুলে ছেয়ে গেছে মায়াবী এ গাছ! এর ফুল-ই যদি এত সুন্দর হয়, না জানি এর ফল কত সুস্বাদু।’

একসময় ফুলগুলো সব ঝরে গেল।  কাক বেচারা ভাবল, যাক, এইবার ফলের দেখা পাব।

গাছে দেখা দিল ছোট ছোট ফলের মোচা। কাকের আগ্রহ আর আনন্দ দেখে কে! সারাদিন সে মনের সুখে গান গায় আর বসে বসে পাকা টসটসে রসালো ফলের স্বপ্ন দেখে। বয়োজ্যেষ্ঠ কাকেরা তাকে বোঝাল যে এ গাছের ফল শুধু ফাঁকি! কিন্তু তরুণ কাকের সে কথায় কান দেওয়ার সময় কোথায়! সে অপেক্ষার প্রহর গুনতে লাগল।

এদিকে দিনজুড়ে একটা গাছে থাকতে থাকতে তার আহারাদি, নাওয়া কোনোটাই ঠিকমতো হলো না। দিন দিন সে শুকিয়ে যেতে লাগল। কিন্তু তাতে তার কোনো আফসোস নেই। সে অপেক্ষায় আছে শিমুল ফলের।

দিন যায় আর শিমুল ফল আকারে বাড়তে থাকে। সে তার শক্ত ঠোঁট দিয়ে পরীক্ষা করে দেখে কাঁচা ফলের বাহিরটা ভীষণ শক্ত। সে মনে মনে ভাবে, শক্ত খোসার নিচেই তো মিষ্টি শাস থাকে। আর সবুরেই তো মেওয়া ফলে। সবুরে মেওয়া ফলে সত্যি, কিন্তু সে মেওয়া যে খাওয়া যায় না, তা তার জানা ছিল না। জীবনের প্রথম বসন্তের সেরা সময়গুলোই সে কাটিয়েছে শিমুল ফুলের আশায়, ছোট ছোট সুখগুলোকে উপভোগ করার সময় পায়নি সে।

অবশেষে  শিমুল ফলের গায়ের সবুজ রং পাল্টাতে শুরু করল। আহা! কাক বেচারার আনন্দ দেখে কে! সে তা-তা থই-থই, তা-তা থই-থই করে নাচতে লাগল আর কা কা করে গান গাইতে লাগল। সে ঠিক করল, কাল দুপুরেই সবচেয়ে পাকা ফলটা সে ঠোকর মেরে খেয়ে নিজেকে তৃপ্ত করবে।

পরদিন দুপুরে সে নতুন পোশাকে সেজে শিমুল গাছের মগডালে গিয়ে তার প্রিয় পাকা ফলটায় যেমনি ঠোকর দিল, ওমনি সাদা ধবধবে তুলা বের হয়ে তার চোখের সামনে দিয়ে উড়ে যেতে লাগল। সে তুলা খেতে চেয়েও গিলতে পারল না। তার এত দিনের স্বপ্ন বিফলে যাওয়ার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করে বসল।

তরুণ কাকের এ অবস্থা দেখে শোকে এক কবি কাক বলতে লাগল-

শিমুল ফুল ফুটায়োন

কাকের মাংস শুকায়ন

অতি রূপে মজিয়োন

অতি লোভে ভুলিয়োন

শেষে ফাঁকায়োন আর প্রস্থায়োন।

প্রিয় সাহিত্য/হিরা/আজাদ চৌধুরী