ছবি সংগৃহীত
মিশরীয় পুরাণ: সূর্য দেবতা রা
আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০১৪, ০২:২৬
(প্রিয়.কম) সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা হলো মিশরীয় সভ্যতা। নীলনদ আর পিরামিডের দেশ মিশর। নীলনদের তীরে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে। আর টিকে ছিলো ৩২৩ খৃস্ট পূর্বাব্দে গ্রীক সম্রাট আলেক্সোন্ডারের আক্রমনে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। মিশরের উপর পুরাতত্বের শাখার নাম Egyptology. মিশরের বিশাল পিরামিড, মন্দির, ওবেলিস্ক বা স্ফিংসের মূর্তির রহস্য আজো উন্মোচিত হয়নি। তবে ধারণা করা হয় আদিম প্রস্তর যুগ থেকেই নীলনদের তীরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল স্থায়ী বসতি। মিশর তখন এখকার মতো মরুভূমি ছিলো না। চাষাবাস আর পশুপালন সমাজের উদ্ভব ঘটে নীলনদের তীরে। সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস শুরু হলো। উৎপাদ ও বন্টন শেষে উদ্বৃত্তের কারণে এলো অবসর। সাথে এলো রীতিনীতি আর বিশ্বাস। মনে প্রশ্ন জাগলো বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি, মৃত্যু এবং জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে। এভাবেই জন্মনেয় ধর্মীয় বিশ্বাস। অলৌকিক ক্ষমতায় বিশ্বাস থেকে জন্ম নেয় দেব দেবতা। সমাজের বিবর্তন আর সভ্যতার বিকাশের সাথে ধর্মের সম্পর্ক গভীর। প্রাচীন মিশরীয়রা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের চিহ্ন রেখে গেছেন পাথরে গায়ে, সমাধি ক্ষেত্রে, গড়েছিলেন দেবতাদের মূর্তি আর মন্দির। প্রাচীন মিশরে ২০০০ এরও বেশি দেব দেবী ছিলো বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। স্থান ও কালের পার্থক্যে দেবতাদের শ্রেষ্ঠত্ব ছিলো ভিন্ন। এদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন মিশরীয় রাজা বা ফারাও যারা পরবর্তীতে দেবতার আসনে অধিষ্ঠিত হন। দেবতাদের কেউ কেউ ছিলেন ক্ষতিকর। উল্লেখযোগ্য দেবতারা ছিলেনঃ- রা(Ra), তাহ(Ptah) ওসিরিস(Osiris), আইসি্স(Isis) হোরাস(Horus), সেথ(Seth), হাথর(Hathor), আনুবিস(Anubis), থথ(Toth), আটেন(Aten), আমুন(Amun), বাস্তেত(Bastet)। রা (Ra): সূর্যের দেবতা ছিলেন রা। প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করতো জীবনের প্রতিচ্ছবি হলো সূর্য। মানুষের জন্ম, মৃত্যু এবং পুর্নজন্ম হচ্ছে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং পুনরায় সূর্যোদয়। রা দেবতা মাথায় বয়ে নিয়ে বেড়াত সূর্যের চাকতি যাকে ঘিরে রাখতো একটা পবিত্র গোখরা। তার মুখ ছিলো বাজ পাখির মতো। কারণ তিনি ছিলেন দেবতাদের প্রধান। তাঁর অবস্থান ছিলো অনেক উপরে। উড়ন্ত বাজপাখি যেমন মাটি থেকে অনেক উপরে বিচরণ করে, ‘রা’ও বিচরণ করতেন সকলের ঊর্ধ্বে। এই দেবতার প্রধান উপাসনা স্থল ইউনু বা হেলিওপোলিস (সূর্যনগরী)। রা দেবতা আবির্ভূত হতেন বিভিন্ন রূপে সকালে খেপরী, বিকালে আটুম কিংবা হোরাক্তি রূপে। গিজার স্ফিংসের মূর্তি হল হোরাক্তির প্রতিফলন।



- ট্যাগ:
- মানব সভ্যতা
- লাইফ
- সাহিত্য
- মিশরীয় পুরাণ