ঢাকার বাসযোগ্যতা ও নাগরিক আকাঙ্ক্ষা

যুগান্তর ঢাকা মেট্রোপলিটন খালিদ মাহমুদ প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৯

ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা এখন আর নতুন কোনো বিষয় নয়। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহণ, এলাকাভিত্তিক অবকাঠামো, উন্মুক্ত জনপরিসর, বায়ুদূষণ, পানি ব্যবস্থাপনা, বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রায় কোনো ক্ষেত্রেই নাগরিকদের স্বস্তির জায়গা নেই। বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগরী হিসাবে ঢাকা প্রায়ই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে আসে। ফলে শহরটির বাসযোগ্যতা আজ নগরবাসীর অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বয়ং রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা জনপ্রতিনিধিরা যখন বিভিন্ন সময়ে তাদের হতাশা প্রকাশ করেন, তখন সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা আরও বৃদ্ধি পায়।


একটি শহরকে বাসযোগ্য হিসাবে গড়ে তুলতে কিছু সুস্পষ্ট ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড রয়েছে। ডেনিশ স্থপতি ও নগরতাত্ত্বিক Jan Gehl রচিত ‘Cities for People’ গত দুই দশকে নগর পরিকল্পনা বিষয়ে অন্যতম প্রভাবশালী গ্রন্থ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জনকেন্দ্রিক নগর উন্নয়ন সংক্রান্ত গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে এটি একটি মৌলিক রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বাস্তব প্রয়োগের উদাহরণের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে কীভাবে একটি নগরকে আরও প্রাণবন্ত, নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই করে তোলা যায়। Gehl-এর মতে, একটি সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য শহর তখনই গড়ে ওঠে, যখন নগর পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে মানুষ, তাদের চলাচল, সামাজিক যোগাযোগ, জনপরিসরে অংশগ্রহণ এবং সামগ্রিক জীবনমানের উন্নয়ন।


জাতিসংঘের নগর ও মানববসতিবিষয়ক বিশেষায়িত সংস্থা ইউএন-হ্যাবিট্যাটের মতে, একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে মানসম্মত আবাসন, কার্যকর ও সাশ্রয়ী পরিবহণ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা, পর্যাপ্ত উন্মুক্ত ও সবুজ স্থান, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, নাগরিক নিরাপত্তা এবং দক্ষ ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ মানদণ্ডগুলোর আলোকে ঢাকা শহরের বর্তমান বাস্তবতা মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, শহরটি এখনো বাসযোগ্যতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সূচকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।


ঢাকার বাসযোগ্যতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হয় অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপকে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসাবে ঢাকার প্রতি মানুষের আকর্ষণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নত জীবনযাপনের প্রত্যাশায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানীমুখী হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ঢাকা মহানগর অঞ্চলের জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৫৪ লাখে পৌঁছেছে। ফলে নগরীর ওপর জনসংখ্যার চাপ এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বিদ্যমান অবকাঠামো, সেবাব্যবস্থা এবং পরিবেশগত সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে আবাসন, পরিবহণ, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য এবং উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণের মতো মৌলিক খাতে।


বাসযোগ্য নগরের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান। কিন্তু ঢাকার বাস্তবতা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুদূষণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ মানের তুলনায় বহুগুণ বেশি। ২০২৫ সালে ঢাকার গড় PM2.5 ঘনত্ব ছিল প্রায় ৬৮ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক মানদণ্ডের প্রায় ১৪ গুণ বেশি। ২০২৬ সালেরও বিভিন্ন সময়ে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে মাথাপিছু উন্মুক্ত ও সবুজ স্থানের পরিমাণ ১ বর্গমিটারেরও কম বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ন্যূনতম ৯ বর্গমিটার উন্মুক্ত স্থানের সুপারিশ করে। ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য, জনস্বাস্থ্য এবং নাগরিকদের মানসিক সুস্থতা ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে।


পরিবহণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং যানজটও ঢাকার বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় যানজটের কারণে প্রতিদিন প্রায় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। উৎপাদনশীলতা হ্রাসের পাশাপাশি জ্বালানি অপচয়, বায়ুদূষণ এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে এর নেতিবাচক প্রভাব নগরজীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনুভূত হয়। প্রতিদিন কর্মস্থলে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করা ঢাকাবাসীর জন্য এক ধরনের স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও