ছবি সংগৃহীত
ইবলিশ শয়তানকে আল্লাহ মহান বিতাড়িত বলে অভিশাপ দিয়েছিলেন কেন?
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০৫:২৮
আমরা যে সমাজে বসবাস করি, সে সমাজের বাসিন্দাদের সবাই সবদিক দিয়ে সমান নয়, সমান হতে পারে না। দৈহিক আকার-আকৃতি থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক অবস্থান, শিক্ষা-দীক্ষা, সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থান প্রভৃতি ক্ষেত্রে একের সঙ্গে অপরের বিস্তর ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। আর এ ব্যবধানকে আশ্রয় করে মানুষ নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলে ভেদাভেদের দেয়াল, যার প্রথম ধাপ হলো আত্মঅহঙ্কার। এ অহংকারই মানুষকে একসময় নিয়ে যায় চূড়ান্ত পতনের দিকে, যা সে টেরও পায় না। আর এ কারণেই গুণীজনরা অহংকারকে পতনের মূল বলে থাকেন। অবশ্য মানুষের অহংকারবোধের একটি কারণ হতে পারে তার ইচ্ছার স্বাধীনতা। এই ইচ্ছাবলেই সে ক্রমান্নতির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়াস পায়। তবে তার ইচ্ছা বা চেষ্টায় সফল হওয়ার বিষয়টিও কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণাধীন, যা আমরা বুঝতে পারি না বা বুঝেও বেশিরভাগ সময়ই ভুলে যাই। মানুষ যখন ইচ্ছাবলে চেষ্টা করে কোনো কাজে সফলতা লাভ করে, তখন সে ভাবতে শুরু করে সে-ই তার ভাগ্যনিয়ন্তা বা সে যা পারে অন্য কেউ তা পারে না। আর এভাবেই তার মনে বাসা বাঁধে আত্মম্ভরিতা। এ অহংকার পার্থিব জীবনে তাকে একসময় দলছুট করে দেয়। মহান আল্লাহ তায়ালা তো অহংকারীদের মোটেই পছন্দ করেন না। কোরানে কারিমে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ কোনো অহংকারীকে পছন্দ করেন না। সুরা লুকমান : ১৮ আল্লাহ তায়ালা অহংকারীকে শুধু অপছন্দই করেন না; বরং যথোপযুক্ত শাস্তিও প্রদান করেন যার প্রমাণ মানুষ তার সৃষ্টির সূচনালগ্নেই পেয়েছিল এবং সর্বকালের জন্য আমাদের কাছে তা শিক্ষণীয় হয়ে আছে। মাটি দিয়ে সর্বপ্রথম মানব হজরত আদমকে [আ.] সৃষ্টি করে আল্লাহ তায়ালা যখন ফেরেশতাদের বললেন আদমকে [আ.] সিজদা কর, ফেরেশতারা সে আদেশ পালন করলেও ইবলিশ অহংকারের বশবর্তী হয়ে সিজদা করা থেকে বিরত রইল। ফলে সে চির অভিশপ্ত হয়ে রইল। কোরানে কারিম ও হাদিসের বহু জায়গায় মানুষকে অহংকার করতে নিষেধ করা হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ইসলামের শিক্ষা সর্বদাই মানুষকে অকল্যাণ থেকে বাঁচিয়ে কল্যাণের দিকে ধাবিত করে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে বুঝতে বাকি থাকে না যে, ইসলামে নিষেধকৃত অহংবোধে অবশ্যই অকল্যাণ নিহিত রয়েছে। মাওলানা মিরাজ রহমান