কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ, শ্রমিকের ঘরে ‘অন্ধকার’
পোশাক শ্রমিক ইয়াসমিনের সংসারে স্বামী ও দুই সন্তান। ঢাকার জোহরাবাদে প্রায় ১৫০ বর্গফুটের টিনের ঘরে তাদের বসবাস। ঘরে একটি ফ্যান। গরমের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো শরীর খারাপ নিয়েও গরমের মধ্যে থাকতে হয়, কখনো একটু বাতাসের আশায় গিয়ে দাঁড়াতে হয় রাস্তার পাশে।
ইয়াসমিনের অভিজ্ঞতা পোশাক শ্রমিকদের জীবনের একটি দিক তুলে ধরে। দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন সচল রাখতে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও শ্রমিকদের অনেকের বাসায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় সেই সুবিধা থাকে না। ফলে কর্মস্থলে উৎপাদন সচল রাখার ব্যবস্থা থাকলেও কর্মস্থলের বাইরে তাদের জীবনযাপনে গরম ও বিদ্যুৎ সংকটের চাপ থেকে যায়।
অ্যাপারেল এক্সপোর্ট লিমিটেডের পোশাক শ্রমিক শিরিন থাকেন টেকনিক্যাল এলাকায়। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো মাসে বিদ্যুৎ বিল ৮০০ টাকার বেশি হয়। গরমে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। শরীর খারাপ লাগলে স্যালাইনও খেতে হয়।’
একই কারখানার অপারেটর আহমদ আলী থাকেন মাজার রোড এলাকায়। তার অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিবারের সদস্যদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে রাতে নারীদের ঘর থেকে বের হওয়াও সহজ নয়। বাড়িভাড়া ও বিদ্যুৎ বিলের খরচও বাড়ছে। আহমদ আলীর ভাষ্য, কারখানায় জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও বাসায় বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই সুবিধা পাওয়া যায় না।
- ট্যাগ:
- ব্যবসা ও অর্থনীতি
- সৌরবিদ্যুৎ