চলেই গেলেন খাইরুল ভাই

প্রথম আলো গওহার নঈম ওয়ারা প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:১০

প্রস্তুত হচ্ছিলেন পোশাকি ‘অবসরের’ জন্য। পোশাকি বললাম, কারণ কাজের মানুষদের আদতে কোনো অবসর নেই। অফিসের দশটা-পাঁচটার ঘড়ি ধরা চাকরি ছেড়ে দিলে কাজের ঘড়ি তাঁদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে।


তাঁকে ঘিরেও অনেকের অনেক পরিকল্পনা ছিল। সাতসকালে তাঁর আচমকা প্রস্থানের খবর পেয়ে অনেকেই সে কথা অকপটে লিখেছেন।


একজন এনজিও নেতা নিঃসংকোচে লিখেছেন, ‘আমরা মুখিয়ে ছিলাম, রিটায়ারমেন্টের পর তাঁকে কী কী কাজে পাব, সেই ভেবে।’ দেশের দক্ষিণের এক সহজ-সরল উন্নয়নকর্মী লিখেছেন, ‘আমরা ঠিক করেছিলাম, অবসরের পর তাঁকে আমরা উপদেষ্টা করে কাজে লাগাব।’


এই উন্নয়নকর্মীর সঙ্গে খাইরুল ভাইয়ের (খাইরুল ইসলাম) আসলেই কোনো কথা হয়েছিল কি না, কে জানে! নাকি সবটাই তাঁর বসন্তকালের ভাবনা, যা কেবল বলতে পারেননি। তবে এটা ঠিক, তাঁর মনে একটা ভরসা ছিল—খাইরুলের মতো মানুষদের কাছে গিয়ে দাঁড়ানো যায়, মনের কথা বলা যায়।


একজন নামজাদা গণযোগাযোগ ব্যক্তিত্ব লিখেছেন, ‘আমার নিজের জীবনে ইতিবাচক অবদানের জন্য যেসব মানুষকে ধন্যবাদ জানানো প্রয়োজন, তাঁদের মধ্যে খাইরুল ভাই অন্যতম। কিন্তু সরাসরি ধন্যবাদের কথা তাঁকে বলার আগেই তিনি ছবি হয়ে গেলেন।… কাজের সূত্রে তাঁর সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হলো। একেবারে আমার মায়ের পেটের বড় ভাই হয়ে উঠলেন। আমার মা-বাবার মৃত্যুতে কবরস্থানে এসে দোয়ায় অংশ নিয়েছেন।


আমি তাঁর অনেক সময় নিয়েছি। যেকোনো বিষয় না বুঝলে তাঁকে ফোন করেছি। তিনি আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টা সময় নিয়ে আমাকে বুঝিয়েছেন। যেকোনো নতুন কাজ বা প্রজেক্ট শুরু করার আগে তাঁর বুদ্ধি নিয়েছি। আমি তাঁর কাছে ঋণী। তাঁর শেখানো অনেক কিছু আমার জীবনে অমূল্য সম্পদ।’


খাইরুল ভাই কিন্তু সংবাদজগতে কখনো কাজ করেননি। তারপরও নামজাদা সংবাদকর্মীরা নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে, সাফল্যের সিঁড়িগুলো চিনে নিতে তাঁর পরামর্শ নিয়েছেন। কারণ, তাঁর ওপর ভরসা করা যায়।


ঢাকার কাছে টাঙ্গাইলে তাঁর জন্ম। সেটা নিয়ে তাঁর গর্ব ছিল খুব। লিখেছেন, ‘আমার জন্ম টাঙ্গাইলের এক নিভৃত গ্রামে। এখন অবশ্য বাংলাদেশের সব গ্রামই সড়ক যোগাযোগে সংযুক্ত।


মানুষ গর্ব করে বলে, আমাদের বাড়ি পর্যন্ত গাড়ি যায়। অনেক আগে বাংলাদেশে ১০ টাকার নোটে একটি মসজিদের ছবি ছিল। মসজিদটি এখনো আছে—আতিয়া মসজিদ, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে।


পাশেই পাথরাইল বাজার—তাঁতের শাড়ির জন্য বিখ্যাত। তারই কাছে গ্রামের মধ্যে গড়ে উঠেছে এক নয়নাভিরাম, আন্তর্জাতিক মানের উদ্ভাবন ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। উদ্যোক্তা—ব্যুরো বাংলাদেশ নামে খ্যাত একটি প্রতিষ্ঠান।


প্রথমবারের মতো আসতে পেরে এবং পাঁচ দেশের মানুষকে এখানে আনতে পেরে খুবই ভালো লাগছে, আর টাঙ্গাইল জেলার সন্তান হিসেবে গর্ববোধ করছি।’


টাঙ্গাইলের বাস সিন্ডিকেট খুবই শক্তিশালী। শোনা যায়, তাদের শক্তির কাছে ব্রিটিশরা হার মেনেছিল; টাঙ্গাইলে রেললাইন বসাতে পারেনি।


তবে টাঙ্গাইলের বাসে চড়লে আর নীতিকথার বই পড়তে হয় না। এটা নিয়ে প্রায়ই তাঁর সঙ্গে হাসিঠাট্টা হতো। দেখি, সেটাও তাঁর নজর এড়ায়নি। দিব্যি লেখা আছে তাঁর নোটবুকে—‘ভদ্রতায় বংশের পরিচয়; রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ; লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন; আল্লাহর নামে চলিলাম; চলন্ত অবস্থায় ড্রাইভারকে বিরক্ত করিবেন না; অভিযোগ থাকলে চালককে বলুন’ ইত্যাদি।


একদিন জানালেন, হঠাৎ টাঙ্গাইল থেকে জামালপুরগামী একটি বাসে ভিন্ন ধরনের একটি বাণী দেখতে পেলেন, যা তাঁর মনে গেঁথে আছে। বাণীটি ছিল—‘ভাইসাব, আপনি ছিলেনই বা কী; হইছেনই বা কী; বাকি আছেই বা কী?’


পড়াশোনা টাঙ্গাইলেরই মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নানা ক্যাডেট কলেজ থেকে আসা সহপাঠী পেয়েছিলাম, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে খাইরুল ভাইকে মেলাতে পারতাম না।


চরম শৃঙ্খলার মধ্যেও তিনি সেটাকে উপভোগ করার ক্ষমতা রাখতেন। তাঁর অনেক সিনিয়র-জুনিয়র কলেজ সহপাঠী তাঁকে মরুভূমির মধ্যে এক সবুজ উদ্যান মনে করতেন। মাতিয়ে রাখতেন সবাইকে।


সেসব দিনের প্রসঙ্গে তাঁর কথা ছিল—‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে পড়তে যাই মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজে। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় (১৯৭৫-৭৭) আমাদের সবার মধ্যে একধরনের সিনিয়র ভাব আসে। তখন লেখাপড়া ছাড়া আর সব বিষয়ে আমরা নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টায় ব্রতী হই।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও