হিমালয় গলছে, তিস্তা কাঁদছে: অববাহিকার ঐক্যই এখন পথ
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সাম্প্রতিক হিমবাহধস, হড়পা বান ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় আবারও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—হিমালয়ের সংকট কোনো একটি দেশের সংকট নয়; এটি গোটা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার অস্তিত্বের প্রশ্ন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল যথার্থই বলেছেন, নেপাল বিশ্বের সবচেয়ে কম গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলোর একটি হয়েও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ শিকার। তাই হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই আহ্বান কি শুধু নেপালের কণ্ঠে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি নেপাল, ভুটান, চীন, ভারত ও বাংলাদেশ নিজেদের অভিন্ন ভবিষ্যৎ রক্ষায় একটি নতুন আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তুলবে?
আমাদের মনে রাখতে হবে, হিমালয় শুধু বরফে ঢাকা পাহাড়ের সারি নয়; এটি এশিয়ার পানির বিশাল ভাণ্ডার। হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের তুষার ও হিমবাহ থেকে উৎপন্ন নদীগুলো কোটি কোটি মানুষের পানি, খাদ্য, কৃষি, বিদ্যুৎ ও জীবিকার ভিত্তি। সাম্প্রতিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি) গবেষণা বলছে, হিন্দুকুশ হিমালয়ের হিমবাহগুলো ২০০০ সালের পর বরফ হারানোর গতি প্রায় দ্বিগুণ করেছে। ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের হিমবাহের আয়তন প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে পানি নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বন্যা, ভূমিধস ও হিমবাহ-হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যার ঝুঁকিতে।