ছবি সংগৃহীত
আমবাত বলে মনে হতে পারে ত্বকের এই ৫টি রোগ
আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৬, ১১:৫৫
ফটো সোর্স : health.howstuffworks.com
(প্রিয়.কম)- লাল হয়ে ফুলে যাওয়া বা ত্বকে অকস্মাৎ চুলকানি হওয়া এই লক্ষণ গুলো আমবাতের জন্য হতে পারে কিংবা ত্বকের অন্য কোন সমস্যার জন্যও হতে পারে। ত্বকের রোগ নিজে নিজে শণাক্ত করা সহজ কাজ নয়। এটা আরো অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায় যখন বিভিন্ন রোগের লক্ষণগুলো প্রায় একই রকম থাকে। উদাহরণ স্বরূপ আমবাতের কথা বলা যায়, যা সাধারণত তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদী এই দুই প্রকারের হয়। সাধারণত আমাদের শরীর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ায় হিস্টামিন নিঃসৃত করে। হিস্টামিন আমাদের শরীরের এমন একটি জৈব উপাদান যা শরীরের প্রদাহজনক প্রক্রিয়াকে উত্তেজিত করে। হাইভস বা আমবাতের ক্ষেত্রে হিস্টামিন রক্তনালী থেকে তরল বের করে দেয়, যার ফলশ্রুতিতে ত্বক ফুলে যায়। অ্যালার্জির কারণে আমবাত ও ত্বকের অন্য সমস্যার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করাটা কঠিন। এছাড়াও আমবাতের লক্ষণের সাথে ত্বকের অন্যান্য রোগের লক্ষণ গুলো প্রায় একই হয়।
আমবাত হওয়ার কারণ : অ্যালার্জির কারণে আমবাত হতে পারে। এছাড়াও শারীরিক ও পরিবেশগত কিছু কারণ যেমন- স্ট্রেস, তাপ, সূর্য রশ্মি অথবা পানি আমবাত সৃষ্টির কারণ। আমবাত সাধারণত হাঁটুর পেছনে, গোড়ালির চারপাশে, কব্জিতে, ঘাড়ে, বুকের উপরিভাগে, এমনকি চোখের চারপাশে ও চোখের পাতায় ও হয়।
উপসর্গ গুলো কয়েক ঘন্টা থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। অন্য যে রোগ গুলোর সাথে আমবাতের লক্ষণের মিল পাওয়া যায় সেগুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলে পার্থক্য করাটা সহজ হয়ে যায়। আসুন তাহলে সেই রোগ গুলো সম্পর্কে জেনে নেই।
১। হিট র্যাশ বা গরমের ফুসকুড়ি
ছোট শিশুদের ঘর্ম গ্রন্থি গুলো বড়দের মত উন্নত নয় বলে শিশুকে অনেক বেশি জামা কাপড় পরিয়ে ও প্রসাধন লাগিয়ে সূর্যের আলোতে নিলে হিট র্যাশ হতে পারে। প্রসাধন ও অতিরিক্ত জামা কাপড়ের কারণে ত্বকের ছিদ্র গুলো বন্ধ হয়ে যায় ফলে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। যদি শিশুর জামা কাপড় কমিয়ে ত্বক বাতাসে শুকানো হয় এবং ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় তাহলে কয়েকদিনের মধ্যেই এই র্যাশ অদৃশ্য হয়।
২। কন্টাক্ট ডারমাটাইটিস
কন্টাক্ট ডারমাটাইটিস দুই ধরণের হয়, যেমন-
· অ্যালারজ���ক কন্টাক্ট ডারমাটাইটিস – অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান যেমন- আগাছা, সুগন্ধি উপাদান, ধাতুর অলঙ্কার, বিষ, নিকেল ইত্যাদির সংস্পর্শে আসলে লাল ফুসকুড়ি, বাম্পস ও ফোসকা হতে পারে।
· ইরিটেন্ট কন্টাক্ট ডারমাটাইটিস – প্রসাধনী, সাবান, ডিওডোরেন্ট এবং গয়নার ইত্যাদি উপাদান ত্বকের সংস্পর্শে বেশি ঘষা লাগলে ত্বক লাল হয়ে শুকিয়ে ফেটে যায় এবং চুলকানি হয়।
