(প্রিয়.কম) 'আড়ং' শুধুমাত্র একটি ফ্যাশন হাউজের নাম নয়, একটি ফ্যাশন আইকনের নাম। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিল তিল করে আড়ং আজ বাংলাদেশ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির প্রধানতম হাউজগুলোর অন্যতম জায়গা দখল করে রয়েছে। ১৯৮৭ সনে এনজিও প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক এর একটি মানবহৈতশী মূলক চিন্তাভাবনা থেকে এর জন্ম। ফজলে হাসান আবেদ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা। মূলত দেশের হস্ত ও কুটির শিল্পে জড়িত নারীদের কাজগুলোকে তুলে ধরাই আড়ংয়ের মূল উদ্দেশ্য।
ইতিমধ্যে বিশ্বের উন্নয়নশীল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আড়ং অন্যতম। আড়ং অর্থ ‘গ্রাম্য মেলা’। নামের মতোই গ্রাম্য সংস্কৃতিকেই আড়ং লালন পালন করে। তাই প্রথম থেকেই দেশের দারিদ্র দূরিকরণে আড়ং কাজ করে থাকে।

মূলত রেশমি কাপড় ও জামদানী কাপড়ের হস্তশিল্পীদেরকে কাজের নতুন জায়গা তৈরি করে দিতে আড়ং বাংলাদেশ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করে। যেখান থেকে দেশির বিভিন্ন গ্রামীণ হস্তশিল্পীরা তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবে। অল্পকয়েকজন গ্রাম্য হস্তশিল্পীদের বোনা কাপড় বিক্রি করতে গিয়েই আড়ং খুব দ্রুত দেশের সেরা ফ্যাশন হাউজে পরিণত হয়। এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় আড়ং এর ১৫টি শাখায় প্রায় ৩০০০ জন নারী কর্মী রয়েছেন। এবং সারা দেশে ছড়ানো প্রায় ৬৫০০০ হস্তশিল্পী তাদের কাজ দিয়ে আড়ং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। যাদের ৮০ শতাংশই নারী।
উন্নত মানের পণ্যে আড়ং বিশ্বাস করে, তাই হস্তশিল্পে অবদানের জন্য ২০০৬ ও ২০১২ সালে ইউনেস্কো অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয় আড়ং। বিদেশে বিভিন্ন মেলার মাধ্যমে আড়ং এর পণ্য এখন এশিয়া, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানী করা হয়।
এখানে মূলত মাটির ফুলদানি থেকে শুরু করে হীরার গহনা, রেশিমী ও কটন কাপড় এবং চামড়াজাত পণ্য বিক্রি করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা হস্তশিল্পের প্রতি ভালোবাসাই দেশের সেরা ফ্যাশন ব্র্যান্ড তৈরি হতে আড়ংকে সাহায্য করেছে।
বর্তমানে দেশের হস্তশিল্পকে বিশ্ব বাজারে তুলে ধরতে তারা অনলাইনে বিক্রি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নিয়ে মূলত বাংলাদেশি হস্তশিল্পকেই লালন করে যাচ্ছে। এখানে বাঁশ, বেত ও পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্যও পাওয়া যায়।

আড়ং সম্পর্কে এর মার্কেটিং হেড আব্দুর রউফ প্রিয়.কমকে বলেন, 'মূলত আড়ং ব্র্যাক এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। প্রথম থেকেই আড়ং দেশে নতুন ধরনের ভোক্তা তৈরি, দেশিও ফ্যাশনকে পেট্রোনাইজ ও রিটেইল চেইন শপের ধারনার পরিবর্তনে দেশিও পোশাক শিল্পে পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করে আসছে।
দেশিও পণ্য যেমন নকঁশীকাথা, ব্লক প্রিন্ট, জামাদানিসহ টোটাল ইন্ডাস্ট্রিতেই এই পরিবর্তন আড়ং এর হাত ধরে তৈরি হয়েছে। আড়ং একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এখানে হস্তশিল্পীরা সরাসরি তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারেন। আমরা সব সময়ই তাদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেই। ”
তিনি আরো বলেন, 'এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকার এই কম শিক্ষিত হস্তশিল্পীদেরকে ব্র্যাকের বিভিন্ন প্রোগ্রামের সঙ্গে এসোসিয়েট করিয়ে দেই, যাতে সেখান থেকে তারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে তা তাদের দৈনিন্দিন জীবনে কাজে লাগাতে পারেন। অর্থাৎ দেশের গ্রামগুলোর সার্বিক উন্নয়নেই আড়ং কাজ করে।'

কথা প্রসঙ্গে তিনি দেশের তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাজের ক্ষেত্র তৈরিতে আড়ং এর অবদানের কথাও বলেন। তিনি বলেন, 'দেশের শহুরে ফ্যাশনে গ্রামীণ আবহ তৈরিতে আড়ং সবসময়ই চেষ্টা করে যাচ্ছে। এখানে নারী ও বিভিন্ন ছাত্র-ছাত্রীদের পার্ট টাইম কাজের সুযোগ থাকে।'