ড. ইউনূসকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে প্রধান উপদেষ্টা করার চেষ্টা হয়েছিল
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সেনা সদর ও বঙ্গভবন, রাতে কার্জন হলে ছাত্রদের সঙ্গে এবং পরদিন ৬ আগস্ট বঙ্গভবনে বৈঠক, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরকারপ্রধান করা, উপদেষ্টাদের তালিকা তৈরিসহ সে সময়ের অনেক ঘটনার সাক্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সেসব দিনের ঘটনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজীব হাসান।
প্রথম আলো: দেড় দশকের আওয়ামী লীগ শাসনামলে আপনি ছিলেন অন্যতম প্রধান দৃশ্যমান সমালোচকদের একজন। সেই অবস্থান থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আপনার যুক্ত হওয়াটা কীভাবে ঘটল?
আসিফ নজরুল: আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমি পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতাম, টক শোতে যেতাম, সভা-সেমিনারে যেতাম এবং রাজপথের আন্দোলনেও অংশ নিতাম। আর আমি যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রদের সঙ্গে সব সময় একটা যোগাযোগ ছিল। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমি থাকব—এটাই স্বাভাবিক ছিল।
প্রথম আলো: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন সম্পর্কে কতটা আশাবাদী ছিলেন?
আসিফ নজরুল: ধীরে ধীরে আশাবাদী হয়েছি। এর আগে বহু আন্দোলন হয়েছে, একটা হতাশা চলে এসেছিল। সরকারের পতন হবেই—এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করি, যখন আর্মিরা বলল যে তারা জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবে না। ১৭ জুলাই আমরা শিক্ষকেরা শাহবাগ থানা থেকে দুজন ছাত্রকে ছাড়িয়ে আনি। এ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সমাবেশও হয়, ১৯ জুলাই শাহবাগে অভিভাবকদের সমাবেশ হয়। প্রতিদিনই কোনো না কোনো সমাবেশ বা মিছিলে থাকতাম। ২ আগস্টের দ্রোহযাত্রায় ছিল সর্বস্তরের মানুষ। এসব সমাবেশে এমন মানুষদের দেখতে পাই, যাঁরা আগে কখনো শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেননি। আর জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে এসে মনে হলো, অনেকের মধ্যেই এই বোধ সঞ্চালিত হয়েছে, যত মানুষ মারা যাক, যা কিছু হোক, রাজপথ ছেড়ে যাওয়া সম্ভব না।
- ট্যাগ:
- রাজনীতি
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান