নুনে পোড়া শৈশব

ডেইলি স্টার নুসরাত জাহান নিঝুম প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২৫

‘আমি পড়তে চাইতাম, কিন্তু এখন আর সম্ভব না’—কথাটা বলার সময় রূপার কণ্ঠে কোনো অভিযোগ ছিল না। ছিল না রাগ, ছিল না কান্না। শুধু ছিল নীরব মেনে নেওয়া।


মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ের পর স্কুলের বইগুলোকে বিদায় বলতে হয়েছে তাকে। যে মেয়েটি এক সময় নার্স হওয়ার স্বপ্ন দেখত, মানুষের সেবা করতে চাইতো, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইতো, আজ তার দিনের বড় অংশ কেটে যায় গৃহস্থালি কাজে।


রূপার গল্প কেবল স্কুল ছেড়ে দেওয়ার নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, জীবিকার সংকট, দারিদ্র্য, বাল্যবিয়ে এবং একজন কিশোরীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ঝুঁকি।


সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার এই গল্প কেবল একজন রূপার নয়—তার মতো আরও অনেকের।


জমিতে যখন ধান হয় না


শ্যামনগরের বুড়ি গোয়ালিনী ইউনিয়নের একটি ছোট্ট গ্রামে রূপার (ছদ্মনাম) বেড়ে ওঠা। চারদিকে লবণাক্ত পানির মাছের ঘের, ভাঙা বাঁধ আর দূরে দিগন্ত রেখার মতো দেখা যায় সুন্দরবন। এই এলাকায় অধিকাংশ পরিবার কৃষি, চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ এবং মাছ শিকারের ওপর নির্ভরশীল।


রূপার বাবা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করতেন। সামর্থ্য কম হলেও এই কৃষকের স্বপ্ন ছিল তার দুই মেয়ে লেখাপড়া শিখে অনেক বড় হবে। ২০০৪ সালে ডাল কাটতে উঠে গাছ থেকে পড়ে তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান।
সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে রূপার মায়ের কাঁধে। বর্গা চাষি, কখনো চিংড়ির ঘেরে শ্রমিক, কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে চলছিল। কষ্ট ছিল, কিন্তু স্বপ্ন তখনো ছিল।


তারপর আসে ঘূর্ণিঝড় আইলা। ২০০৯ সালের সেই দুর্যোগ শুধু ঘরবাড়ি ভাঙেনি, লবণাক্ত পানিতে নষ্ট হয়ে যায় জমির ফসল। আরও সংকুচিত হয় আয়ের পথ। ফনী, বুলবুল, আম্পানও তাদের ঘর ভেঙেছে, জমি নষ্ট করেছে। প্রতিবার তাদের অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। এর মধ্যে গেছে করোনা মহামারি।


‘আগে জমিতে ধান হতো। এখন লবণ পানির কারণে ফসল হয় না,’ বলছিলেন রূপার মা।


দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলবাসী অনেকেই কৃষির পাশাপাশি চিংড়ি-কাঁকড়া চাষ, দিনমজুরি বা অন্য অনিশ্চিত আয়ের পথে পা বাড়িয়েছেন।


আয় কমলে প্রথমেই যে স্বপ্ন ভাঙে


রূপার বড় বোন ছন্দার (ছদ্মনাম) স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হবে। আর্থিক চাপ সামলাতে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাকেও সংসারের পথে এগোতে হয়। তখন সে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বই-খাতার জায়গা নেয় সংসারের দায়িত্ব। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েও পরিবারের সংকট দূর হয়নি। পঙ্গু স্বামীর চিকিৎসা, খাবার খরচ এবং ছোট মেয়ের পড়াশোনা—সব একা হাতে সামলানো রূপার মায়ের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে।


একই প্রশ্ন রূপার জীবনেও ফিরে আসে, ‘মেয়েকে আর কতদিন পড়ানো সম্ভব?’


রূপার মা বলেন, ‘মেয়েকে কতদিন রাখব? ঘর ভেঙে গেছে, কাজ নেই। বিয়ে দিলে অন্তত একটা দায় কমবে!’


এই বাক্যেই আছে উপকূলীয় অনেক পরিবারের কঠিন বাস্তবতা। এখানে বাল্যবিয়ে সব সময় শুধু একটি সামাজিক সিদ্ধান্ত নয়। কখনো কখনো এটি হয়ে ওঠে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের হওয়ার মরিয়া চেষ্টা।


ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির ২০২৩ সালে পরিচালিত এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে (বিশেষত ভোলা ও সাতক্ষীরা) বাল্যবিয়ের হার প্রায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও