গ্রামে চিকিৎসক ও নার্স ধরে রাখা এত কঠিন কেন?

জাগো নিউজ ২৪ ডা. বিএম আতিকুজ্জামান প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২

একজন তরুণ চিকিৎসক সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত উপজেলায় গেলেন। মানুষের সেবা করার আগ্রহ তাঁর রয়েছে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেন।


হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক, চিকিৎসক কম। প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা সীমিত। রাতে জরুরি রোগী এলে একাই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। হাসপাতালে থাকার উপযুক্ত বাসস্থান নেই। পরিবার থাকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে। সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং নিজের পেশাগত উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করতে হয়।


একই হাসপাতালে কর্মরত একজন নার্সের অবস্থাও খুব আলাদা নয়। পর্যাপ্ত সহকর্মী না থাকায় তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। রাতের ডিউটি শেষে নিরাপদে বাসায় ফেরার ব্যবস্থা নেই। ছুটি নেওয়াও কঠিন।


কিছুদিন পর তাঁরা দুজনই শহরে বদলির চেষ্টা শুরু করলেন।


আমরা প্রায়ই অভিযোগ করি, চিকিৎসক ও নার্সরা গ্রামে থাকতে চান না। কিন্তু কখনো কি প্রশ্ন করি, গ্রামে তাঁদের থাকার উপযুক্ত পরিবেশ আমরা তৈরি করেছি কি?


বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে এই প্রশ্নটির উত্তর খোঁজা অত্যন্ত জরুরি।


সমস্যাটি কত বড়?


বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি নতুন সমস্যা নয়। তবে সমস্যাটি শুধু মোট জনবলের অভাব নয়; কোথায় কতজন কর্মরত আছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ মিলিয়ে ছিলেন প্রায় ১৩ জন। একই প্রতিবেদনে বৈশ্বিক মধ্যক ছিল প্রায় ৪৯ জন। অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীর ঘনত্ব আন্তর্জাতিক তুলনায় অনেক কম।


আরও উদ্বেগের বিষয় হলো সরকারি স্বাস্থ্যসেবার শূন্য পদ।


বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য জনবল কৌশলপত্র ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন শ্রেণির মোট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১টি পদের মধ্যে ৭৭ হাজার ৮৭৭টি পদ খালি ছিল। অর্থাৎ প্রায় ৩২ শতাংশ পদে জনবল ছিল না।


এই পরিসংখ্যান ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। এটি পুরো স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সরকারি পদের হিসাব; শুধু গ্রামীণ চিকিৎসক বা নার্সের সংখ্যা নয়। পরবর্তী নিয়োগের কারণে বর্তমান শূন্য পদের সংখ্যা পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে।


সংখ্যাগুলো আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দেয়।


শুধু নতুন চিকিৎসক ও নার্স তৈরি করলেই হবে না। তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ, সঠিক জায়গায় পদায়ন এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে ধরে রাখার ব্যবস্থাও করতে হবে।


গ্রামে কাজ করা কেন কঠিন?


গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার সমস্যাকে আমরা অনেক সময় শুধু চিকিৎসকের উপস্থিতির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ রাখি।


কিন্তু একজন চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত থাকলেই ভালো চিকিৎসা নিশ্চিত হয় না।


ধরা যাক, একজন রোগীর তীব্র পেটব্যথা হয়েছে। চিকিৎসক পরীক্ষা করে বুঝলেন, রোগীর জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।


কিন্তু হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সার্জন নেই, অবেদনবিদ নেই, পর্যাপ্ত নার্স নেই। রক্তের ব্যবস্থা কিংবা জরুরি পরীক্ষার সুযোগও সীমিত।


তখন রোগীকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো ছাড়া উপায় থাকে না।


এতে রোগীর চিকিৎসায় দেরি হয়। পরিবারের খরচ বাড়ে। কখনো রোগীর জীবনও ঝুঁকিতে পড়ে।


অন্যদিকে চিকিৎসকও মানসিক চাপে থাকেন। কারণ রোগীর প্রয়োজন বুঝতে পারলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তাঁর নেই।


তাই গ্রামীণ চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন মানে শুধু চিকিৎসক নিয়োগ নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন একটি কার্যকর চিকিৎসা দল, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ওষুধ এবং ভালো রেফারেল ব্যবস্থা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও