সংবাদমাধ্যম নিয়ে সরকারের আশ্বাসের সঙ্গে কর্মকাণ্ডের মিল নেই

বিডি নিউজ ২৪ মাহবুবুল হক ভূঁইয়া প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৬

আন্দালিব রহমান পার্থ তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে সরকার কোনোভাবেই সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না। কিন্তু এই আশ্বাসের ঠিক পরদিনই ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তার নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাম উল্লেখ না করে একটি সংবাদপত্রকে তীব্র আক্রমণ করেন। মূলত পত্রিকাটি তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কি না, সে বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছিল।


সংবাদ সম্পর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি দ্বৈত নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কি না—সেই সহজ প্রশ্নের সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। ‘হ্যাঁ’ বললে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি প্রশ্ন তৈরি হতো, আর ‘না’ বললে অসত্য ভাষণের ঝুঁকি থাকত। ফলে তিনি দুই মিনিটের বক্তব্যে হাস্যরস করে বিষয়টি পাশ কাটানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রটির সাংবাদিকতা নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন।


একই দিনে স্টার নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর একটি ফোনালাপ প্রকাশ্যে এসেছে। ওই প্রতিবেদক সরকারি ই-জিপি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘দোহাটেক’-এর অফিসে অনিয়মসংক্রান্ত সংবাদের বক্তব্য নিতে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী সরাসরি প্রতিবেদককে ফোন করে সেখানে যাওয়ার কারণ জানতে চান এবং সেখান থেকে অবিলম্বে ‘রওয়ানা দিয়ে দিতে’ বলেন।


এর আগে জুন মাসে বগুড়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে একটি মামলা হয়। সেই মামলায় মো. রেজানুর ইসলাম নামে স্থানীয় এক সম্পাদককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও আনা হয়।


এই তিনটি ঘটনাকে পৃথক বা বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো বিশ্লেষণ করলে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর ক্ষমতার চাপ প্রয়োগের তিনটি বিপজ্জনক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দেওয়া সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার আশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত।


সংবাদমাধ্যমকে ঘায়েল করার এই সরকারি কৌশল নতুন কিছু নয়; বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তা হয়ে আসছে। সরকার বদলায়, শাসনের ধরণ বদলায়; কিন্তু সংবাদমাধ্যমকে কোণঠাসা করার পুরনো কৌশল বদলায় না। বিগত ২০০৯-২০২৪ মেয়াদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পর নানাবিধ বাস্তব ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়েছে সংবাদমাধ্যমকে। ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে আসা এজাতীয় বক্তব্য মূলত তাদের অনুসারী ও প্রশাসন যন্ত্রের কাছে সংকেত হিসেবে কাজ করে। হামলা-মামলা করে সাংবাদিকদের কোণঠাসা করার ভিত্তি তৈরি করে দেয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও