বড় হয়েও মায়ের ওপর অতিনির্ভরশীল? ‘মাদার কমপ্লেক্স’ সম্পর্কে জানুন
শৈশব থেকে সন্তানকে আগলে রাখেন একজন মা। তিনি চাইতেই পারেন, সব সময় যেন তাঁর সন্তান সেরা জিনিসটা পায়। সেভাবেই বড় করে তোলেন তাকে। নানান দিকনির্দেশনাও দেন।
এভাবেই তাঁর উপস্থিতির একটা ছাপ পড়ে সন্তানের জীবনে। এমনকি মায়ের অনুপস্থিতিতেও সেই ছাপ থেকে যায় তাঁর মধ্যে। মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের স্মৃতি জমা হতে থাকে মস্তিষ্কে।
মাকে নিয়ে আবেগ, অভিজ্ঞতা, স্মৃতি, প্রত্যাশা, ভয়—এসবের একটা ছাপ পড়ে শিশুর অবচেতন মনে। সহজভাবে বলতে গেলে এই বিষয়টাই ‘মাদার কমপ্লেক্স’। মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের ধরনও প্রভাব রাখে এতে।
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও রয়ে যায় এই ‘মাদার কমপ্লেক্স’। এটি কিন্তু কোনো মানসিক সমস্যা বা রোগ নয়; বরং এটি একটি মনোবিশ্লেষণমূলক ধারণা (সাইকোঅ্যানালিটিক্যাল কনসেপ্ট)।
যেসব শিশু মা ছাড়া অন্য কারও তত্ত্বাবধানে বড় হয়, তাদের বেলায় ওই মানুষটাকে নিয়েই তৈরি হয় ‘মাদার কমপ্লেক্স’।
যেমন হয় ‘মাদার কমপ্লেক্স’
‘মাদার কমপ্লেক্স’-এর দুটি মেরু থাকে। একটি মেরু ইতিবাচক অনুভূতি দেয়। অন্যটি দেয় কিছুটা নেতিবাচক অনুভূতি।
বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলা যাক। একটি শিশু যখন আঘাত পায়, তখন মা তার আশ্রয়। কিংবা মাতৃস্থানীয় কেউ। কিন্তু এই আঘাত যদি সে পায় তারই অবাধ্য হতে গিয়ে, তাহলে সেই আশ্রয়টুকু পেতেও একটা ভয় কাজ করে মনে।
মনে হয়, মা হয়তো বকবেন। কিংবা কঠিন মার মারবেন। ভয় পাওয়া অবুঝ সন্তান এটা বোঝে না যে তাকে শাসন করাও মায়ের দায়িত্ব। মায়ের ওই রূপটাও মনে গেঁথে যায়।
সন্তানকে ভালো–মন্দ চেনানোর দায়িত্ব মায়ের। হাজার জিনিসের ভিড়ে সেরা জিনিসটাই তার জন্য বাছাই করে দিতে চান তিনি। একটা বয়স পর্যন্ত এটা ঠিক। তবে বাড়াবাড়ি করলে মুশকিলও আছে।
- ট্যাগ:
- লাইফ
- সন্তানের সাথে সম্পর্ক