গালি কাম্য নয়, কিন্তু জবাবে পুলিশ পাঠানো কি গণতান্ত্রিক?

বিডি নিউজ ২৪ সাজ্জাদ সাব্বির প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২৩

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতায়। ক্ষমতাসীন সরকারকে ঘিরে উচ্ছ্বাস, সাফল্যের প্রচার আর স্তূতিবাক্য শুনতে সরকারের বিশেষ রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রয়োজন হয় না। আসল পরীক্ষা হয়, যখন নাগরিক বিরক্ত হয়, ক্ষুব্ধ হয়, প্রশ্ন তোলে এবং কখনো কখনো সেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে ভাষার সীমাও অতিক্রম করে।


সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে গাজীপুরে সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সেই পরীক্ষাটিই সামনে এনেছে। ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে তার বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলে তিনি ফেইসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। তার দাবি ছিল, এক মাসে ৪ হাজার এবং আগের মাসে ৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশকে জানালে ৩ সেপ্টেম্বর রাতেই তাকে আটক করা হয়। পরদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।


এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার। নাগরিকের অশালীন ভাষা ব্যবহার সমর্থন করার কোনো কারণ নেই। রাষ্ট্রপ্রধান বা যে কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গালাগালি রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ভালো নয়। কিন্তু একজন নাগরিকের ভাষা খারাপ হলেই রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিত?


রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে নাগরিকত্ব। নাগরিক সরকারকে ভোট দেন, কর দেন, সরকারি সেবা গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রীয় নীতির ফল ভোগ করেন। ফলে সেই সরকারের কাজ নিয়ে তার প্রশ্ন করার অধিকারও থাকে। কারণ সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা, আদালত অবমাননা, মানহানি এবং অপরাধে প্ররোচনার মতো নির্দিষ্ট কারণে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত সীমাবদ্ধতার কথাও বলা হয়েছে।


অর্থাৎ সরকারের সমালোচনা এবং অপরাধ এক শ্রেণিতে পড়ে না। এই পার্থক্যটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে। রাষ্ট্রের এখানে সূক্ষ্ম দায়িত্ব আছে। কোনো বক্তব্য অপছন্দ করা এবং কোনো বক্তব্য আইনত দণ্ডনীয় হওয়াকে এক করে করে দেখার সুযোগ নেই।


জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের এই সমস্যাটিকে আরও গভীরভাবে দেখেছিলেন। তার আশঙ্কা ছিল, স্বাধীনতার জন্য বিপদ কেবল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে আসে না। সংখ্যাগরিষ্ঠের সামাজিক চাপও ব্যক্তির স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে পারে। তার ভাষায়, প্রচলিত মতামত ও সামাজিক অনুভূতির চাপ ব্যক্তির স্বাধীনতার ওপর এমন প্রভাব ফেলতে পারে, যা কখনো কখনো রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মতোই কার্যকর।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও