প্রবাসের আয়: শুধু পাঠানো টাকা নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব

জাগো নিউজ ২৪ ডা. বিএম আতিকুজ্জামান প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১

প্রবাসে থাকা অনেক বাংলাদেশি পরিবারের জীবনের সঙ্গে একটি পরিচিত দৃশ্য জড়িয়ে আছে—মাসের শেষে দেশে টাকা পাঠানো। বাবা-মায়ের চিকিৎসা, ভাইবোনের পড়াশোনা, বাড়ি মেরামত, জমি কেনা, বিয়ের খরচ বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসীদের সহায়তা অসংখ্য পরিবারের ভরসা হয়ে আছে।


এই দায়িত্ব মানবিক, প্রয়োজনীয় এবং সম্মানের। কিন্তু প্রবাসের আয় কেবল তাৎক্ষণিক খরচ মেটানোর জন্য ব্যবহৃত হলে তার শক্তি সীমিত হয়ে যায়। একই অর্থ যদি কিছুটা পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়, তাহলে সেটি একটি পরিবারকে যেমন শক্তিশালী করে, তেমনি বাংলাদেশেও নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।


প্রবাসের সাফল্য শুধু কত টাকা আয় করলাম, তার হিসাব নয়। সাফল্য হলো—আমি কি নিজের পরিবারকে নিরাপদ করতে পারলাম, সন্তানের ভবিষ্যৎ গুছিয়ে দিতে পারলাম এবং আমার সামর্থ্য অনুযায়ী দেশে কোনো স্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তনে অংশ নিতে পারলাম?


আগে নিজের ভিত্তি নিরাপদ করুন


অনেক প্রবাসী মানুষ দেশে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে পিছিয়ে দেন। এটি সব সময় ভুল নয়, কিন্তু দীর্ঘদিন চললে বিপদ হতে পারে। হঠাৎ চাকরি হারানো, অসুস্থতা, ব্যবসার ক্ষতি বা অবসরের প্রয়োজন—এসব বাস্তবতা যে কোনো পরিবারে আসতে পারে।


তাই প্রবাসে বসবাসকারী প্রত্যেক পরিবারের কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত:



  • জরুরি অবস্থার জন্য সঞ্চয়

  • স্বাস্থ্য, জীবন ও প্রয়োজনে অক্ষমতা-সম্পর্কিত বীমা

  • সন্তানের শিক্ষার পরিকল্পনা

  • অবসর জীবনের প্রস্তুতি

  • ঋণ ও ঋণসুবিধা ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা

  • উইল, ট্রাস্ট বা পারিবারিক সম্পত্তির পরিকল্পনা

  • নিজের ঘরকে নিরাপদ করা স্বার্থপরতা নয়। বরং যে পরিবার আর্থিকভাবে স্থিতিশীল, সে পরিবারই দীর্ঘদিন অন্যকে সহায়তা করতে পারে।


আবেগের সঙ্গে পরিকল্পনার মিল


দেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে আবেগ কাজ করে—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু আবেগের সঙ্গে পরিকল্পনা না থাকলে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি, নির্ভরশীলতা এবং অপচয় তৈরি হয়।


পরিবারকে সাহায্য করার আগে তিনটি প্রশ্ন করা যেতে পারে:


১. এই অর্থের উদ্দেশ্য কী?


২. এটি এককালীন সহায়তা, নাকি নিয়মিত দায়িত্ব?


৩. এর ফল কত দিন স্থায়ী হবে?


উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রতি মাসে অল্প অল্প অর্থ দিয়ে কোনো তরুণের অনিশ্চিত খরচ চালানোর চেয়ে তাঁকে একটি দক্ষতা প্রশিক্ষণ, ভাষা কোর্স, কম্পিউটার বা পেশাগত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করা অনেক সময় বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। একইভাবে, চিকিৎসার জন্য সাহায্য প্রয়োজন হলে চিকিৎসা পরিকল্পনা, ওষুধের ধারাবাহিকতা এবং স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার।


সহায়তা যেন মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করে; বরং মানুষের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি বাড়ায়—এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ।


দান থেকে সক্ষমতা তৈরির পথে


বাংলাদেশকে সাহায্য করার সবচেয়ে কার্যকর পথ সব সময় বড় অঙ্কের অনুদান নয়। ছোট কিন্তু সুশৃঙ্খল উদ্যোগও অনেক দূর যেতে পারে।


একজন প্রবাসী বা কয়েকজন বন্ধু মিলে করতে পারেন:



  • দরিদ্র কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য স্বচ্ছ বৃত্তি চালু

  • মেয়েদের ডিজিটাল দক্ষতা বা ভাষা শিক্ষার ছোট প্রকল্প গ্রহণ

  • গ্রামে গ্রন্থাগার, বই বা অনলাইন শিক্ষার সুযোগ তৈরি

  • পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা—যেমন গ্রাফিক ডিজাইন, প্রোগ্রামিং, নার্সিং-সহায়তা ও কারিগরি দক্ষতা

  • ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ ও বাজার-সংযোগের ব্যবস্থা

  • প্রতিবন্ধী, প্রবীণ বা অসুস্থ মানুষের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা

  • স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা


এখানে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো স্বচ্ছতা। কারা উপকার পাচ্ছেন, অর্থ কোথায় খরচ হচ্ছে, ফল কী হচ্ছে—এসব জানার অধিকার দাতারও আছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সম্মান ও অংশীদারত্বও জরুরি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও