ছবি সংগৃহীত

নতুন বাংলা ইউনিকোড: আমার বর্ণমালা

এম. মিজানুর রহমান সোহেল
জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১২:১৭
আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১২:১৭

বাংলা একাডেমী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের সহযোগিতায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে নতুন বাংলা ইউনিকোড বর্ণমালা "আমার বর্ণমালা"। অমর একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপর প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে ক্লিক করে 'আমার বর্ণমালা' উদ্বোধন করবেন। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে নতুন বাংলা ফন্ট আমার বর্ণমালা উদ্বোধনের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই আমার বর্ণমালা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ফন্ট এবং ফন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে আমার বর্ণমালা ওয়েবসাইটে এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ সাইটেও আমার বর্ণমালা নিয়ে প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা চলছে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৩-এ একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম স্থাপিত ই-তথ্যকেন্দ্র থেকেও আমার বর্ণমালার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এখানে একটি ফরম দেওয়া আছে, যেখানে সবাই তাদের ইচ্ছামতো ফন্ট হাতে লিখে জমা দিতে পারবে। এখান থেকে পাওয়া ফন্ট নিয়ে আমার বর্ণমালার তৃতীয় ধরনটি নির্ধারণ করা হবে। 'আমার বর্ণমালা' ফন্টে মোট ৩ ধরনের ফন্ট থাকবে। এর মধ্যে প্রথম দুটি দাপ্তরিক কাজের জন্য এবং অন্যটি হাতে লেখার আদলে সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য ফন্ট। এরই মধ্যে দুটি ফন্ট নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় ফন্টটি প্রস্তুতের উদ্দেশ্যে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে ও অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়া হয়েছে। ফন্ট প্রস্তুত ও প্রমিতকরণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান ও ফন্ট বিশেষজ্ঞ জামিল চৌধুরী। এ ছাড়া ফন্টের নান্দনিক বিষয়গুলো তত্ত্বাবধান করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাইমা হক ও একই বিভাগের শিক্ষক মাকসুদুর রহমান। ডিজিটাল বাংলা বর্ণমালার ইতিবৃত্ত: কম্পিউটারে ভাষা ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য ইউনিকোড সংকেত ব্যবস্থা উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৮৭ সালে। গঠিত হয় ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসকারি পর্যায়ে কম্পিউটারের সার্বজনীন ব্যবহার শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের গোড়া থেকেই। তখন থেকেই বাংলা ভাষার জন্য একটি প্রমিত কোডিং মান, প্রমিত কীবোর্ডের প্রশ্নটি সামনে আসার কথা। বাস্তবতা হলো ২০০৩ সালের গোড়ার দিকে বাংলা ভাষার জন্য ইউনিকোড মান নির্ধারিত হয় মূলত ভারতের হাত ধরে এবং অসম্পুর্ণ ভাবে । কাজটি বাংলাদেশের হাত ধরে হয়নি কারণ বাংলাদেশে তখন ইউনিকোড কনসোর্টিয়ামের সদস্য ছিল না এবং সম্ভবত এ নিয়ে কেউ কখনো ভাবেননি। বাংলাদেশ ইউনিকোড কনসোর্টিয়ামের সদস্য হয়েছে ২০১০ সালের ৩০ জুন। আর বাংলাদেশে বাংলার জন্য সর্বশেষ ইউনিকোড মান গৃহীত হয়েছে ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে, ইউনিকোড সমর্থিত প্রমিত বাংলা কীবোর্ডের বিষয়টি এখনো ঝুলন্ত। কেননা, জানা যায়, ২০০৩ সালে একটি প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়ায় বাস্তবতা বিবর্জিত সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে একটি জাতীয় কীবোর্ড ও জাতীয় ফন্ট উন্নয়ন ও প্রমিত করা হয় যা কেউ ব্যবহার করে কিনা সন্দেহ আছে। ১৯৯০ সাল থেকে ২০১১ সাল একটি দীর্ঘ সময়। ২১ বছর। এ সময়ের মধ্যে অন্ততঃ ৪ টি সরকার পরিবর্তন ঘটেছে। ২১ বছরে কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহারের জন্য কোন স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলাফল স্বরুপ: গত এক দশকে কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম পর্যায়ে বাংলা ভাষার ব্যবহারের জন্য কোন ‍উল্লেখ যোগ্য উন্নয়ণ ঘটেনি এবং কাঙ্খিত ক্ষেত্রে আমরা বাংলা ব্যবহার করতে পারিনি এবং কিছু ক্ষেত্রে এখনো পারি না। আমাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়: এক. মাইক্রোসফটের উইনডোজ এক্সপি অপারেটিং সিস্টেম যা ২০০১ সালের ২৫ অক্টোবর প্রথমবার মার্কেটে আসে যা দিয়ে মাইক্রোসফট পরবর্তী সাত বছর কয়েকটি সার্ভিস প্যাক রিলিজের মাধ্যমে ব্যবসা চালিয়ে যায়- এতে কখনোই বাই ডিফল্ট বাংলা ভাষার জন্য ইউনিকোড সমর্থন যোগ করা হয়নি। আমাদেরকে ব্রাউজারে বাংলা দেখার জন্য সিস্টেম কনফিগার করতে হয়। এখানে তুলনা করুন একজন ইংরেজি ভাষা ভাষীকে কি কখনো তার নিজের ভাষা ব্রাউজারে পড়তে সিস্টেম কনফিগার করতে হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে আমাকে মোস্তফা জব্বার স্যার একবার অবশ্য বলেছেন, ”ইংরেজি ৭২ টি দেশের ভাষা, আর বাংলা দুটি দেশেরও নয়।” মানে বাংলার জন্য এমন ব্যবস্থার দরকার নেই? এখনো পর্যন্ত ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে আসকি কোডে লেখা বাংলা এক কম্পিউারের ফাইল অন্য কম্পিউারে নিলে তা আর আস্ত থাকে না। দুই. মাইক্রোসফটের উইনডোজ ভিসতা থেকে শুরু করে পরবর্তী অপারেটিং সিস্টেম উইনডোজ সেভেন-এ ডিফল্ট বাংলা স্ক্রিপ্ট সমর্থন যোগ করা হয়েছে। কিন্ত একটা মান সম্মত বাংলা ফন্ট ও ইনপুট পদ্ধতির অভাব থেকেই গেছে। এই দুই অপারেটিং সিস্টেমে বাংলার জন্যে যে ডিফল্ট vrinda ফন্ট যুক্ত করা হয়েছে তার দৃষ্টিমান খুবই জঘন্য। যদি এক্ষেত্রে একটি মান সম্পন্ন প্রমিত ফন্ট থাকতো এবং অপারেটিং সিস্টেম নির্মাতাদের তা যুক্ত করতে বাধ্য করা যেতো তাহলে কি এমন বাজে মানের বাংলা আমাদের দেখতে হতো? আমাদের জন্য ফন্ট ডেভলপ করার জন্য মাইক্রোসফট দায়বন্ধ নয়। তিন. লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউশনে গ্নোম ২.৮ থেকে ইউনিকোড বাংলা সমর্থন যোগ হলেও সিস্টেমে ব্যবহৃত ডিফল্ট ফন্ট ও কীবোর্ডের বিষয়টি ঝুলেই রয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে ডেভলপড লোহিত ফন্ট ব্যবহৃত হয় সেখানে। চার. পৃথিবী বিখ্যাত সব মুঠোফোনে (মনে রাখতে হবে স্মার্ট ফোনগুলো শুধুই ফোন নয়, একেকটা মিনি কম্পিউটার) অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর এবং ক্ষেত্র বিশেষে অনেক জটিল ভাষা প্রবেশ করেছে অন্তত এক দশক আগে। যেমন- ভিয়েতনামের ভাষা, ইন্দোনেশিয়ার ভাষা, থাইল্যান্ডের ভাষা, এমনকি জাপানি, চাইনিজ ভাষার মতো জটিল