গ্যাস–সংকটে সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলায় বাড়তি খরচ

প্রথম আলো প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৪

স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন আজমল হোসাইন। আড়াই মাস ধরে তাঁর বাসায় গ্যাস আসছে না। শুরুর দিকে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেয়েছেন। এখন রান্নার জন্য বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন। এতে খরচ বেড়েছে। আজমল বলেন, ‘চুলার দামই পড়েছে সাত হাজার টাকা। চুলার জন্য বিদ্যুতের বিল আসছে বেশি। আগে ১৫০০ টাকা বিল আসত, এখন আসে ২৮০০ টাকা।’


নিরাপদ খাওয়ার পানি নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আজমল। গ্যাস না থাকায় পানি ফুটাতে পারছেন না। পানি না ফুটিয়ে খেয়ে তাঁর দুই ছেলে আরসালান (২) ও আহসান (৯) অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। আজমল বলেন, ‘পানির এটিএম বুথ থেকে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করি। এই পানি বিশুদ্ধ কি না সন্দেহ হয়। কারণ, প্রথম যখন এই পানি খাই, তখন আমিসহ পুরো পরিবারের ফুড পয়জনিং হয়েছিল।’


মিরপুরের হাজি মার্কেট এলাকায় থাকেন গৃহিণী আয়েশা সিদ্দিকা। তিনি জানান, চার মাস ধরে তাঁর বাসায় গ্যাসের সমস্যা। কিছুদিন আগে মধ্যরাতে কিছুটা গ্যাস এলেও এখন একদমই আসে না। বিকল্প হিসেবে গ্যাসের সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন তিনি। আয়েশা বলেন, ‘এখন তো এমনিতেই বিদ্যুৎ বিল বাড়তি। তার ওপর ইন্ডাকশন চুলা জ্বালানোর জন্য বিল আরও বেশি আসে। আগে ১ হাজার টাকা বিল আসত, এখন আসে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। আর সরকারকে তো গ্যাসের জন্য টাকা দিচ্ছিই।’


দেশে ৯ বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের।


টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকটের পর ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে। তবে এলএনজির নতুন কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমতে কমতে ১৯ আগস্ট বিকেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে অবশ্য এলএনজির একটি কার্গো আসায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট। এতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। তবে গ্যাস–সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও সময় লাগবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও