সমর্থক ও খেলার সৌন্দর্য
ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম বাঁশি বাজার অনেক আগেই পৃথিবীর অসংখ্য শহর যেন দুই রঙে ভাগ হয়ে যায়। একই মহল্লার একই ভবনের ছাদে উড়তে থাকে দুই দেশের পতাকা। একই পরিবারের রাতের খাবারের টেবিলেও শুরু হয় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তর্ক। বাংলাদেশের অলিগলি থেকে শুরু করে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া কিংবা চীনের বহু এলাকায় এই দৃশ্য যেন বিশ্বকাপেরই আরেকটি পরিচিত ছবি। মজার বিষয়, এসব দেশের জাতীয় দল কখনোই বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে খেলেনি। তবু ঘর, পোশাক, অফিস কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই প্রিয় দলের রঙের ছাপ। ফুটবল সেখানে শুধু একটি খেলা নয়; এটি পরিচয়, স্মৃতি, আবেগ, এমনকি নিজের একটি অংশ।
সমর্থকের এই আবেগ অকৃত্রিম। একটি দলকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসার মধ্যেই গ্যালারির প্রাণ। কিন্তু এই আবেগের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক গভীর বৈপরীত্য। আমরা নিজের দলের পক্ষে আপসহীন থাকতে পারি, প্রতিপক্ষের সমর্থকের সঙ্গে উত্তপ্ত তর্কে জড়াতে পারি, এমনকি নিজের দলের ভুলও সহজে ক্ষমা করে দিই। অথচ রেফারির সামান্য পক্ষপাত কিংবা ধারাভাষ্যকারের একটি মাত্র একচোখা মন্তব্যও আমাদের কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে।
এর উত্তর খুঁজতে হলে সমর্থক, রেফারি ও ধারাভাষ্যকারের ভূমিকাকে আলাদা করে দেখতে হবে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- ফুটবল
- ফুটবল ম্যাচ