দেশপ্রেম, দেশাত্মবোধ জাতিকে মহান করে
যুগে যুগে কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিকরা স্বদেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সুনাগরিক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একটি দেশের নাগরিকরা যদি উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক হয়, তাহলে অনেক সমস্যার এমনিতেই সমাধান হয়ে যায়। একটি দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সুনাগরিক। দক্ষ মাঝি ছাড়া খরস্রোতা নদী পাড়ি দিয়ে নৌযান যেমন তার উদ্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না, তেমনি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক সৃষ্টি ছাড়া কোনো দেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে উপনীত হতে পারে না। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, সৎ ও যোগ্য নাগরিক সৃষ্টি করা অপরিহার্য।
দেশাত্মবোধ হচ্ছে নিজ সমাজ এবং সমাজের মানুষ তথা দেশের প্রতি, জাতির প্রতি, ভাষার প্রতি, সাহিত্যের প্রতি, সংস্কৃতির প্রতি সুতীব্র আকর্ষণ বোধ করা। দেশ তথা সমাজের প্রতি গভীর অনুরাগ, নিবিড় ভালোবাসা ও যথার্থ আনুগত্যকেই দেশাত্মবোধ বলা হয়। মাতৃভূমির উন্নতিকল্পে সর্বস্ব ত্যাগের সাধনাই দেশপ্রেম বা দেশাত্মবোধ। দেশপ্রেম শব্দটি মানুষের আত্মার সঙ্গে, অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশাত্মবোধ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। পৃথিবীর উন্নত ও সভ্য জাতিগুলো তাদের দেশকে সবার উপরে স্থান দিয়েছে। দেশের জন্য তারা সর্বস্ব ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে সম্মিলিতভাবে দেশের সেবা করে থাকে। আমাদেরও এভাবে বড় হতে হবে। আর বড় হতে হলে চাই স্বদেশপ্রেম। কারণ উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশপ্রেমের সঙ্গে জাতির উন্নতি এক তারে বাঁধা। তাই দেশ বা জাতির উন্নতিকল্পে দেশাত্মবোধ অপরিহার্য।