পুষ্টির চেয়ে ক্ষুধা মেটানোই বড় চিন্তা

যুগান্তর প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৬

আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মিলছে না সাধারণ মানুষের। নিত্যপণ্যের বাজারে লাগামহীন দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে চিকিৎসা, পরিবহণ ও শিক্ষাব্যয়। সংসারের খরচ সামলাতে একের পর এক প্রয়োজনীয় ব্যয় ছাঁটাই করছেন নিু ও মধ্যবিত্তরা। খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে মাছ-মাংস; কমছে ফলমূল কেনা। ফলে পুষ্টির চাহিদার চেয়ে পেট ভরার খরচ মেটানোই যেন হয়ে উঠেছে বড় চিন্তা। পাশাপাশি বিনোদনেও লাগাম টানতে হচ্ছে। পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়ানোও অনেকের কাছে এখন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খরচ কমাতে ঈদকেন্দ্রিক হয়েছে জামা-জুতা কেনা। জরুরি নয়-এমন সব কেনাকাটা বন্ধ করেও মাস শেষে হিসাব মেলাতে পারছেন না অনেকে। বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে ধারদেনা।


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচকের সবশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আগস্টে কিছুটা কমে হয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। তবুও ২০২৫ সালের আগস্টে যে পণ্য কিনতে ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, সেই একই পণ্য ২০২৬ সালের আগস্টে কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ২৬ পয়সা। পাশাপাশি খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে আগস্টে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ হয়েছে। মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধির হারও আগস্টে কমেছে। ফলে গড় হিসাবে মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার চাপ এখনো বেশি রয়েছে।


কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতির চাপ থাকলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়। একই পরিমাণ আয় দিয়ে কম পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হয়। তখন মানুষ প্রথমে বিলাসী ব্যয় কমায়, পরে প্রয়োজনীয় পণ্যেও কাটছাঁট করে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়ে পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানে। ক্রমাগত ব্যয় সংকোচনের মধ্য দিয়ে শুধু জীবনযাত্রার মানই নয়, মানুষের সামাজিকতা ও মানসিক স্বস্তিও সংকুচিত হচ্ছে। বাজারের চাপে একদিকে যেমন পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় ভোগ কমছে, অন্যদিকে পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকিত্বে দিন কাটছে মানুষের।


কমছে খাবারের তালিকা : বুধবার কাওরান বাজারে কথা হয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. সোহানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি খুব আক্ষেপ নিয়ে যুগান্তরকে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই বাড়তি। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, সবজি, ডিম, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্যের পেছনে আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তাই আমার মাসিক বেতন ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে আগের মতো পণ্য কিনতে পারছি না। সংসারের ব্যয় কমাতে প্রথমেই খাবারের তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে। আগে সপ্তাহে কয়েক দিন মাছ-মাংস কেনা হলেও এখন তা সীমিত হয়ে এসেছে। ফল কেনার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের জন্য প্রয়োজনীয় ফল কেনার ইচ্ছা থাকলেও বাড়তি দামের কারণে তা বাদ দিয়েছি। কারণ এক কেজি আপেল ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাল্টার কেজি ২৮০, কমলা ও আনার ৩৫০, নাসপতির কেজি ২৬০-২৮০ টাকা। তিনি বলেন, এত দাম দিয়ে কীভাবে কিনব? যেখানে দুবেলা পেট ভরার খরচই বহন করতে পারছি না।


আমিষে পড়ছে টান : দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে তুলনামূলক ব্যয়বহুল খাদ্যপণ্যে। মাছ-মাংস, দুধ ও বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত কেনা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে আয় কম এমন পরিবারগুলোতে খাদ্যতালিকার বৈচিত্র্য কমছে। নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সেলস এক্সিকিউটিভ মো. সালেকিন বলেন, বাজারে ঢুকলেই প্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্য কিনতে বড় অঙ্কের টাকা চলে যাচ্ছে। এরপর মাছ-মাংস কেনার মতো সামর্থ্য থাকছে না। সন্তানদের পুষ্টির কথা চিন্তা করেও অনেক সময় বাধ্য হয়ে এসব পণ্য বাদ দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এক কেজি গরুর মাংস ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে ছোট মেয়েটা গরুর মাংস খেতে বায়না ধরেছে। কিন্তু আমি মাসে ৩১ হাজার ৮০০ টাকা পাই। তা দিয়ে বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য সব খরচ মিটিয়ে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে সাহস পাই না। তাই পরিবারের জন্য ২০০ টাকা কেজিদরে একটি ব্রয়লার মুরগি কিনলাম। যার ওজন দেড় কেজির বেশি হয়েছে। এজন্য দাম দিতে হয়েছে ৩২০ টাকা। তিনি বলেন, আমাদের মতো মানুষের জন্য মাছ কেনা বড় দায়। গরিবের পাঙাশের কেজিও বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা। সেক্ষেত্রে একটি পাঙাশ মাছ কিনতেও ৪০০-৫০০ টাকা দরকার।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও