ছবি সংগৃহীত
হ্যান্ডস-অন রিভিউঃ Walton Primo R4+ - সাশ্রয়ী বাজেটে ৩ গিগাবাইট র্যাম
আপডেট: ২৫ মে ২০১৬, ১০:১৩
(প্রিয় টেক) স্মার্টফোনে স্মুথ পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো র্যাম। ফোনে অধিক র্যাম থাকা মানেই অধিক স্মুথ পারফরম্যান্স। তবে অধিক র্যামের স্মার্টফোনসমূহের মূল্য অধিক হওয়ার কারণে অনেক ক্রেতার সাধ থাকলেও সাধ্য হয়না! কিন্তু বর্তমানে ওয়ালটন ও অন্যান্য কিছু কোম্পানীর হাত ধরে এই দৃশ্যপটে পরিবির্তন আসতে শুরু করেছে! এই যেমন চলতি বছরের শুরুর দিকেও ১৫ হাজার টাকায় ৩ গিগাবাইট র্যামের স্মার্টফোন পাওয়া যেতোনা! অথচ এখন এই বাজেটে ৩ গিগাবাইট র্যামের একাধিক স্মার্টফোন মিলছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো Walton Primo R4+
মাত্র ১২,৯৯০ টাকা দামের এই ফোনের বিভিন্ন আকর্ষণীয় ৫ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লেবিশিষ্ট এই ফোনে আরও আছে ৬৪ বিট কোয়াডকোর প্রসেসর, ১৬ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ, ফোরজি সুবিধা, এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত রেয়ার ক্যামেরা, BSI সেন্সরযুক্ত ফ্রন্ট ক্যামেরা প্রভৃতি। এই ফোনের ক্যামেরায় প্রফেশনাল মুডের পাশাপাশি আরও আছে আলট্রা পিক্সেল মুড, যার সাহায্যে ৪০ মেগাপিক্সেলে ছবি তোলা সম্ভব। এসবের পাশাপাশি ২,৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপের জন্য আছে এক্সট্রিম পাওয়ার সেভিং মুড, যা ব্যবহার করে মাত্র ১০% চার্জ নিয়েও অনায়াসে বেশ কয়েক ঘন্টা চালিয়ে নেওয়া যায়। ওয়ালটনের নতুন ফোন Primo R4+ এর বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইন, ইউজার ইন্টারফেস, ব্যাটারি ব্যাকআপ, গেমিং পারফরম্যান্স, বেঞ্চমার্ক স্কোর, ক্যামেরা পারফরম্যান্স প্রভৃতির বিশ্লেষণধর্মী তথ্য নিয়ে প্রিয়টেকের এবারের আয়োজন Walton Primo R4+ এর Exclusive Hands-on Review
চলুন তাহলে রিভিউয়ে শুরুতে একনজরে Primo R4+ এর উল্লেখযোগ্য ফিচারসমূহ দেখে নেওয়া যাক-
- অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপ অপারেটিং সিস্টেম
- গরিলা গ্লাস ৪ সমৃদ্ধ ৫ ইঞ্চির আইপিএস ডিসপ্লে
- ১.৩ গিগাহার্টজ গতির কোয়াডকোর প্রসেসর
- ৩ গিগাবাইট র্যাম
- মালি T720 জিপিউ
- ৮ মেগাপিক্সেলের রেয়ার ক্যামেরা
- ৫ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা
- এলটিই সুবিধা
- ওটিজি সাপোর্ট
- ২,৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি
বিস্তারিত রিভিউ শুরু করবো Primo R4+ এর Unboxing দিয়ে-
আনবক্সিং: Primo R4+ কেনার পর আপনি এর সাথে যা যা পাবেন-
- চার্জার অ্যাডাপ্টার
- ডাটা ক্যাবল
- ইয়ারফোন
- ইউজার ম্যানুয়াল
- ওয়ারেন্টি কার্ড
- ওটিজি ক্যাবল
অপারেটিং সিস্টেম: Primo R4+ ফোনটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপ ব্যবহার করা হয়েছে। আর OTA আপডেট ফিচারের কারণে ভবিষ্যতে আপডেট পাওয়ার সুযোগ তো থাকছেই।
বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইনঃ পিউর মেটালিক ডিজাইনের প্রিমো R4+ সহজেই ক্রেতাদের নজর কাড়তে সক্ষম। ২.৫ ডি কার্ভ গ্লাসের কারণে ফোনটি ধরলে আলাদা এক অনুভূতি হয়। ফোনটির পেছনের দিকে উপরের অংশে আছে ক্যামেরার লেন্স ও ফ্ল্যাশলাইট আর নিচের দিকে স্পিকার।
এর সামনের দিকে উপরের অংশে আছে ফ্রন্ট ক্যামেরা, প্রক্সিমিটি সেন্সর আর নোটিফিকেশন লাইট। আর নিচের দিকে আছে অপশন, হোম ও ব্যাক বাটন।
ফোনটির ৩.৫ মিলিমিটার অডিও পোর্টটি রয়েছে উপরের দিকে আর ইউএসবি পোর্ট রয়েছে নিচের দিকে। Primo R4+ এর ভলিউম কী ও পাওয়ার কী একপার্শ্বে আর সিম ট্রে অন্যপার্শ্বে দেওয়া হয়েছে। ১৪৪.২ মিলিমিটার উচ্চতার এই ফোনটি প্রস্থে ৭১.৫ মিলিমিটার আর এর পুরুত্ব ৮.১ মিলিমিটার। ব্যাটারিসহ এই ফোনের ওজন ১৪৯ গ্রাম।
ডিসপ্লে: এই ফোনে ৫ ইঞ্চির সুপার আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, আর এর ডিসপ্লের রেজ্যুলেশন ১২৮০x৭২০ পিক্সেল ও পিক্সেল ডেনসিটি ২৯৪ পিপিআই। এই ফোনের ডিসপ্লের নিরাপত্তায় গরিলা গ্লাস ৪ ব্যবহৃত হয়েছে।
ইউজার ইন্টারফেস: Primo R4+ এ কাস্টোমাইজড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হওয়ায় এতে কোন আলাদা অ্যাপ ড্রয়ার নেই। দেখে নিন ফোনটির ইউজার ইন্টারফেস-
এছাড়া এই ফোনে আপনি বিভিন্ন ধরণের থিম ব্যবহারের সুবিধাও পাবেন:
সিপিউ ও চিপসেট: ১.৩ গিগাহার্টজ গতির কোয়াডকোর প্রসেসরের Walton Primo R4+ এ মিডিয়াটেকের ৬৪ বিট চিপসেট MT6735 ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে এই ফোনে মাল্টিটাস্কিং, এইচডি গেমিং প্রভৃতি বেশ স্মুথলি করতে পারবেন।
জিপিউ:
চিপসেটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই ফোনে মালি T720 জিপিউ ব্যবহৃত হয়েছে।
স্টোরেজ: Primo R4+ ফোনটিতে ১৬ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরীর পাশাপাশি আছে ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত এক্সটারনাল মাইক্রো-এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা। এছাড়া এতে OTG সুবিধা থাকায় এতে পেনড্রাইভ, এক্সটারনাল হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন ধরণের ইউএসবি ড্রাইভ ব্যবহার করার সুযোগ তো থাকছেই!
র্যাম: এই ফোনে থাকা ৩ গিগাবাইট র্যামের মধ্যে বুট আপের পর ২ গিগাবাইট ফাঁকা থাকে।
ক্যামেরা: Primo R4+ এ আছে BSI সেন্সর ও এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত ৮ মেগাপিক্সেল রেয়ার ক্যামেরা। এতে BSI সেন্সর থাকায় আপনি অনায়াসেই বেশ ভালো ছবি তুলতে পারবেন। এর ক্যামেরায় প্রফেশনাল মুড আর আলটার পিক্সেল মুড এর উপস্থিতি ফোনটিকে অনন্যতা দান করেছে। আর সেইসাথে অটোফোকাস, টাচ ফোকাস, প্যানোরোমা, ডিজিটাল জুম, সেলফ-টাইমার প্রভৃতি ফিচার তো থাকছেই। দেখে নিন Primo R4+ এর ক্যামেরা ইন্টারফেস ও সেটিংস-
চলুন বিভিন্ন সময় ও মুডে Primo R4 এর ক্যামেরায় তোলা কিছু ছবি দেখে নেওয়া যাক-
আপনি যদি সেলফি তুলতে ভালোবাসেন কিংবা ভিডিও কলিং করতে চান, সেক্ষেত্রে এই ফোনে পাচ্ছেন BSI সেন্সরযুক্ত ৫ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা।
মাল্টিমিডিয়া: ৩.৫ মিলিমিটারের অডিও জ্যাকসম্পন্ন এই ফোনের সাথে যে হেডফোনটি দেওয়া হয় তার সাউন্ড কোয়ালিটি ভালো লাগার মতোই। চলুন, তাহলে এবারে এই ফোনটির Audio প্লেয়ারের ইন্টারফেস দেখে নিই-
এই ফোনে আরো আছে এফএম রেডিও, সে সাথে থাকছে এফএম রেডিও রেকর্ডার। ফলে আপনি আপনার পছন্দের কোন রেডিও প্রোগ্রাম অনায়াসেই রেকর্ড করতে পারবেন।
অডিও এর কথা তো গেলে, এবার আসা যাক ভিডিওর কথায়। ৬৪ বিট কোয়াডকোর প্রসেসরের এই ফোনে ১০৮০ পি ফুল এইচডি ভিডিও কোন ধরণের ল্যাগ ছাড়াই চলেছে।
গেমিং পারফরম্যান্স:
তরুণ প্রজন্মের স্মার্টফোন কেনার পেছনে গেমিংয়ের উদ্দেশ্যটাই মূখ্য ভূমিকা পালন করে। সেদিক থেকে অক্টাকোর প্রসেসর ও মালি টি৭২০জিপিউসমৃদ্ধ Primo R4+ এর গেমিং পারফরম্যান্স পছন্দসই। ৬৪বিট চিপসেট ও ৩ গিগাবাইট র্যামবিশিষ্ট এই ফোনে বিভিন্ন ধরণের এইচডি গেম বেশ স্মুথলি খেলা যায়। এই ফোনে নিড ফর স্পিড নো লিমিটস, গ্র্যান্ড থেফট অটো, হিরোস অব ৭১, ক্ল্যাশ রয়্যাল, ফিফা ১৬ প্রভৃতি জনপ্রিয় গেম কোন ধরণের ল্যাগিং ছাড়াই খেলা গেছে।

সেন্সর: ওয়ালটনের এই ফোনে অ্যাক্সিলেরোমিটার, লাইট, প্রক্সিমিটি প্রভৃতি সেন্সর বিদ্যমান।
সিম:
ডুয়েল সিম সুবিধার Primo R4+ এর উভয় স্লটেই থ্রিজি ও ফোরজি সুবিধা উপভোগ করা যায়।
রং:
গোল্ড, গ্রে ও রোজ গোল্ড- এই তিন রংয়ে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে Walton Primo R4+
কানেক্টিভিটি: এই ফোনে ফোরজি সুবিধার পাশাপাশি ব্লুটুথ ৪.০, ওয়াইফাই, ওয়্যারলেস হটস্পট প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে। আরও আছে জিপিএস, এ-জিপিএস, ডিজিটাল কম্পাস প্রভৃতি সুবিধা।
ব্যাটারি: ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের Primo R4+ এ ২,৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়েছে। ফুল চার্জ দিয়ে টানা ৩ ঘন্টা ইন্টারনেট ব্রাউজ ও এইচডি ভিডিও উপভোগ করার পর এর চার্জ ৫১% এ নেমে এসেছিলো। আর স্বাভাবিক ব্যবহারে অনায়াসেই একদিন চালিয়ে নেওয়া যায়। এছাড়া দীর্গস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপের জন্য এক্সট্রিম পাওয়ার সেভিং মুড তো আছেই!