ভাষা। তাদের ফোনে তারা নিজেদের ভাষায় ব্রাউজ করতে পারে। আমরা আমাদের ভাষায় এসএমএসও করতে পারি না, ব্রাউজারে বাংলা পড়তে পারা তো আরো অনেক পরের ব্যাপার। এসব ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি সফটওয়্যার দিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সীমিত আকারে বাংলা পড়া বা লেখার কাজ করা যায় যা কখনোই কাঙ্খিত সমাধান হতে পারে না। রুঢ় সত্য হলো আমাদের প্রতিবেশীরা নিজেদের ভাষা মুঠোফোনে ব্যাবহারের যে সুবিধা অন্ততঃ এক দশক আগে থেকে পেয়ে আসছে তার জন্য আমাদের দেশে প্রমিত কোডিং মান ও কীবোর্ড নির্ধারণ করা হলো গত ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি! এতোবিধ সমস্যা আমাদের হতো না যদি আমরা এক দশক আগে বাংলার জন্য একটি প্রমিত কোডিং মান, একটি প্রমিত কীবোর্ড এবং একটি প্রমিত ফন্ট উন্নয়ন ও নির্ধারণ করতে পারতাম! তারপরেও অনেক বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে ডিজিটাল বাংলা বর্ণমালার জন্ম হয়েছে সেটাই বা কম কিসে? যে কারণে ইউনিকোড: কম্পিউটার কোনো ভাষা, বর্ণমালা বা অক্ষর বোঝে না। বোঝে শুধু সংখ্যা। প্রশ্ন হতে পারে, শুধু সংখ্যাই যদি বোঝে, তাহলে কম্পিউটারে 'অ', 'আ', 'ক', 'খ' লেখা হয় কী করে? কম্পিউটারে আসলে প্রতিটি অক্ষরের জন্য একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বরাদ্দ থাকে। আর লেখা দেখার জন্য প্রয়োজন হয় ফন্ট। ফন্টের কাজ হলো এই সংখ্যাকে ছবির মতো করে দেখানো। ফন্ট ফাইলে প্রতিটি সংখ্যার জন্য একটি করে অক্ষরের ছবি ম্যাপিং করা থাকে। সে জন্যই ফন্ট ফাইলটি ইনস্টল করা না থাকলে আমরা সেগুলো বাক্স আকারে দেখি। সাধারণত আমরা যেসব অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করি, তার বেশির ভাগই ইংরেজি ভাষায়। বর্তমানে কিছু মুক্ত অপারেটিং সিস্টেমে বাংলাও যুক্ত হয়েছে। তবে যেসব অপারেটিং সিস্টেমে বাংলা ফন্ট থাকে না, সেসব কম্পিউটারে বাংলা লেখা দেখায় না, ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষা ব্যবহার করতে গেলেই ঝামেলা শুরু হয়। এসব ঝামেলা থেকে মুক্তি দিতেই ইউনিকোড ফন্টের ব্যবহার শুরু হয়। ইউনিকোডের কাজ হলো, যেকোনো ভাষাকে কম্পিউটারের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা। এ কাজটি করে থাকে 'ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম' নামের প্রতিষ্ঠান। এটি একটি অলাভজনক সংস্থা। এর কাজ হলো, বিশ্বের প্রতিটি ভাষার প্রতিটি অক্ষরের জন্য একটি করে নম্বর প্রদানের মাধ্যমে একে কম্পিউটারের সঙ্গে পরিচিত করে তোলা। বাংলা ইউনিকোডের প্রয়োজনীয়তা: সাধারণ সফটওয়্যারের সাহায্যেও কম্পিউটারে বাংলা লেখা বা পড়া যায়। তবে প্রচলিত পদ্ধতিটি সহজ নয়। এক সফটওয়্যারে টাইপ করা বাংলা অন্য কোনো সফটওয়্যারে সম্পাদনা করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে আপনি কোনো ফাইলের বাংলা লেখা, পড়া বা সম্পাদনা করতে পারবেন না। কিন্তু লেখাটি ইউনিকোডে লেখা হলে, তা কম্পিউটারে যেকোনো ইউনিকোড ফন্ট ইনস্টল করা থাকলেই পড়তে পারবেন। ইন্টারনেটে কোনো তথ্য অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে ইউনিকোড খুবই জরুরি। এখন ইন্টারনেটে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায়ও ইউনিকোডভিত্তিক তথ্যসমৃদ্ধ সাইট আছে। এসব সাইট থেকে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় তথ্য খুঁজে বের করার কাজটি ইউনিকোড না থাকলে কখনোই সম্ভব হতো না। উল্লেখ্য, ইউনিকোড ছাড়াও বেশ কিছু বাংলা সাইট আছে, যা অনেক সহজে পড়া গেলেও এসব সাইট থেকে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে বাংলায় তথ্য খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। তাই হাতেগোনা কিছু পত্রিকার সাইট ছাড়া এখন ইন্টারনেটের প্রায় সব সাইটই ইউনিকোডভিত্তিক। বাংলায় ই-মেইল আদান-প্রদানের জন্য বা মেসেঞ্জারে চ্যাট করার জন্য ইউনিকোড বাংলা ফন্ট প্রয়োজন। অনেকে ইংরেজি কম বোঝার কারণে নিজের ভাষায় কম্পিউটার ব্যবহার করতে চান। এটি সম্ভব হচ্ছে ইউনিকোড ফন্ট থাকার কারণে। বাংলা ইউনিকোডের হালহকিকত: গত দুই দশকে বাংলা ফন্ট নিয়ে অনেক কাজ চলেছে। সরকারিভাবে না হলেও ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইউনিকোড ফন্ট তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রমতে, বাংলা ভাষায় ইউনিকোড আসে ২০০০ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে। তখন এটি ছিল ইউনিকোড ৩.০ সংস্করণ। প্রথম দিকে অনেক সমস্যা ছিল এই ফন্টে। এতে খণ্ড-ত (ৎ), ক্ষ, রেফ, য-ফলা, দাঁড়ি ইত্যাদি ছিল না। তাই এগুলো নিয়ে শুরু থেকেই ছিল বিস্তর বিতর্ক। এসব সমস্যার অনেকই এখন আর নেই। আমাদের দেশের বেশ কিছু তরুণ প্রযুক্তিবিদ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বাংলা ইউনিকোড টাইপিং এডিটর, ফন্ট ইত্যাদি উন্নত করে ইউনিকোড প্রযুক্তির বিকাশে ভূমিকা রাখছেন। তার এখনো পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ফন্টে বিভেদ থেকে গেছে। বিশেষ করে যুক্তাক্ষরের ক্ষেত্রে এ সমস্যা প্রধান। ২১ ফেব্রুয়ারি আসছে 'আমার বর্ণমালা': এমন বাস্তবতায় দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে বাংলা একাডেমীর নেতৃত্বে ইউনিকোড সুবিধাসংবলিত নতুন বাংলা ফন্ট 'আমার বর্ণমালা' তৈরি ও সকলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষা ও ফন্ট বিষয়ক গবেষণা, সংরক্ষণ ও বিকাশের দায়িত্বে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। বাংলা একাডেমীর নেতৃত্বে ফন্ট তৈরি, প্রমিতকরণ, প্রচারণা ও বিনা মূল্যে বিতরণের কাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিকস ডিজাইন বিভাগ কারিগরি ও একসেস টু ইনফরমেশন (এ টু আই) প্রোগ্রাম আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। উল্লেখ্য, গত ১২ নভেম্বর ২০১২ তারিখে বাংলা একাডেমি, গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ ও এটুআই এর মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ এর তত্ত্বাবধানে একদল বাংলা টাইপোগ্রাফার বাংলা বর্ণমালার একটি পূর্ণাঙ্গ সেট তৈরী করে। বর্ণমালার এই রূপ নির্মানে প্রাধান্য দেয়া হয় এর আদর্শিক আকার যা সাধারনত দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত। একই সাথে কারিগরী নির্মানের ক্ষেত্রে এর নান্দনিক বৈশিষ্ট যাতে লোপ না পায় সে লক্ষ্যে যেসব সীমাবদ্ধতা আছে তা দূর করা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তবর্ণের সহজীকরণ ও এর রূপ নির্দিষ্ট করণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এসব ব্যাপারে শুদ্ধতার দিকনির্দেশনা দিবে বাংলা একাডেমি। আর এই কার্যক্রমের আয়োজন, আর্থিক সহযোগিতা এবং বিতরণ সংক্রান্ত বাকি দিকগুলো দেখিয়েছে এটুআই।