ছবি সংগৃহীত

১০ বছরে বাংলালিংক

এম. মিজানুর রহমান সোহেল
জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ০৭:২৭
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ০৭:২৭

বাংলাদেশের শীর্ষ দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংক ৯ বছর পূর্ণ করে ১০ বছরে পা দিয়েছে। ২০০৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলালিংক নাম নিয়ে যাত্রা শুরু করে কোম্পানিটি। বর্তমানে বাংলালিংক রাশিয়ার ভিম্পেলকম-এর মালিকানা একটি প্রতিষ্ঠান। যখন সেবা কিনে নেয় ওরাসকম তখন গ্রাহক ছিল মাত্র ৪৫ হাজার। আর এখন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি। বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে অপারেটরটি তাদের গ্রাহকদের বোনাস ঘোষণা করেছে। জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে সেবা টেলিকম (প্রা.) লিমিটেড ১৯৯ টি গ্রামীণ উপজেলায় টেলিফোন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নিবন্ধীকরন করে। পরবর্তীকালে তারা সেলুলার রেডিও-টেলিফোন সেবার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম বর্ধিত করে। ২০০৪ সালের জুলাই মাসে ওরাসকম টেলিকম সেবা টেলিকমের মালয়েশিয়ান অংশীদারীত্ব কিনে নেয়। এর কারণ ছিল বাংলাদেশে ব্যবসা প্রসারে মালয়েশিয়ান অংশীদারের ব্যর্থতা। ওরাসকমের সাথে ২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি গোপনে সম্পাদিত হয়। বিভিন্ন আইনগত ঝামেলা এড়াতে এই গোপন চুক্তি হয়েছিল। গোপনে এই চুক্তি করার প্রধান কারণ ছিল, বাংলাদেশী ও মালয়েশীয় অংশীদারের মধ্যে চুক্তি বিদ্যমান থাকায় যেকোন পক্ষ শেয়ার বিক্রয় করতে চাইলে অন্য পক্ষ তা কেনার প্রথম সুযোগ পাবে। ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএসএল), যারা সেবা টেলিকমের বাংলাদেশী অংশীদার, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে মালয়েশীয় অংশীদার টেকনোলজি রিসোর্স ইন্ডাস্ট্রিজ এর শেয়ার ১৫ মিলিয়ন ডলারে কিনেছে বলে দেখানো হয়। আইএসএল পরে আরো ১০ মিলিয়ন ডলার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংককে পরিশোধ করে সেবার দায় শোধ করে। সেবা টেলিকমের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৫৯,০০০ যাদের মধ্যে বিক্রির সময় নিয়মিত গ্রাহক ছিল মাত্র ৪৯,০০০। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওরাসকম টেলিকম সেবা টেলিকমের ১০০% শেয়ার কিনে নেয়। এরা ৬০ মিলিয়ন ডলার মূলধন বিনিয়োগ করে এবং টেলিফোন ব্র্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে রাখে বাংলালিংক। ২০০৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলালিংক নামে এরা পুনরায় যাত্রা শুরু করে। বাংলালিংকের লাইসেন্স ১৫ বছর মেয়াদী। শুরুতে বাংলালিংকের ডোরা কাটা লোগোর নিচের ছোট হরফে ‘An ORASCOM TELECOM company’ লেখা থাকলেও ভিম্পেলকম ওরাসকমের দায়িত্ব নেয়ার পর গত বছর লোগো থেকে ওই অংশটি সরিয়ে ফেলা হয়। ওরাসকম টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড (বাংলালিংক) সম্পূর্ণরূপে মিসরীয় কোম্পানি ওরাসকম টেলিকম হোল্ডিং এস.এ.ই (ওটিএইচ)-এর মালিকানাধীন। ২০০৫ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলালিংক বাংলাদেশে তার সেবা কার্যক্রম চালু করার সাথে সাথেই এর সাফল্য টের পাওয়া যায়। রাতারাতিই মোবাইল টেলিফোন সেবা বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। বাংলালিংক-এর এই সাফল্যের পিছনে ছিল খুবই সাধারণ অভিযান-মোবাইল টেলিফোন সেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা, যা ছিল কোম্পানির কর্মকৌশলের অন্যতম ভিত্তি। বাংলালিংক মোবাইল ফোনকে বিলাসী পণ্য থেকে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত করে এবং বাংলাদেশের সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দেয় এবং সেইসঙ্গে এদেশের আপামর জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। মোবাইল ফোন বাংলাদেশের যে কোন ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠে। এই ইতিবাচক পরিবর্তন বাংলালিংক কর্তৃক আরোপিত বৈশিষ্ট্য যা পরবর্তীতে কোম্পানিটির করপোরেট পজিশনিং হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠে। যেখান স্লোগান তৈরি হয় “making a difference” বা দিনবদল। “making a difference” বা “দিনবদল” শুধু টেলিকম ক্ষেত্রে নয়, এর পণ্য এবং সেবার মাধ্যমে তার গ্রাহকদের জীবনেও। এই “making a difference” বা “দিনবদল” করপোরেট অবস্থানটি বাংলালিংক-এর প্রতিটি পদক্ষেপে ও কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলালিংকের গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ১.০৩ মিলিয়ন। পরবর্তী বছরে এ সংখ্যা ২৫৩ শতাংশ বেড়ে দাড়ায় ৩.৬৪ মিলিয়ন গ্রাহকে। ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে বাংলালিংক বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারী মোবাইল ফোন সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিটিবি সংযোগ থেকে মোবাইল ফোনে বিনামূল্য টেলিফোন কল ধরার সুযোগ করে দেয়। ২০০৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ৬.০৪ মিলিয়নে। ৭১ লাখেরও বেশি গ্রাহক নিয়ে ডিসেম্বর ২০০৭-এর মধ্যে বাংলালিংক গ্রাহকসংখ্যায় তৎকালীন একটেল (বর্তমানে রবি)কে পিছনে ফেলে পরিণত হয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে। ২০১২ সালের জুন মাস পর্যন্ত এর গ্রাহক সংখ্যা হয় ২.৫ কোটির উপরে যা দেশের মোট মোবাইল ব্যাবহারকারীর ২৭.১৮ শতাংশ। বর্তমানে বাংলালিংক-এর গ্রাহকসংখ্যা ২ কোটি ৯৩ লাখ।