থামছে না লাশের মিছিল: ধর্ষণ ও হত্যা রুখতে আসল দাওয়াই কী?

বিডি নিউজ ২৪ শিপ্রা বিশ্বাস প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬, ১৩:০২

দিনাজপুরের ইয়াসমিনের কথা মনে আছে কারো? ১৪ বছর বয়সী কিশোরী ইয়াসমিন আক্তার ঢাকায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। ১৯৯৫ সালের ২৪ অগাস্ট মায়ের কাছে ফিরতে সে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী একটি নৈশকোচে করে দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে এসে নামে।


ভোররাতে একাকী এক কিশোরীকে দেখে সেখানে দায়িত্বে রত টহল পুলিশের একটি দল তাকে মায়ের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের পিকআপ ভ্যানে তুলে নেয়। অতঃপর একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর তার রক্তাক্ত নিথর দেহ মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। এর প্রতিবাদে গড়ে ওঠা গণ-আন্দোলন দেশের বিচারব্যবস্থা এবং নারী অধিকার আন্দোলনে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এই পোড়া সমাজ কোনো অর্জনই যেন ধরে রাখতে পারে না। প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।


সোহাগী জাহান তনু—সুন্দর, আত্মনির্ভরশীল মেয়েটি যে নিজের শিক্ষার খরচ মেটাতে টিউশনি করত, ফেরার পথে লাশ হয়ে পড়ে রইল পথের পাশে। ইয়াসমিন, তনু, নুসরাত, আসিয়া, টুম্পা, পূজা, নিশাত, রামিসা—থামছে না নামের মিছিল। এগুলো শুধু নাম নয়, এগুলোও এক একটি জীবন, এক একটি স্বপ্ন, এক একটি পরিবারের অনিরাময়যোগ্য দহন; সমাজের ভয়াবহতম ক্ষত। প্রতিদিন এই তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। প্রতিটি নাম আমাদের সমাজের বিবেকের ওপর আরেকটি আঘাত।


বাংলাদেশে ধর্ষণ আজ যেন আর বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়—এটি একটি সামাজিক মহামারীতে পরিণত হয়েছে, যার তীব্রতা প্রতিদিন বাড়ছে।


পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশেরও বেশি। ২০২৫ সালে দায়ের হওয়া মামলার মধ্যে ৭ হাজার ৬৮টি ধর্ষণের অভিযোগ-সংক্রান্ত। ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ৫ হাজার ১৭১ জন এবং শিশু ১ হাজার ৮৯৭ জন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ‘২০২৪ সমীক্ষা’ প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ২০২৩ সালে ২ হাজার ৯৩৭টি, ২০২৪ সালে ২ হাজার ৫২৫টি এবং ২০২৫ সালের মাত্র ৬ মাসে ১ হাজার ৫৫৫টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ, বছরের অর্ধেক সময়েই প্রায় পুরো বছরের সমান ঘটনা ঘটে গেছে।


আর সবচেয়ে ভয়াবহ সত্যটি হলো—এই সংখ্যা আসলে বাস্তবের ছায়ামাত্র। আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, প্রতি ১০০টি ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে প্রায় ৩০টিই রিপোর্ট হয় না। সামাজিক কলঙ্কের ভয়, পুলিশের প্রতি অবিশ্বাস এবং বিচার না পাওয়ার হতাশা—এই তিনটি কারণে অসংখ্য ভুক্তভোগী নীরবে কষ্ট বহন করেন।


বিচারহীনতা—অপরাধীর সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক। আইন আছে, কিন্তু আইনের প্রয়োগ কোথায়?


এই দেশে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সর্বশেষ কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখা গেছে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর। এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে দণ্ডিত রাকিবরের ফাঁসি কার্যকর হয়। ফাঁসির আগে আসামি প্রায় ২৫ বছর কারাগারে ছিল। এই একটা বিচার হতে ২৫ বছর লেগেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে এই ২৫ বছরে মোটামুটি ২৫ হাজার ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার জনকে। এর বিপরীতে ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের ভেতর ১১ বছরে ধর্ষণ-খুনের মামলার ৫টি ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। প্রতিটা মামলা বিশ-ত্রিশ বছরের পুরোনো।


২০২০ সালে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের চাপেই সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে অধ্যাদেশ (Women and Children Repression Prevention (Amendment) Ordinance, 2020) জারি করে। কিন্তু সেই আইনের কার্যকর প্রয়োগ এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। মামলা হয়, তদন্ত হয়, মাঝে মাঝে রায়ও হয়—কিন্তু দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও