ছবি সংগৃহীত

দুই সাগরের মিলন যেখানে

প্রিয় লাইফ
লেখক
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০১৪, ১০:০০
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৪, ১০:০০

(প্রিয়.কম) দারুণ রহস্যময় এই পৃথিবীতে কত কিছুই তো আমাদের অজানা, অচেনা। তবে প্রকৃতির এই রহস্যগুলো আছে বলেই আসলে জ্ঞানচর্চা বিকাশ ঘটেছে। অজানাকে জানার প্রচেষ্টা থেকেই আজকের এই মানব সভ্যতার বিকাশ। আসুন, আজ জানি আলাস্কার সেই দুই রঙা দুটি সমুদ্রের অনন্য সাধারণ মিলন সম্পর্কে। দুটি ভিন্ন রঙের পানি এই মিলনকে দিয়েছে রহস্যময়তা। নদী এবং সাগরের এ বৈশিষ্ট্য সবারই কমবেশি জানা। কিন্তু এদিক দিয়ে আলাস্কা উপসাগর আমাদের পূর্ব ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। আলাস্কা উপসাগরের ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে দুই ধরনের পানির স্রোতরেখা।

এক স্রোতরেখার পানির সঙ্গে আরেক পানি মেশে না। প্রশান্ত মহাসাগরের শাখা হচ্ছে আলাস্কা উপসাগর। এটি বয়ে গেছে আলাস্কার দক্ষিণ উপকূল ধরে। আলাস্কা পেনিনসুলা থেকে কোডিয়াক দ্বীপ পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। উপসাগরটির পূর্বে রয়েছে আলেক্সাজান্ডার আর্কিপেলাগো, যেখানে মিশেছে গ্লেসার নদী এবং তার অভ্যন্তরের স্রোতরেখা। উপসাগরটির তটরেখা প্রকৃতি যেন সাজিয়ে রেখেছে বন, উপত্যকা এবং হিমবাহের কঠিন সমন্বয়ে। আলাস্কা উপসাগরের সবচেয়ে বড় দুটি হিমবাহ হল দি মালাসপিনা হিমবাহ এবং বেরলিং হিমবাহ। দুটি হিমবাহ আলাদাভাবে পাশাপাশি বয়ে যাচ্ছে আলাস্কার ভেতর দিয়ে। একটি হিমবাহের সঙ্গে আরেকটি হিমবাহের কোনো সংযুক্তি নেই। দুটির পানি একত্রে মিশ্রিত হচ্ছে না। গভীর পানিতে অনেক ধরনের প্রবাল পাওয়া যায় এ উপসাগরে। প্রিমনোয়া প্যাসিফিকা নামের এক ধরনের প্রবালের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। গভীর পানির এ প্রবাল পাওয়া যায় সমুদ্রগর্ভের ৪৯০ ফুট থেকে ৩০০০ ফুট পানির মধ্যে। এ উপসাগর আমেরিকা অঞ্চলে ঝড় সৃষ্টিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। দক্ষিণ আলাস্কায় থাকা বিশাল বিশাল বরফের জন্য এ জায়গা ঝামেলাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ব্রিটিশ কলম্বিয়া, ওয়াশিংটন, ওরেগন এবং দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সৃষ্টি হওয়া ঝড়েরও উৎস এ উপসাগর। প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বৃষ্টিপাত এবং তুষারপাত এ উপসাগর থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকে। আলাস্কা উপসাগরে পানি না মেশার কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আলাস্কায় উপসাগরে দুটি মহাসাগরের সংযোগ ঘটেছে। কিন্তু তারা মিশে যায়নি। উপসাগরটির মাঝ বরাবর পানির প্রবাহ আলাদা হয়েই বয়ে যাচ্ছে । শুধু তাদের উপরে একটির সঙ্গে আরেকটি ঢেউয়ের সম্মিলন ঘটে। ফলে হিমবাহ গলে বিশুদ্ধ পানিতে রূপান্তরিত হয় এবং এ উপসাগরের পানিতে লবণের বড় ধরনের মিশ্রণ থাকে। দুটি মহাসাগরের পানির ঘনত্ব আলাদা। আর এ ভিন্ন পানির ঘনত্বের জন্য তাদের পানি আলাদাই থাকে, মেশে না। সূত্র- দৈনিক যুগান্তর ছবি- ইন্টারনেট