ঈদের আগেই যেসব কাজ গোছানো জরুরি
কোরবানির ঈদের আগের রাতে কেউ মসলা কিনতে বের হচ্ছেন, কেউ জিপলক ব্যাগ খুঁজছেন, কেউ বড় হাঁড়ির সন্ধানে দোকানে দোকানে ঘুরছেন।
বাজারে ঠেলাঠেলি, যানজটে আটকে আছেন, আর মনের ভেতরে একটাই চিন্তা, ‘কেন আগে করিনি?’
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক আঞ্চলিক প্রধান ফকির আকতারুল আলম এই বিষয়ে বলেন, “কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে রান্নার উপকরণ, সংরক্ষণের ব্যবস্থা, সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খান। বিশেষ করে ঈদের আগের দুতিন দিনে বাজারে জিনিসের দামও বেড়ে যায়।”
তাহলে কোন কাজগুলো আগেই সেরে ফেলবেন?
মসলার বাজার আগেই করা
কোরমা, কালাভুনা, রেজালা, কাবাব, প্রতিটি পদেই আলাদা মসলার প্রয়োজন। তবে ঈদের আগের দিন মসলার দোকানে গেলে ভিড়ের মধ্যে পছন্দমতো জিনিস পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে, আর দামও হতে পারে বেশি।
তাই সময় থাকতে মসলাসহ অন্যান্য উপাদান, যেমন ঘি, সরিষার তেল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা কিনে রাখলে সুবিধা হয়। সঙ্গে শুকনো মসলা আগে কিনলে দাম কম থাকে এবং পরে আর এই নিয়ে ভাবতে হয় না।
মাংস সংরক্ষণের উপকরণ
কোরবানির পরের সবচেয়ে বড় কাজটা হল, মাংস ভাগ করে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা। আর এজন্য চাই জিপলক ব্যাগ আর পলিথিন।
তাই আগে থেকেই কিনে রাখা উচিত ফুড গ্রেড পলিব্যাগ, জিপলক ব্যাগ, প্লাস্টিক বা স্টিলের কনটেইনার এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল।
“মার্কার বা লেবেল স্টিকার রাখলে কোন প্যাকেটে কী আছে সেটা লিখে রাখা যায়। পরে ফ্রিজ থেকে বের করতে সুবিধা হবে”, বলেন আকতারুল আলম।
মাংস ছোট ছোটা ভাগে প্যাকেট করলে প্রতিবার পুরো প্যাকেট না খুলে দরকার মতো বের করা যায়। একবার গলানোর পর আবার জমানো ঠিক নয়, তাই ছোট ছোট ভাগে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি পরখ করা
কোরবানির দিন সকালে ছুরি ভোঁতা আবিষ্কার করা বা না পাওয়া — এই অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। সেদিন দোকান খোলা থাকে না, আর খোলা থাকলেও ভিড়ে ঢোকা যায় না।
তাই এখনই দেখে নিতে পারেন ছুরি ধারালো আছে কি-না, কাটিং বোর্ড ঠিকঠাক কি না।
বড় হাঁড়ি বা ডেকচি দরকার হলে আগেই কিনে রাখা ভালো। ডিসপোজেবল গ্লাভস, টিস্যু ও পরিষ্কার কাপড় রাখা উচিত হাতের কাছে।
- ট্যাগ:
- লাইফ
- প্রস্তুতি
- কোরবানির ঈদ