আমবাতের সাথে কন্টাক্ট ডারমাটাইটিসের লক্ষণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। কারণ এদের বেশ কিছু লক্ষণ একই রকম। একমাত্র পার্থক্য হল আমবাত ত্বকের বিভিন্ন স্থানে হতে পারে। কিন্তু কন্টাক্ট ডারমাটাইটিস ত্বকের যে অংশে অ্যালার্জি বা যন্ত্রণা সৃষ্টি কারী উপাদান লাগে শুধুমাত্র সেখানেই হয়। এর নিরাময়ের সময়কাল ও আমবাতের মতই। আমবাতের মতই অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ঔষধ সেবন ও অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের সংস্পর্শ এড়িয়ে চললে ভবিষ্যতে এটি হওয়ার সম্ভাবনা কমে। যদি সমস্যাটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরণের হয় তাহলে আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা সেঁক দিলে ভালো হয়ে যায়।
৩। রোসাসিয়া
হাইবস এর মতই রোসাসিয়া ও একটি দীর্ঘ মেয়াদী ত্বকের রোগ এবং লক্ষণ ও অনেকটাই মিলে যায়। সাধারণত রোসাসিয়া হলে মুখের বিভিন্ন অংশে যেমন- কপাল, গাল, নাক ও চিবুকে ছোট ছোট লাল দানা দেখা যায়। আমবাত শরীরের বিভিন্ন স্থানে হয় অন্যদিকে রোসাসিয়া শুধুমাত্র মুখে হয়। রোসাসিয়া হওয়ার কারণ জানা যায়নি। এটার মূল সাধারণত বংশগতির উপর নির্ভর করে আবার পরিবেশগত ও হতে পারে। ব্যায়াম, অ্যালকোহল বা গরম খাবার খাওয়া, তাপ এবং চাপ এর প্রকোপ বৃদ্ধি করে। এর কোন সম্পূর্ণ চিকিৎসা নেই। তবে সাময়িক ও মৌখিক ঔষধ প্রভাব কমায়।
৪। একজিমা
যেকোন বয়সেই একজিমা হতে পারে। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুদের হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। বিশ্বের জনসংখ্যার ১০-২০% এর জীবনের কোন না কোন সময় এটি হতে দেখা যায়। সবচেয়ে সাধারণ একজিমা অ্যাটোপিক ডারমাটাইটিস যাকে প্রথম দর্শনে হাইভস বলে মনে হয়। লক্ষণের মিল থাকলেও পার্থক্য হচ্ছে একজিমা পুরোপুরি ভালো হয়না। একজিমার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে শুষ্ক ত্বক ও অতিরিক্ত কার্যকরী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এর জন্য দায়ী। যার ফলে প্রয়োজন ছাড়াও শরীর অ্যালারজিক রিঅ্যাকশন দেখায়। স্টেফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়াও এর সাথে সম্পর্কিত। যা লক্ষণের তীব্রতাকে বাড়িয়ে দেয়। এর চিকিৎসা ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। করটিকোস্টেরয়েড ক্রিম ও অ্যান্টি হিস্টামিন ঔষধ সেবন করে চুলকানি ও প্রদাহ কমান যায়। লাইট থেরাপিও কার্যকরী প্রভাব রাখতে পারে।
৫। পিটাইরিয়াসিস রোসিয়া
পিটাইরিয়াসিস রোসিয়ার লক্ষণ ও হাইভস এর লক্ষণের সাথে মিলে যায়। এটি হলে ত্বকের মধ্যে লাল প্যাচের মত দাগ দেখা যায়। এছাড়াও মাথাব্যথা, জ্বর, গলা শুকিয়ে যাওয়া ও নাক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। এটি বৃদ্ধি পেয়ে ছড়িয়ে গেলে পাইন গাছের মত দেখায়। এটির ও সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। সাধারণত আমবাতের মতই চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।
রক্ত ও অ্যালার্জি পরীক্ষার মাধ্যমে আমবাত সনাক্ত করা যায়। সঠিক ভাবে রোগ নির্ণয় ও সুচিকিৎসার মাধ্যমে হাইভস বা আমবাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
লিখেছেন-
সাবেরা খাতুন
ফিচার রাইটার, প্রিয় লাইফ
প্রিয়.কম