ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলএ’র মধুরহাঁড়িতে মিজান-নাজমুল

মানবজমিন প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০১ ০০:০০:০০

মধুরহাঁড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা (এলএ)। আর সেকারণেই বছরের পর বছর এই শাখাতে পড়ে আছেন কোনো কোনো কর্মচারী। তদবির করে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে পোস্টিং নিয়েছেন এখানে। ভূমি অধিগ্রহণে নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে আলোচিত এখন তারা। জমির মালিকদের সঙ্গে দরকষাকষি করে ঘুষের শতকরা হার নির্ধারণ করছেন। ক্ষেত্রবিশেষ পাঁচ, ছয়, এগারো, বার পার্সেন্ট টাকা আদায় করছেন। আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের মধ্যে জুন মাসে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ শুরু হওয়ার  পরই ছয় পার্সেন্ট করে টাকা নেয়ার বিষয়টি মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে আলোচিত হয়ে উঠেন এলএ শাখার কানুনগো মিজানুর রহমান আর সার্ভেয়ার নাজমুল হক। দালালচক্রের সহায়তায় তারা ওই টাকা নিচ্ছেন এমনটা চাউর হয়। চর-চারতলা মৌজার মহরমপাড়া এলাকায় ওই কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ২৫ একর ৬০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জমি ছাড়াও সেখানে থাকা অবকাঠামো, গাছপালা ও ব্যবসায়িক ক্ষতিপূরণ সবকিছুর মোট মূল্য ধরা হয় ৬২৬ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কোটিতে ছয় লাখ টাকা হিসেবে এলএ শাখার টার্গেট নির্ধারণ হয় প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই প্রকল্পটিকে সামনে রেখেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলএ শাখায় বদলি হতে ব্যাকুল হয়ে উঠেন কানুনগো মিজানুর রহমান ও সার্ভেয়ার মো. নাজমুল হক। তাদের এখানে নিয়ে আসতে আশুগঞ্জের দালালচক্র অর্থলগ্নিও করে। কানুনগো মিজানুর রহমান ২০১৭ সালের ৩১শে আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলএ শাখায় যোগ দেন। এর আগে এক বছর ছিলেন এসএ শাখায়। এসএ শাখায় যোগ দেন ২০১৬ সালের ১৮ই আগস্ট। এর আগে ২০১৪ সালের ১১ই মে থেকে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ছিলেন। তার আগে ২০০৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলএ শাখাতেই ছিলেন। আর সার্ভেয়ার নাজমুল হক ২০০৪ সালের ২৭শে জুলাই থেকে প্রায় ১০ বছর একটানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলএ শাখায় চাকরি করেন। ২০১৪ সালের ৮ই আগস্ট বদলি হন চট্টগ্রামে এলএ শাখায়। সেখান থেকে ২০১৭ সালের ৮ই নভেম্বর আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলএতে ফিরে আসেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এ দু-জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়। এরপর থেকেই আবারো ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিরতে বিভিন্নভাবে তদবির করতে শুরু করেন তারা। সূত্র জানায়, সার্ভেয়ার নাজমুল হক তার বদলির আবেদনপত্রে বৌ-বাচ্চারা ঢাকায় অবস্থান করে উল্লেখ করে ঢাকার কাছাকাছি ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলএ শাখায় বদলি করার আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার তাকে ঢাকার কাছাকাছি দাউদকান্দি ও আশুগঞ্জ উপজেলায় বদলির আদেশ করেন। কিন্তু এই আদেশ মোতাবেক নাজমুল বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলএ শাখাতে ফিরে আসা তার লক্ষ্য হয়ে থাকে। আর কানুনগো মিজানুর রহমানের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের এসএ শাখায় বদলির আদেশ হলে সেখানে যোগদানে গড়িমসি করেন। এক বছরের মধ্যে তার লক্ষ্যস্থল এলএ শাখায় বদলি হন। সূত্র আরো জানিয়েছে, এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলএ শাখায় তাদের বদলির আদেশ করাতে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনালের জমি অধিগ্রহণ কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা বিশেষ দালালচক্রও তদবির করে। টাকা-পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করে। নৌ-বন্দর অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল প্রকল্প ছাড়াও আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ফোরলেন সড়ক নির্মাণে ২৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলএ শাখা। শিবপুর-রাধিকা সড়কের জন্য ৯৭ একর এবং বিভিন্ন মডেল মসজিদের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। আর সে কারণেই রমরমা অবস্থা এখন এলএ শাখার। সূত্র জানায়- জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রত্যাশী কোনো সংস্থা প্রস্তাব পাঠালে প্রথম পর্যায়ে কানুনগো আর সার্ভেয়ার মাঠে যান জমি দেখতে। ফিল্ড পর্যায়ে তারা মানুষজনকে বোঝান এই বলে- ‘আপনাদেরকে যদি জমি-স্থাপনার মূল্য বাড়িয়ে দিতে হয় বা বাড়িয়ে নিতে চান আমরা ছাড়া সেটি কেউ পারবে না। আমরা যা করবো সেটিই অনুমোদন হবে।’ এরপরই জমির মালিকদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ গড়ে উঠে। দরকষাকষি করে পার্সেন্টেজের বিষয় ঠিকঠাক করেন তারা। সার্ভেয়ার নাজমুল হক সাভার, ঢাকার তেজগাঁও এবং নিজের এলাকা বাঞ্ছারামপুরে অনেক সহায় সম্পদ করেছেন। কানুনগো মিজানুর রহমানও চট্টগ্রাম, ফেনী ও তার গ্রামের বাড়িতে অনেক সম্পদ জুটিয়েছেন বলে জানা যায়। এ বিষয়ে সার্ভেয়ার নাজমুল হকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে বদলি হয়ে আসার পেছনে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নেই। কর্তৃপক্ষ বদলি করে তাই এখানে আসি। আমি এর আগে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ছিলাম। আর কানুনগো মিজানুর রহমানকে শনিবার বিকালে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এর আগে দেয়া বক্তব্যে তিনি জানিয়ে ছিলেন দেড় বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আছেন। আশুগঞ্জ থেকে টাকা-পয়সা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও সেখানকার কিছু লোকজনের সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকার কথা স্বীকার করেন। সেখানকার মহিউদ্দিন মোল্লা নামের একজন কানুনগোর সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কথা স্বীকার করে বলেন, কানুনগো পুরো মাঠ গুছিয়েছেন। একবার-দু’বার নয়, তিনি ৫০ বার এসেছেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

আরও