রিকনসিলিয়েশনের পথ কি রুদ্ধই থাকবে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলার জন্য ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ (সত্য ও পুনর্মিলন) কমিশন গঠন করার প্রয়োজনীয়তার আলোচনা ওঠার পরপরই তা ধামাচাপা পড়ে যায়। যদিও যিনি কথাটি প্রথম পেড়েছিলেন, তাঁকে ওই সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন হিসেবেই গণ্য করা হয় এখনো। প্রভাবের কথাটা তোলার কারণ হলো, সে সময়কার অনেক উপদেষ্টাই এখন তাঁদের সরকারের নেওয়া কোনো কোনো অতিগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপেরও দায় নিতে রাজি হচ্ছেন না।
তাঁরা বরং এসবের দায় চাপাতে চাইছেন এক অদৃশ্য ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর ওপর। মুহাম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটি কিচেন ক্যাবিনেট থাকার বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আনেন সেই উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি বলেছিলেন, ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন ক্যাবিনেট ছিল।
ওই ক্যাবিনেটের সদস্য তিনি ছিলেন না। সেখানে কী আলোচনা হতো, তাঁদের জানানো হতো না। সদস্যরা ছিলেন ইউনূসের নিকটজন। পরে মে মাসে আরেক সাবেক উপদেষ্টার মন্তব্যে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার সময় সাত সদস্যের একটি অনানুষ্ঠানিক কিচেন ক্যাবিনেট সক্রিয় ছিল। তাঁরা সরকারের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন এবং প্রতি মঙ্গলবার যমুনা স্টেট গেস্টহাউসে তাঁদের বৈঠক হতো।