ছবি সংগৃহীত

লোকবাদ্যযন্ত্র মাদল

nusrat jahan champ
লেখক
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ১৩:৩৩
আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ১৩:৩৩

মাদল Membranophonic Sound Striking Type শ্রেণীর লোকবাদ্যযন্ত্র। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, রাজশাহী সাঁওতাল সমাজ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সমাজে মাদলের ব্যবহার দেখা যায়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকগীত, ধর্মীয় সঙ্গীত ও ব্রতচারী সঙ্গীতে মাদলের ব্যবহার যেন না হলেই নয়! এছাড়া নাচনিনাচ, করমনাচ, পাতানাচ, ছৌনাচ ইত্যাদি লোকনৃত্যের সাথে এবং ঝুমুর সঙ্গীতের সাথে মাদল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মাদল গোলাকার কাঠের ফাঁপা খোল দিয়ে তৈরি করা হয়। দেখতে লম্বাটে এবং দৈর্ঘ্যে প্রায় দেড় হাত। দু প্রান্তের খোলা মুখ দুটোতে চামড়ার ছাউনি লাগানো থাকে। চামড়ার ছাউনিগুলো দুটো চাক্ বা চামড়ার বিনুনির সাথে আটকানো থাকে। চাক্ দুটোকে দু প্রান্তে চামড়ার রশি দিয়ে টানা দেয়া থাকে। গোলাকার ছাউনিযুক্ত বলে মাদলকে আনদ্ধ বাদ্যযন্ত্র বলে। কারণ, যেসব বাদ্যযন্ত্রের মুখ চামড়া দিয়ে আচ্ছাদিত থাকে সেসব বাদ্যযন্ত্রকে আনদ্ধ বাদ্যযন্ত্র বলে। মাদল শুধু আদিবাসীরা নন, গ্রামাঞ্চলের সঙ্গীতজ্ঞরাও ব্যবহার করেন। মাদলের খোল কাঠের তৈরি হলেও পোড়ামাটি খোলও অনেকে ব্যবহার করেন। পোড়ামাটির তৈরি খোলের দুপাশে চামড়ার আচ্ছাদন দেয়া হয়। পোড়ামাটির তৈরি খোল লালচে বা মেটে রং দিয়ে পালিশ করা হয়। মাদলের ধিতাং ধিতাং বোল বাজানো হয় নানাভাবে। মাদলের দু প্রান্তে দড়ি বা রশি লাগিয়ে গলায় ঝুলিয়ে অনেকে বাদ্য বাজান। অনেকে মাটিতে মাদলটি শুইয়ে রেখে দুহাতে দুদিকে চাটি মেরে বাদ্য বাজান। বাংলাদেশের বিভিন্ন লোকসঙ্গীত, মরমী সঙ্গীত, লালন সঙ্গীত এবং ধর্মসঙ্গীতে মাদলের ব্যবহার দেখা যায়। আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সাঁওতাল ও ওঁড়াওরা তাদের উত্‍সবে মাদল বেশি ব্যবহার করে। বিশেষ করে সাঁওতালি গান ও নাচের তাল হিসেবে মাদলে বাজানো হয় 'ধিতাং ধিতাং' বোল। মাদলের বাজনা অবিরত রাখার জন্য পালাক্রমে বাদ্যযন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। ওঁড়াওরা ভাদ্র মাসের শেষ আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের উত্‍সবে সারা রাত মাদল বাজায়। আরেক ধরনের মাদল দেখতে পাওয়া যায়, যার নাম হলো 'নাল', এর খোল কাঠের তৈরি। খোলের এক প্রান্তের মুখ চওড়া ও আরেক প্রান্তের মুখ সরু বা চিকন। নালের মুখগুলোও চামড়ার ছাউনিতে ঢাকা থাকে।