জুলাইয়ের প্রাণ ছিল গান, তার ওপরেই আঘাত কেন?
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দেখলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়, এর সাংস্কৃতিক শক্তি। কোনো গণআন্দোলন শুধু স্লোগান, মিছিল কিংবা রাজনৈতিক দাবির ওপর ভর করেই চলে না। মানুষের আবেগ, স্বপ্ন এবং আত্মপরিচয়বোধও একে শক্তি জোগায়। জুলাই আন্দোলনও এর ব্যতিক্রম ছিল না। রাজপথে যেমন ছিল জ্বালাময়ী স্লোগান, তেমনি ছিল প্রতিবাদী গান। নতুন প্রজন্মের র্যাপ, পুরোনো গণসংগীত এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী গান, সব মিলিয়ে সংগীত হয়ে উঠেছিল আন্দোলনের প্রাণ।
জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে গান কোনো বিনোদনের মাধ্যম ছিল না। এটি ছিল সাহস, ক্ষোভ এবং শোক প্রকাশের ভাষা। যে কথাগুলো সরাসরি বলা কঠিন ছিল, সেগুলোই মানুষ গানের মাধ্যমে আরও শক্তভাবে বলেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে গানগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু গান ছিল স্লোগানের চেয়েও শক্তিশালী, কেননা সেগুলো মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতিকে সম্মিলিত আবেগের সুতোয় বেঁধে ফেলেছিল।
শহীদ মিনারে হাজারো মানুষের গণসমাবেশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে বাজছিল ‘সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি’। এটি শুধু একটি সমাবেশের ভিডিও ছিল না, এটি হয়ে ওঠে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও সাংস্কৃতিক জাগরণের এক অনন্য প্রতীক।