মুমূর্ষ রোগী নিয়ে সাগর পাড়ি, পথে মৃত্যু, সন্দ্বীপে কেন চলে না নৌ-অ্যাম্বুলেন্স
সত্তরোর্ধ্ব ওসমান গণি মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে ছিলেন গুপ্তছড়া ঘাটে। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রামে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ছেলে মো. ইব্রাহীম তাই বাবাকে নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন ঘাটে। সামনের সন্দ্বীপ চ্যানেল পার হতে পারলেই হয়তো বাবাকে বাঁচানো যেত। কিন্তু তখন আবহাওয়ার সতর্কতায় সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের নিয়মিত নৌযান চলাচল বন্ধ। ঘাটে গিয়ে কোনো নৌযানও পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনেরা ছোটাছুটি করে শেষ পর্যন্ত একটি স্পিডবোটের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে স্পিডবোটে ওঠার আগেই গুপ্তছড়া ঘাটে মারা যান গাছুয়া ইউনিয়নের ওসমান গনি।
অথচ এমন জরুরি মুহূর্তে একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সই হওয়ার কথা ছিল ওসমান গনির পরিবারের ভরসা। সন্দ্বীপে সরকারের দেওয়া দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের একটিও এখন রোগী পারাপারে ব্যবহৃত হচ্ছে না। একটি ১৫ বছর ধরে অচল পড়ে আছে। অন্যটি এক দিনও রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা হয়নি। ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে দেওয়া এই দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের একটি আবার সমুদ্রপথে চলাচলের উপযোগী নয়। ফলে সমুদ্রঘেরা সন্দ্বীপের মুমূর্ষু রোগীদের এখনো কখনো স্পিডবোট, কখনো মালবাহী ট্রলার, আবার কখনো ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌযানে করে চট্টগ্রামে নিতে হয়।