ওটিজি:
ওয়ালটনের নতুন এই ফোনে রয়েছে OTG (USB On The Go) সুবিধা। ফলে ব্যবহারকারী এতে মাউস, কীবোর্ড, পেনড্রাইভ, এক্সটারনাল হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন ধরণের ইউএসবি ড্রাইভ ব্যবহার করতে পারবেন।
বেঞ্চমার্ক:
Primo R4+ এর বেঞ্চমার্ক স্কোর যাচাইয়ের জন্য বেঞ্চমার্ক যাচাইয়ের জনপ্রিয় অ্যাপ AnTuTu বেছে নেওয়া হয়েছিলো, যেখানে এর স্কোর এসেছে ৩৩,৫১৭; অন্যদিকে GeekBench এ এর স্কোর এসেছে ৬২৫ (সিঙ্গেল-কোর) ও ১৮৫৯ (মাল্টি-কোর)
বেঞ্চমার্ক যাচাইয়ের আরেক অ্যাপ NenaMark এ Primo R4+ এর স্কোর এসেছে ৬২
স্পেশাল ফিচার: এই ফোনের নানা স্পেশাল ফিচারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চাইল্ড মুড, মোবাইল সিকিউরিটি, সিস্টেম ম্যানেজার, সাসপেন্ড বাটন প্রভৃতি।
OTA আপডেট সুবিধা:
এই ফোনে OTA বা Over The Air আপডেট সুবিধা রয়েছে, যার ফলে পিসির সাথে সংযুক্ত করা ছাড়াই এর সফটওয়্যার আপডেট করা যাবে।
মূল্য: অধিক ফিচারের স্মার্টফোন আনার ক্ষেত্রে কেবল ফিচারের দিকে মনোযোগ নয়, বাজেটটাও যেনো থাকে ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে সেটিও খেয়াল রাখা বাঞ্চনীয়। অধিক র্যাম, নজরকাড়া ডিজাইন ও আকর্ষণীয় সব ফিচারসম্পন্ন Walton Primo R4+ এর দাম ক্রেতাদের সাধ্যের কথা বিবেচনা করে মাত্র ১২,৯৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।
Primo R4+ এর ভালো লাগার দিকসমূহ-
- ৩ গিগাবাইট র্যাম
- সাশ্রয়ী মূল্য
- মেটালিক ডিজাইন
- ক্যামেরায় আলট্রা পিক্সেল মুড
- BSI সেন্সরযুক্ত ফ্রন্ট ক্যামেরা
- ফোরজি সুবিধা
Primo R4+ এর সীমাবদ্ধতা: প্রযুক্তিজগতে কোন কিছুই হয়তো স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় ! আর তাইতো Primo R4+ এ চমৎকার ডিজাইন ও দারুণ সব ফিচারের সমন্বয় ঘটলেও মাত্র ২,৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারিকে খানিকটা সীমাবদ্ধতা মনে হয়, এর ব্যাটারি আরেকটু বেশি হলে আরও অধিক ব্যাকআপ পাওয়া যেতো।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: সাশ্রয়ী বাজেটে অধিক র্যাম, চমৎকার ডিজাইন ও ভালো ফ্রন্ট ক্যামেরাযুক্ত ফোন কিনতে চাইলে Primo R4+ সহজেই আপনার পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে নিতে পারে।
প্রিয় পাঠক, Primo R4+ সম্পর্কে আপনাদের মূল্যবান প্রশ্ন কিংবা মন্তব্য লিখুন কমেন্টে। নতুন কোন স্মার্টফোনের হ্যান্ডস-অন রিভিউ নিয়ে আবারও দেখা হবে আপনাদের সাথে। সবাই ভালো থাকুন আর থাকুন প্রিয়টেকের সাথে