শিক্ষা আনন্দময় করতে প্রয়োজন মোটিভেশন

কালের কণ্ঠ মাছুম বিল্লাহ প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের খেলার ছলে শিক্ষাদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এটি কি আসলে নির্দেশের বিষয়? এটি অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা, ডেডিকেশন, মোটিভেশন, নিজ থেকে  আনন্দ পাওয়া আর গবেষণার বিষয়।

সরকার থেকে নির্দেশনা দেওয়া হলো, আর সবাই খেলার ছলে পড়াশোনা শেখানো শুরু করে দেবেন, বিষয়টি কি তাই? একজন শিক্ষক সেটি করতে পারেন, তিনি যখন এই পেশায়  প্রচুর সময় দিতে পারেন, প্রফেশনে নিজেকে ডেডিকেট করতে পারেন, নিজ আগ্রহে নতুন কিছু করার উদ্দীপনা তৈরি করতে পারেন। বিভিন্ন মেধার ও ক্যাটাগরির শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে একটি ক্লাসে। স্বাভাবিকভাবে তাদের পড়াতেই হিমশিম খেতে হয় শিক্ষককে, সেখানে নির্দেশ পেলেই আনন্দে পড়াশোনা শুরু করে দেওয়ার মতো কতজন শিক্ষক আছেন, সেটিও আমাদের দেখতে হবে।


আওয়ামী সরকারের আমলে আমরা দেখেছি, কারিকুলাম পরিবর্তনের নামে, আর আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষার নামে সব স্কুলে রান্নার আয়োজন আর শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে মাঠে নাচানাচি আর গান গাওয়া চলেছে। দুই বছর শিক্ষকরা বুঝতে পারছিলেন না, তাঁদের কী করতে হবে। তাঁদের শুধু বলা হয়েছিল, লেখাপড়া হবে আনন্দের মাধ্যমে, চাপের মধ্যে নয়। তাই যিনি যেভাবে বিষয়টিকে বুঝেছেন, তিনি সেভাবেই দুটি বছর কাটিয়েছেন। একটি শ্রেণিকক্ষকে আনন্দময় করে তোলা  কি কোনো সাধারণ শিক্ষকের পক্ষে সম্ভব?


শিক্ষার্থীদের সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়া রোধে ছবি আঁকা, মাটির কাজ ও বিভিন্ন উপকরণ তৈরির মাধ্যমে ‘খেলার ছলে শেখা’ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।


নির্দেশনায় বলা হয়, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বা আনন্দময় শিক্ষা’ কর্মসূচির আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের প্রণীত প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির চারু ও কারুকলা বিষয়ে শিক্ষক সহায়িকা রয়েছে। এসব সহায়িকার আলোকে শ্রেণিভিত্তিক বিভিন্ন ছবি আঁকতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ তৈরি করাতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি শিল্পকর্ম শ্রেণিকক্ষে প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করতে হবে, যাতে তারা উৎসাহিত ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভাগীয় উপপরিচালক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

এগুলো অনেকটা সমর্থনযোগ্য কাজ, কারণ স্পেসিফিক কিছু কাছ শিক্ষকদের করতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিউরিসিটি বা অনুসন্ধানের ইচ্ছা কিন্তু একটি বড় মোটিভেশন, যেটি আমরা সুগাতা মিত্রের গবেষণা থেকে পাই। যাঁর গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে ‘মিনিম্যালি ইনভ্যাসিভ লার্নিং’। তিনি দিল্লির একটি বস্তির মুখে একটি দেয়ালের গর্তে একটি কম্পিউটার রেখে দিয়েছিলেন। সেটির সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল, কিন্তু ছিল না কোনো শিক্ষক। একটি গোপন ক্যামেরা ফিট করে রেখেছিলেন দেখার জন্য যে শিশুরা কী করে। শিশুরা নিজেরা নিজেরা এলোমেলো চালাচালি করে কম্পিউটার খোলা-বন্ধ, ইন্টারনেট সংযোগ ঘটানো এবং সেই সঙ্গে বিভিন্ন কিছু দেখা নিজেরা নিজেরাই শিখেছিল। ঘটনাটি ২০০০ সালের। শিশুদের আগ্রহ, কিউরিসিটি এবং নিজেরা নিজেরা সময় ব্যয় করে কোনো ধরনের শিক্ষক ছাড়াই শিখেছিল কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের ব্যবহার। তারা কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশের এবং নেট চালাতে যেসব আইকন পর্দায় ভেসে উঠেছিল, সেগুলোর নাম নিজেরাই দিয়েছিল। কোনটাকে বলছে সুই, কোনটাকে ইঁদুর ইত্যাদি। এই মডেল তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বস্তিতে এবং পিছিয়ে পড়া এলাকায় সেট করে একই ফল পেয়েছেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও