‘আমরা তিন বোন এতিম হয়ে গেলাম, এখন আর বাবা ডাকবো কাকে’
আমার মা গর্ভবতী। মা বলেছে আমার আরও একটা বোন হবে। আমার বাবা তো বিদেশে গিয়ে আমাদের এতিম করে দিলো। আমরা তিন বোন এতিম হয়ে গেলাম, এখন আর বাবা ডাকবো কাকে! দুই মাস আগে বাবা যাওয়ার সময় বলেছিল, বিদেশে গিয়ে আমাদের ভাগ্য বদলাবে, কিন্তু আমরা তো এখন এতিম। এভাবেই কান্না জড়িত কণ্ঠে তিন বোন একসঙ্গে বসে, নিহত প্রবাসী বাবার ছবি নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসী মুন্সিগঞ্জের রাজিক বেপারীর বড় মেয়ে রামিসা।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র আড়াই মাস আগে জীবিকার তাগিদে সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজিক বেপারীর।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিহত প্রবাসী রাজিক বেপারীর নিশ্চিত মৃত্যুর খবরে মুন্সিগঞ্জের দক্ষিণ কালিন্দিপাড়া এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার পরিবেশ।
নিহতের পরিবারের স্বজনরা জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় একটি সুপার শপ ও ইলেকট্রনিক্স দোকানে সোমবার দিবাগত রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আগুন লাগার সময় দোকানের ভেতরে থাকা আবাসিক কক্ষে সাতজন ঘুমিয়ে ছিলেন, এরমধ্যে রাজিক বেপারী সহ ছয়জন বাংলাদেশি আগুনে পুড়ে মারা যান। তবে এ ঘটনায় আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন একজন।
নিহত রাজিক বেপারী (৫২) মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার দক্ষিণ কালিন্দিপাড়া এলাকার মৃত সালাম বেপারীর ছেলে।
এদিকে, দ্রুত মরদেহটি সরকারি সহযোগিতায় দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।