প্রথম বাজেটে গণিতের চেয়ে নিশানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ

প্রথম আলো বিরূপাক্ষ পাল প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৬

বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে সবচেয়ে বড় ক্ষত রাজস্ব দুর্বলতা। এ নিয়ে বিশ্লেষকদের রাতে ঘুম নেই। গণিত আর মিলছে না। কিন্তু একটি নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তার নিশানাগুলো জনতাকে বুঝিয়ে দেওয়া। সে বিচারে বাজেট খুব একটা বেপরোয়া নয়।


একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রথম শর্ত হলো প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বে জ্ঞান ও সুনামভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা। সে ক্ষেত্রে বিএনপি অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদেই সুবিচার করতে পারেনি। কিন্তু শিক্ষায় সর্বোচ্চ মনোযোগ নিবিষ্ট করে তাদের প্রতিশ্রুতির একটি বড় নিশানা ঠিক রেখেছে। স্বাস্থ্য খাতও ভালো বরাদ্দ পেয়েছে, যার গুরুত্ব জ্ঞানী–গুণীর দেড়-বাৎসরিক সরকার বুঝতে পারেনি।


নতুন বাজেটে রাজস্ব দুর্বলতা যে খুবই প্রকট, তা বলা যায় না। কারণ, ২০২৭ অর্থবছরের মোট বাজেটের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে। এটি মোট ব্যয়ের ৭৪ শতাংশ। চলমান ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের রাজস্ব আয় হতে পারে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ।


এর আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বাজেটের রাজস্ব আয় ছিল মোট ব্যয়ের ৬৯ শতাংশ। এটি কম হওয়ার কারণ অদক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের নানামুখী মনোযোগ, জনজীবনের নিরাপত্তাহীনতা ও বিনিয়োগের অধঃপতন। তবে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের বিচারে এই বাজেট খুব একটা লাইনচ্যুত হয়নি। এটি আগের বাজেটের রেলগাড়িতে কয়েকটি নতুন বগি যুক্ত করেছে। সে অর্থে এটি আমলাদেরই আগের স্প্রেডশিটের ওপর কিছু সাহসী কাজ। আনুপাতিক বিন্যাস একই রয়েছে। তবে বাজেটের প্রস্তুতকর্মে ঝুঁকি বা চাপ ছিল মূলত তিনটি।


প্রথম ঝুঁকি ছিল বন্ধ কলকারখানা কীভাবে চালু করা হবে, তার বরাদ্দ-ভাবনায়। যেহেতু অধ্যাপক ইউনূসের মব-যুগীয় নৈরাজ্যে এগুলো ঘটেছে, সেহেতু এগুলোর দায় সরকারের ঘাড়েই বর্তায়। কৌশলে সেটি ঠেলে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘাড়ে।


দ্বিতীয় ঝুঁকি ছিল ইউনূস সরকারের আমলে উসকে দেওয়া পে স্কেলের ‘অকাল’ আগুন। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাথমিক কার্যতালিকার মধ্যে ছিল না। নিশ্চিত বিদায় অনুমান করেই তাঁরা এই সুরের আগুন লাগিয়ে গেলেন। বেতন বৃদ্ধি সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা বটে। কিন্তু সেটি একটি নির্বাচিত সরকারের হাতেই সম্পন্ন হওয়া উচিত। কারণ, এখানে গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আদায়ের সিদ্ধান্ত থাকে। ঔচিত্যের সব কাজ একটি উন্নত দেশও একসঙ্গে করতে পারে না। তাকে অগ্রাধিকারের তালিকা তৈরি করতে হয়। তাই বিএনপি সরকার ধাপে ধাপে পে স্কেলের বাস্তবায়ন চাইছে।


তৃতীয় চাপ হচ্ছে ইউনূস আমলের ব্যাপক অনাদায়ি রাজস্ব। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই তা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। ওই সরকার দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নকর্ম সাধন না করলেও পরিচালন ব্যয়ে কোনো সাশ্রয় আনতে পারেনি। এই অদক্ষতা আর অপচয়ের খেসারত দিয়ে বাজেটকে প্রচলিত ধারায় টেনে তোলার কঠিন কাজটি করেছে এই সরকার। সে অর্থে অর্থমন্ত্রী জনাব চৌধুরী অবশ্যই ধন্যবাদ পেতে পারেন। কিন্তু বাজেটের একেবারে প্রথম অধ্যায়ে অতীতের দোষারোপ, ধ্বংসস্তূপের দাবি ও প্রতিটি খাত নিয়ে হতাশার বিলাপ তার প্রাপ্য ধন্যবাদকেও অনেকটা খেলাপি বানিয়ে ফেলেছে।


পৃথিবীর আদর্শ বাজেট বক্তৃতার প্রথম অধ্যায়ে থাকে নিশানার কথা, রাজনৈতিক দর্শনের বার্তা ও অর্থনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, সেই ধ্রুবতারার সন্ধান। থাকে আশাবাদী সুর। অর্থমন্ত্রী প্রথম অধ্যায়ের অষ্টম ধারায় বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক ইঞ্জিন বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ক্রমেই দুর্বল হতে হতে একেবারে ধ্বংস হয়েছে।’ এটির ইংরেজি অনুবাদ বিদেশিদের কাছে এক ভয়াবহ বার্তা দেবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই জিডিপির আধা শতাংশ থেকে আরও নেমে গেলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।


এই বাক্য দিয়ে যদি রিয়েলটি শোর ধাঁধা বানানো যায়, তাহলে এর উত্তরে যে দেশগুলোর নাম আসবে, এরা হলো হাইতি, সুদান, ইয়েমেন, কঙ্গো কিংবা আফগানিস্তান। ঘুণাক্ষরেও কেউ বাংলাদেশের নাম অনুমান করবেন না। বরং গত দেড় দশকে কোন কোন দেশ জিডিপির ভালো প্রবৃদ্ধি (সাধারণত গড়ে ৫ শতাংশের ওপর) অর্জন করেছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে চীন, ভারত, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের নাম আসবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও