দীপাবলি ও কালীপূজা: অন্ধকার থেকে আলোর পথে

জাগো নিউজ ২৪ রাধেশ্যাম সরকার প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:১৪

দীপাবলি আলোর উৎসব, অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জাগরণের প্রতীক। দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরবর্তী অমাবস্যার রাতে পালিত হয় দীপাবলি, যা ‘দিওয়ালি’ নামেও পরিচিত। এ রাতেই অনুষ্ঠিত হয় দীপান্বিতা কালীপূজা। এ ছাড়া মাঘ মাসে রটন্তি কালীপূজা এবং জ্যৈষ্ঠ মাসে ফলহারিণী কালীপূজা উদ্‌যাপিত হয়। অনেক স্থানে প্রতি অমাবস্যা ও বিভিন্ন সিদ্ধ অমাবস্যায়ও দেবী কালীর পূজা করা হয়। অমাবস্যার ঘন অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালানোর মধ্য দিয়ে মানুষ যুগ যুগ ধরে আলোর বন্দনা করে আসছে। এই আলোক প্রজ্বালন কেবল ঘরবাড়ি আলোকিত করার আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং অন্ধকার, অজ্ঞতা, অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক। মানুষের অন্তর ও সমাজজীবন থেকে সব অমানিশা দূর করে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের আলো ছড়িয়ে দেওয়াই দীপাবলির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য।


হিন্দু দর্শনে দেবী কালী সেই শুভ শক্তিরই প্রতীক, যিনি অশুভের বিনাশ করে সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষা করেন। মুণ্ডক উপনিষদে (২.২.১১) বলা হয়েছে, ‘ব্রহ্মৈবেদং বিশ্বমিদং বরিষ্ঠম’, অর্থাৎ এই সমগ্র বিশ্বই শ্রেষ্ঠতম ব্রহ্মের প্রকাশ। দেবীসূক্তেও দেবীকে ব্রহ্মময়ী শক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি পৃথিবী ও আকাশের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেও সমগ্র বিশ্বে বিরাজমান। শাক্ত দর্শনে মহামায়া দেবী মহালক্ষ্মী, মহাসরস্বতী ও মহাকালী এই তিন রূপে প্রকাশিত। যথাক্রমে রাজসী, সাত্ত্বিকী ও তামসী শক্তির প্রতীক হিসেবে তাঁদের বর্ণনা করা হয়। দেবীভাগবতের বাণী অনুযায়ী, ব্রহ্ম ও দেবীর মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনো ভেদ নেই। যিনি ব্রহ্ম, তিনিই দেবী। এই দর্শন নারীশক্তির সর্বব্যাপী ও সৃষ্টিশীল সত্তাকে তুলে ধরে।


দশমহাবিদ্যার প্রথম দেবী কালী। পুরাণে তাঁর আবির্ভাব ও অসুরবিনাশের নানা কাহিনি রয়েছে। দেবী মাহাত্ম্য বা মার্কণ্ডেয় পুরাণের বর্ণনায় শুম্ভ ও নিশুম্ভের অত্যাচারে দেবতারা যখন বিপর্যস্ত, তখন তাঁরা দেবী অম্বিকার শরণাপন্ন হন। দেবীর ক্রোধ থেকে কালিকার আবির্ভাব ঘটে। অসুরদের সেনাপতি চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করার কারণে তিনি চামুণ্ডা নামেও পরিচিত হন। পুরাণে দেবী কালীর অসুরবিনাশী রূপের মধ্য দিয়ে অন্যায়, অত্যাচার ও অহংকারের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয় তুলে ধরা হয়েছে। মহাভারতেও কালীর উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তিনি কালরাত্রি নামে পরিচিত, যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধা ও পশুদের আত্মা বহন করেন বলে বর্ণিত হয়েছে।


কালী শব্দটি কাল শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ রূপ। কাল অর্থ সময়, কৃষ্ণবর্ণ কিংবা মহাকালের ধারণার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। দেবী কালীকে শিবের শক্তিরূপে কল্পনা করা হয়। তিনি একদিকে সংহারমূর্তি, অন্যদিকে সৃষ্টির আদ্যাশক্তি। তবে তাঁর সংহার কেবল ধ্বংসের অর্থ বহন করে না। সমুদ্রের তরঙ্গ যেমন সমুদ্র থেকেই সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত সমুদ্রেই বিলীন হয়, তেমনি সৃষ্টির উদ্ভব ও লয় একই মহাশক্তির অন্তর্গত। দেবী কালী সেই সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের শক্তির প্রতীক। অশুভের বিনাশের মধ্য দিয়ে শুভের প্রতিষ্ঠাই তাঁর আরাধনার মূল দর্শন। বাংলায় কালীপূজার প্রচলন ও প্রতিমা উপাসনার ইতিহাসও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, নবদ্বীপের তান্ত্রিক সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ বাংলায় কালীমূর্তি বা প্রতিমা পূজার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর আগে অনেক সাধক তাম্রপট বা খোদাই করা প্রতীকের মাধ্যমে দেবীর উপাসনা করতেন। পরবর্তী সময়ে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলায় কালীপূজার ব্যাপক প্রসার ঘটে। ধীরে ধীরে এ পূজা ধর্মীয় সাধনার গণ্ডি অতিক্রম করে বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও