ছবি সংগৃহীত

শীত থেকে বাঁচতে ঘুমিয়ে পড়ে যারা!

সাবেরা খাতুন
লেখক
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০১৬, ১৮:১৯
আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৬, ১৮:১৯

ফটোসোর্স :  www.earthrangers.com

(প্রিয়.কম)- ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় অর্থাৎ শীতের দিনে সকালে ঘুম থেকে উঠা খুব কষ্টের, কিন্তু চিন্তা করবেন না কারণ আপনি একাই এমন নন। আসলে এমন কিছু প্রাণী আছে, যাদের পিতামাতারা যত জোরেই চিৎকার করুক না কেন তাদের ঘুম ভাঙ্গেনা, বরং তারা সারাটা শীত ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেয়। যখন জীবজন্তুর জন্য পরিবেশ খুবই প্রতিকূল আকার ধারণ করে তখন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য তাদের একটা উপায় বাহির করতে হয়। কিছু প্রাণী পরিবেশের এই প্রতিকূলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চলে যায়। পরিবেশ অনুকূল হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা নিষ্ক্রিয় অবস্থাতেই থাকে। যদি এই নিষ্ক্রিয় অবস্থা শীতের সময় দীর্ঘদিন যাবত থাকে তবে তাকে হাইবারনেশন বা শীতনিদ্রা বলে। কিন্তু এটা যদি গরম কালে হয় তাহলে তাকে এস্টিভেসন বা গ্রীষ্মনিদ্রা বলে। আসুন তাহলে জেনে নেই শীতনিদ্রায় যায় এমন কিছু প্রাণীর কথা।

১। অ্যাল্পাইন মারমোটস বা পর্বত মূষিক

অ্যাল্পাইন মারমোটস এর বৈজ্ঞানিক নাম Marmota marmotএরা ৮ মাসের জন্য শীতনিদ্রায় যায়। বাকী চার মাস তারা তাদের বাচ্চার লালনপালন এবং পরবর্তী শীতনিদ্রার জন্য প্রস্তুতিতে ব্যাস্ত থাকে। শীতনিদ্রার সময়ে তারা মিনিটে মাত্র ২-৩ বার শ্বাস আদান প্রদান করে। তাদের স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন মিনিটে ১২০ বার। কিন্তু শীতনিদ্রার সময়ে এটা ধীর হয়ে মিনিটে ৩-৪ বার হয়।

২। বাদুড়

যখন বাদুড় একা থাকে তখন তারা দীর্ঘ সময় শীতনিদ্রায় কাটিয়ে দেয়। বনে বড় বাদামী বাদুড় ৬৪-৬৬ দিন শীতনিদ্রায় থাকে, এমনকি তারা ৩৪৪ দিন পর্যন্ত শীতনিদ্রায় থাকতে পারে। এই ছোট্ট প্রাণীটির না খেলেও চলে তবে তারা পান করার জন্য জাগে। শীতনিদ্রার সময়ে তাদের হৃদস্পন্দন ১০০০ বিট থেকে কমে মিনিটে ২৫ বার হয়। কিন্তু কিছু বাদুড় আছে যারা ঘন্টায় মাত্র ২ বার শ্বাস গ্রহণ করে।

৩। ভ্রমর বা ভোমরা

যখন তাপমাত্রা কমে যায় তখন পুরুষ ও কর্মী মৌমাছি একে একে মরে যায়। কিন্তু রানী মৌমাছি বা ভোমরা শীতনিদ্রার মাধ্যমে টিকে থাকে। সে মাটির গর্তে, পচা বৃক্ষের গোঁড়ায়, ছড়ান পাতা বা খড়ের নীচে শীতনিদ্রায় যায়। সে ৬-৮ মাস পরে শীতনিদ্রা থেকে জেগে উঠে গা গরম করে এবং একটি ভালো জায়গা খুঁজে বাসা তৈরি করে ও একটি নতুন দল তৈরি করে।

৪। গাটার সাপ

রানী মৌমাছির মত একা একা শীতনিদ্রায় যায়না গাটার স্নেক, এরা দলবেঁধে শীতনিদ্রায় যায়। কানাডায় শীতের তীব্রতা অনেক বেশি হয় বলে সেখানে শত শত বা হাজার হাজার সাপ একত্র হয় উষ্ণতার জন্য। যখন বসন্ত আসে এবং বরফ গলতে শুরু করে তখন শীতের আবাস থেকে তারা বাহির হয়ে আসে রোদ পোহানোর জন্য।

৫। ভালুক

চার প্রজাতির ভালুক শীতনিদ্রায় যায়, এরা হল- আমেরিকান ব্যাক বিয়ার, এশিয়াটিক কালো ভালুক, ব্রাউন ভালুক এবং মেরু ভালুক। এই লোমশ স্তন্যপায়ী প্রাণীটি প্রকৃত অর্থে শীতনিদ্রায় যায়না কারণ তাদের শরীরের তাপমাত্রা শুধুমাত্র কিছুটা কমে যায় এবং তারা যেকোন মুহূর্তেই জেগে উঠতে পারে। আসলে শীতনিদ্রার সময়েই গর্ভবতী মা ভালুক বাচ্চা দেয়। সত্যিকার ভাবেই শীত নিদ্রায় যাওয়া প্রাণীদের মতোই ভালুকের হার্ট বিট কমে যায় এবং তারা বেশ কিছুদিন না খেয়ে কাটিয়ে দিতে পারে। শীত নিদ্রার সময় কালো ভালুকের হার্ট বিট মিনিটে ৪০-৫০ বার থেকে কমে ৮ বার হয় এবং তারা না খেয়ে ও না পান করে ১০০ দিন টিকে থাকতে পারে।

৬। সজারু

কাঁটাচয়া বা সজারু গভীর হাইবারনেশনে যায়। কেউ কেউ সারা শীত ঘুমিয়ে কাটায়। এদের শরীরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং খুব কম শ্বাস নিতে দেখা যায়।  এদের শরীরে বিশেষ কোষ থাকে যা ২০ গুন বেশী দ্রুত তাপ কমাতে পারে। যদি তাপমাত্রা খুব বেশী কমে যায় তাহলে হার্ট বিট বেড়ে যায় তাপ দেয়ার জন্য ফলে এরা কিছু সময়ের জন্য জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পরে।

৭। কাঠ ব্যাঙ

যদি আপনি হিমায়িত কোন কাঠ ব্যাঙ বা উড ফ্রগ দেখেন যার উপরে বরফ জমাট বেঁধে আছে এবং কোন নিঃশ্বাস ছাড়ছেনা বা হৃদস্পন্দন নেই তাহলে হয়তো ভাববেন ব্যাঙটি মারা গেছে কিন্তু না, এটা সম্ভবত হাইবারনেশনে আছে। এরা গাছের গুড়ি, গর্ত, শিলা বা পাতার নীচে শীতনিদ্রায় যায়। শীতের সময় তারা যখন শীত নিদ্রায় যায় তখন তাদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ থাকে, হার্ট বিট বন্ধ হয়ে যায় এবং রক্ত  বরফের ন্যায় জমাট বাধে। গরমের সময়ে বরফ গলে যায় এবং তাদের ফুসফুস ও হৃদপিণ্ড কাজ করা শুরু করে।

এছাড়াও আমেরিকার নিশাচর পাখি কমন পুওরউইল ৫ মাস শীতনিদ্রায় কাটায়, মোটা লেজের বামন লেমুর ৭ মাসের জন্য হাইবারনেশনে যায়, কমন বক্স কচ্ছপ ৭৭ দিন বা ১৫৪ দিন শীতনিদ্রায় থাকে, কোন কোন শামুক সারা বছর শীতনিদ্রায় থাকতে পারে, কাঠ বিড়ালী মাটির নীচে ঘর বানিয়ে শীত নিদ্রায় যায় এবং কেউ কেউ ৯ মাস শীতনিদ্রায় কাটায়।               

লিখেছেন-

সাবেরা খাতুন

ফিচার রাইটার, প্রিয় লাইফ

প্রিয়.কম