হিমবাহগলা ঢলে ভোটেকোশি নদীতীরে বৈশ্বিক কান্না
হিমালয়ের বুক থেকে নেমে আসা একটি নদী হঠাৎ যেন মৃত্যুর দূত হয়ে উঠেছিল। গত ২৬ আগস্ট নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে যে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ধস নেমে এসেছে, তা এখন আর কেবল নেপালের দুর্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; পরিণত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানবিক ট্র্যাজেডিতে। প্রায় তিন ডজন দেশের পর্যটক, তীর্থযাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা, শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মী—কেউ রেহাই পাননি। নদীর স্রোতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং মানুষের স্বপ্ন।
২৮ আগস্ট সকাল পর্যন্ত নেপালে অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যু এবং ১,৩০০-এর বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার কথা জানা গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক ও কৈলাস-মানস সরোবরগামী তীর্থযাত্রী রয়েছেন। নেপালের পর্যটন কর্মকর্তাদের হিসাবে ৬৬৭ পর্যটক নিখোঁজ, যার মধ্যে ৫৪০ জন ৩২টি দেশের বিদেশি নাগরিক। ভারতীয় নাগরিকই সবচেয়ে বেশি ছিলেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫, মালয়েশিয়ার ৫৫, ইউক্রেনের ৫৩, যুক্তরাজ্যের ৩৩ এবং অস্ট্রেলিয়া ও কানাডারও বহু পর্যটক নিখোঁজ।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, বহু দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ। ফলে ভোটেকোশির তীরে আজ শুধু স্বজন হারানোর কান্নায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, পরিবার ও রাষ্ট্রের উৎকণ্ঠাও একাকার হয়ে গেছে।
গত ২৬ আগস্টের প্রথম দিকের হিসাবে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছিল, ভোটেকোশি বন্যায় ৩৮৪ পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ হয়েছেন; তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি। বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়, ব্রিটিশ, মার্কিন, অস্ট্রেলীয়, মালয়েশীয়, দক্ষিণ আফ্রিকান ও ডাচ নাগরিক থাকার তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২৭ আগস্টের বিভিন্ন প্রতিবেদনে নেপালজুড়ে মৃতের সংখ্যা ১৫৭ থেকে ১৭৭ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৮০০-এর বেশি বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিব্বতের অংশে আরও প্রাণহানি ও নিখোঁজের খবর এসেছে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- ট্র্যাজেডি