জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সংহতি : বাংলাদেশের করণীয়

ঢাকা পোষ্ট অধ্যাপক ড. সুজিত কুমার দত্ত প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৫১

একবিংশ শতাব্দীর এই তৃতীয় দশকে বিশ্ব এক অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে এক চরম অস্থিরতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।


এই সংকট কেবল একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি একটি বহুমাত্রিক ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যা বিশ্বজুড়ে উন্নয়নশীল ও উন্নত উভয় দেশেরই স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সংহতি’ বিষয়টি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।


আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাতের কারণে বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক সংকটের সরাসরি ভুক্তভোগী। এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি উভয় ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।


বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট


বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মূলে রয়েছে কয়েকটি প্রধান ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে অন্যতম হলো চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট। ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে।


হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তা মুহূর্তের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, যার প্রভাব বাংলাদেশের মতো দুর্বল অর্থনীতির দেশের ওপর মারাত্মক হয়।


সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামকে ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের ওপরে নিয়ে গেছে, যা বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।


জ্বালানি সংকটের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধ। বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী এই প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে অস্থির করে তুলেছে।


চীন বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক, আর যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তম উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক। তাদের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহ উভয় ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, এই বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উন্নয়নকে ধীরগতি করে দিচ্ছে। এই দুই পরাশক্তির দ্বন্দ্বের ফলে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।


বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ


বৈশ্বিক এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ওপর। বাংলাদেশ তার প্রাথমিক জ্বালানির, বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সিংহভাগ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৬৫ শতাংশের বেশি আমদানি করতে হয়।


দীর্ঘ সময় ধরে দেশীয় গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানে অবহেলা এবং বাপেক্সকে নিষ্ক্রিয় রাখার ফলে বাংলাদেশ আজ এলএনজি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে এলএনজি কেনা সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।


সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। লোডশেডিং আবার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও